ফাইনালের জন্য সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন শান্ত-সৌম্যরা : হাবিবুল

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

কেউ কেউ বলছেন-আরে, এটা তো আর জাতীয় দল না। অনূর্ধ্ব-২৩ দল। নাম ইমার্জিং একাদশ। তাই জাতীয় দলের রেকর্ড, পরিসংখ্যান আর ইতিহাসের আলোকে ব্যাখ্যা করার যৌক্তিকতা নেই।

তারপরও এসএ গেমস ক্রিকেটে যে দলটি খেলেছে, তা ইমার্জিং একাদশের মোড়কে আসলে বাংলাদেশ দল নামেই খেলেছে। তাই বলাই যায়- নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার ও হাসান মাহমুদরা এবার ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন।

এতকাল জানা ছিল, ক্রিকেটে ফাইনালে গিয়ে কেমন যেন হয়ে যান টাইগাররা। একবার নয়। বহুবার আছে এই রেকর্ড। গ্রুপ ম্যাচ জিতে ফাইনালে মানে শিরোপা নির্ধারণী খেলায় গিয়ে হেরে বসারও নজির আছে।

তবে এবার সে ইতিহাস বদল। আগের দিন গ্রুপ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৯ উইকেটে হারের পর আজ (সোমবার) ফাইনালে সেই লঙ্কানদেরই ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে স্বর্ণ জিতে নেয়া।

কাল রোববার ঐ পরাজয়ের পর ভক্ত ও সমর্থকরা উদ্বিগ্ন হলেও টিম ম্যানেজমেন্ট নাকি মোটেই চিন্তিত হয়নি। আজ স্বর্ণ বিজয়ের পর জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোন আলাপে ম্যানেজার হাবিবুল বাশারের কথায় তাই জানা হলো। বাশার জানালেন, আমরা ফাইনালের জন্য সব জমিয়ে রেখেছিলাম। ফাইনালে যাতে ছেলেরা নিজেদের সেরাটা খেলতে পারে, লঙ্কানদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে, সে চিন্তাই ছিল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, মালদ্বীপের সাথে (১৭৪/৪, কোন ফিফটি নেই)। শান্ত ৪৯ (৩৮ বলে), সৌম্য (৩৩ বলে ৪৬ ) আর নাইম শেখের (২৮ বলে ৩৮) ব্যাটে ভর করে ১০৯ রানে জয় দিয়ে শুরু।

ভুটানের সাথে দ্বিতীয় খেলায় ১০ উইকেটে জয় (৬৯ রানের জবাবে ৬ ওভারেই বিনা উইকেটে ৭৪, সৌম্য ২৮ বলে ৫০*) আর নেপালের সাথে ১৫৫/৬ রান করে ৪৪ রানের জয়েই ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

তাই শ্রীলঙ্কার সাথে গ্রুপের শেষ ম্যাচটির কোন গুরুত্ব ছিল না। সেটা ছিল নিয়ম রক্ষার ম্যাচ। সে ম্যাচে আসলেও বাংলাদেশ মোটেই সিরিয়াস ছিল না। পুরো শক্তির দলও খেলায়নি।

ফাইনালের আগের দিন সেই খেলায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর ব্যাটিং স্তম্ভ সৌম্য সরকার এবং পেসার হাসান মাহমুদকে বিশ্রামে রেখে একাদশ সাজানো হয়। দুই মূল ব্যাটসম্যান শান্ত-সৌম্য আর এক নম্বর স্ট্রাইকবোলার হাসান মাহমুদ ছাড়া লঙ্কানদের সাথে ঐ ম্যাচে ৯ উইকেটে হেরে বসার পর পুরো শক্তির দল নিয়ে আজ সোমবার ফাইনালে মাঠে নেমে ঠিক সত্যিই দূর্বার বাংলাদেশ দল।

ম্যানেজার হাবিবুল বাশার মনে করেন, তাদের স্ট্র্যাটেজি ও পরিকল্পনা এবং ফাইনালের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখা কাজ দিয়েছে পুরোপুরি। তাই তার কথা, ‘আমরা সবাই রোববারের ম্যাচে ছিলাম রিল্যাক্সড। আসলে সবাই নিজেদের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিল ফাইনালের জন্য। আমরা তৈরি ছিলাম ফাইনালে হার্ডে যাব। ঠিক তাই করেছে। আজ আমরা লঙ্কানদের উড়িয়ে দিয়েছি।’

ফাইনালে সাফল্যর পেছনে বোলারদের বিশেষ করে দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও সুমন খানকে কৃতিত্ব দিতে চান ম্যানেজার বাশার। তার মূল্যায়ন, ‘ফাইনালে বোলিং ভাল ছিল। হাসান মাহমুদ দারুণ বল করেছে। প্রচন্ড গতির সাথে ম্যুভ করিয়েছে। সে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করে লঙ্কানদের কাছ থেকে সর্বাধিক সমীহও আদায় করে নিয়েছে। সাথে ফিল্ডিং ব্যাকআপ ছিল দুর্দান্ত। সবচেয়ে বড় কথা সবাই একটা লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলাম, যে করেই হোক জিততে হবে। আমরা স্বর্ন জিতেই দেশে ফিরবো।’

বাশার যোগ করেন, ‘আমরা সত্যিই লঙ্কানদের উড়িয়ে দিয়েছি। হাসান মাহমুদ, সুমন খান দারুণ বোলিং করেছে। এছাড়া টিমের মানসিকতা ছিল দারুণ পজিটিভ। সবাই মুখিয়ে ছিল জিততে। দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ছিল সামর্থ্যর সেরাটা উপহার দিতে।’

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ