সাংবাদিকদের কথার কারণেই ফর্ম হারিয়ে ফেলেন ইমরুল!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

ইনজুরিতে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারবেন না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার বদলে এ দুই ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়কত্ব করবেন ইমরুল কায়েস। বিপিএল শুরুর আগের দিন এমনটাই জানা গিয়েছিল চট্টগ্রাম টিম ম্যানেজম্যান্টের পক্ষ থেকে।

কিন্তু আজ (বুধবার) ম্যাচের টসের সময় দেখা গেল মাহমুদউল্লাহর বদলে ইমরুল নয়, টস করছেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার রায়াদ এমরিট। এমনটা হলো কেন? ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সে উত্তর দিলেন ইমরুল নিজেই।

তিনি বলেন, ‘এটা (অধিনায়ক ঠিক করা) আসলে পুরোটাই টিম ম্যানেজম্যান্টের ব্যাপার। তারা যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই করেছেন। হয়তো বিদেশি যে খেলছে(রায়াদ এমরিট), তাকে দিয়ে ভালো কিছু হবে ভেবেছে- তাই এমন সিদ্ধান্ত।’

অধিনায়ক না থাকলেও ম্যাচজয়ী ইনিংসটা ঠিকই খেলেছেন ইমরুল। চার নম্বরে নেমে ২ চার ও ৪ ছয়ের মারে ৩৮ বলে ৬১ রান করে দলকে পাইয়ে দিয়েছেন দারুণ এক জয়। অথচ সবশেষ ভারত সফরেও পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় দলের সঙ্গে বিপিএলের পার্থক্যের একটা বিষয় চলেই আসে।

প্রশ্ন ওঠে, আপনি বিপিএলে আগেও ভালো খেলেছেন। আজকেও চাপহীন একটা ইনিংস খেললেন। কিন্তু জাতীয় দলে আসলে আপনার কী হয়? ফর্মও যেনো থাকে না। এখানে পার্থক্যটা কই?- জবাবে সাংবাদিকদের বারবার বলাকেই যেন দায়ী করলেন ইমরুল।

হালকা স্বরে তিনি বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) এই বলার জন্যেই আমি ফর্ম থেকে হারিয়ে যাই। ফর্মে থাকতে থাকতেই আমি ফর্ম থেকে হারিয়ে যাই।’

সাধারণত ওপেনিং বা তিন নম্বরে খেললেও, আজ (বুধবার) ইমরুল সফল হয়েছেন চার নম্বরে নেমে। চ্যাডউইক ওয়ালটনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৮৬ রান যোগ করে নিশ্চিত করেছেন দলের জয়। তবে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, বিপিএলে যেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের পজিশনেই খেলেন।

এ বিষয়ে ইমরুল বলেন, ‘এখন আর ব্যাটিং পজিশন নিয়ে চিন্তা করি না। চেষ্টা থাকে ম্যাচ বাই ম্যাচ ধরে এগুনোর। দলের জন্য যেমন দরকার তেমনই করতে চাই। এখন যেমন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খেলছি। এখন মনে করি এখানেই ফোকাস করাটা ভালো। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনেক দূর। এখনই সে ব্যাপারে ভেবে লাভ নেই।’

‘আমি আমার ক্রিকেট জীবন নিয়ে কখনোই হতাশ নই। এখন অনেক ভালো আছি ক্রিকেটার হিসেবে। জাতীয় দলে যখনই সুযোগ পাই ভালো খেলার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার ক্যারিয়ারটা আরও ভালো হতে পারতো, বাট হয় নাই। এখন এটা নিয়ে আফসোস করে লাভ নাই। সামনের দিকে যে কয় বছর খেলবো, ইচ্ছা আছে ভালো ক্রিকেট খেলার’-যোগ করেন ইমরুল।

এ সময় জাতীয় দলের সঙ্গে বিপিএল বা এসব ঘরোয়া ক্রিকেটের পার্থক্য তুলে ধরতে গিয়ে ইমরুল বলেন, ‘জাতীয় দলে আসলে দেখা যায় আমরা একটা সিরিজে একটা বা দুইটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলি। টেস্ট খেলার পর বা ওয়ানডে খেলার পরই টি-টোয়েন্টিতে নেমে যেতে হয়। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, একটা-দুইটা ম্যাচ খেলার পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছি। জাতীয় দলে আসলে একটা ম্যাচে রান করতে না পারলে, পরের ম্যাচগুলোর জন্য একটা চাপ চলে আসে। এখানে আমি জানি যে, ভালো-খারাপ যাই করি সব ম্যাচই খেলবো। এই স্বাধীনতাটা খুব জরুরি। এটা যখন নিজের মধ্যে থাকে। তখন খেলাটাও আরও ভালো হয়।’

ভারত সফরের টেস্ট সিরিজে মুশফিকুর রহীম ব্যতীত সবাই খারাপ করেছেন। ব্যতিক্রম ছিলেন না ইমরুলও। চার ইনিংসে করেছেন সবমিলিয়ে ২১ রান, সর্বোচ্চ মাত্র ৬। তাই সমালোচনার তীরটাও তার দিকে এসেছে একটু বেশি। এসবকে এখন ভাগ্য হিসেবেই মেনে নিয়েছেন কি ইমরুল?

উত্তরে বাঁহাতি এই ওপেনার বলেন, ‘সমালোচনা তো হবেই। মানুষ জনপ্রিয় না হলে তো সমালোচনা হয় না। ভালো হোক খারাপ হোক, সমালোচনা হবেই। জিনিসটা হচ্ছে, ভারতে আমি ভালো করতে পারিনি, এটা আমার কাছেও অনেক খারাপ লাগছে। তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে মনে করি, টেস্টের জন্য আমাদের প্রস্তুতিটা আরও ভালো দরকার। বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে নামার জন্য ব্যাটসম্যান, বোলারদের সেভাবে প্রস্তুতিরও প্রয়োজন আছে।’

এসএএস/এমএমআর/এমকেএইচ