অধিনায়কত্বের চাপ নয়, মা’র অপারেশনের চিন্তাই ভাবাচ্ছে মোসাদ্দেককে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৩৫ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

তার সমসাময়িক ও কাছাকাছি বয়সের সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, নুরুল হাসান সোহানের কেউই অধিনায়ক নন; কিন্তু মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ঠিকই দল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। এবার সিলেট থান্ডার্সের ক্যাপ্টেন মোসাদ্দেক। এর আগের আসরগুলোয় বিচ্ছিন্নভাবে দল পরিচালনা করলেও বিপিএলে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়কত্ব এবারই প্রথম।

২৪ ঘন্টা পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের নেতৃত্বেই বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট থান্ডার্স মাঠে নামবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে। সাকিব ছাড়া ‘পঞ্চ পান্ডবে’র তিন সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহীম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই এবারের অধিনায়ক।

ওই তিন-তিনজন পরিণত, অভিজ্ঞ আর প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার ও অভিজ্ঞ যোদ্ধার সাথে তিনিই অধিনায়ক। খুব স্বাভাবিকভাবেই খানিক রোমাঞ্চিত মোসাদ্দেক। শুধু ক্যাপ্টেন্সিই নয়। নিজের ব্যাটিংও ভাবছেন মোসাদ্দেককে। এ ভাবনার মাঝে বাঁধা নয়, তবে কর্তব্যবোধ আর মায়ের অসুস্থতার কারণে খানিক আনমনা মোসাদ্দেক।

আগেই জানা, তার মায়ের কিডনিতে পাথর হয়েছে। যে কারণে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ না খেলে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। সর্বশেষ খবর, চলতি মাসেই তার মায়ের কিডনির পাথর অপসারণের লক্ষ্যে অস্ত্রোপচার। সেটা হবে ভারতের চেন্নাইতে।

তাই বিপিএলে প্রথমবার দলের অধিনায়কত্বের মত গুরু দায়িত্ব কাঁধে পেয়েও মায়ের কথা ভাবতে হচ্ছে তাকে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপে মোসাদ্দেক জানালেন, ‘ভাই আমি প্রথমবার ক্যাপ্টেন্সি করতে যাচ্ছি। অবশ্যই একটা অন্যরকম ভাল লাগা কাজ করছে। আমি পুলকিত। মুখিয়ে আছি নিজেকে মেলে ধরতে। অধিনায়ক হিসেবেও। পাশাপাশি ব্যাটসম্যান হিসেবেও নিজেকে নতুন করে চেনাতে চাই। আমিও চার পাঁচ নম্বরে খেলতে পারি। সেই পজিসনে ভাল খেলার সামর্থ্যও আছে। তা দেখাতে চাই।’

সঙ্গে মায়ের কথাও ভাবতে হচ্ছে তাকে। সে কথাই জানালেন, ‘পাশাপাশি মা’র কথাও ভাবতে হচ্ছে। এ মাসের ২০ তারিখে ভারতের চেন্নাইতে মা’র অপারেশন। আমি চেষ্টা করবো একদিনের জন্য হলেও যেতে এবং আমাকে যেতেই হবে। যদি থাকতে হয়, তাহলে হয়ত এক ম্যাচ মিস হতে পারে। তা হলেও আমাকে যে মায়ের অপারেশনের সময় পাশে থাকতেই হবে!’

বিপিএলের অধিনায়কত্ব জাতীয় দলের অধিনায়কত্বে পৌঁছানোর প্রথম ধাপ কি না? এমন প্রশ্ন করা হলে মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমি আসলে এভাবে চিন্তা করিনি কখনো। এর আগে প্রিমিয়ার লিগেও অধিনায়কত্ব করেছি। তখনো দলের সবাই জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছিলেন। এবার বাকি ছয়টা দলের অধিনায়কের কাছ থেকে আমার অনেক কিছু শেখার আছে।’

নিজ দলের সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে মোসাদ্দেক বলে ওঠেন, ‘বিপিএল একটা বড় টুর্নামেন্ট। এখানে যারা খেলে সবাই অভিজ্ঞ, নিজের ভূমিকা সম্পর্কে জানে। সবাই সবার দায়িত্বটা বুঝে নিলে আমার জন্য কাজ সহজ হয়ে যাবে।’

বলার অপেক্ষা রাখে না দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ হার্সেল গিবসের অধীনে বিদেশি ও স্থানীয় খেলোয়াড় মিলে সিলেটের পুরো দল আজই প্রথম অনুশীলন করেছে।

সে অনুভুতিটাকে চমৎকার আখ্যা দিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা ভালো একটা দল। কাল ভালো একটা ম্যাচ খেলব ইনশাআল্লাহ। এখানে সব দলই ভালো। কারো বিদেশি খেলোয়াড় ভালো, কেউ আবার দেশি খেলোয়াড় ভালো নিয়েছে। আমি মনে করি সব দলই একই রকম। সব দলেই ভারসাম্য আছে।’

দলের নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি এবারের বিপিএলে চার থেকে পাঁচ নম্বর পজিসনে খেলার সুযোগ আছে। যা আগে অনেকবারই মেলেনি। সে সুযোগ কাজে লাগাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মোসাদ্দেক বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি চার-পাঁচেই ব্যাটিং করার চেষ্টা করি। জাতীয় দলে এমন সুযোগ মেলেনি। বিপিএলে ভালো করলে কোচ-নির্বাচকরা হয়ত জাতীয় দলে উপরে ব্যাটিং করানোর বিষয়ে চিন্তা করবেন। বিপিএলে কোথায় ব্যাট করব, এখনো জানি না। কোচ-ম্যানেজমেন্টের সাথে কথা হয়েছে, হয়ত চার বা পাঁচেই করব। এটা আমার জন্য বড় সুযোগ। আমি মনে করি নিজেকে এখানে দেখানোর সুযোগ আছে।’

এআরবি/আইএইচএস