অবশেষে হাসল তামিমের ব্যাট

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

‘তামিমকে নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। কারণ সে বারবার প্রমাণ করেছে, দেখিয়ে দিয়েছে নিজের জাত-মান। কাজেই আমি মোটেও ভাবি না। সে গত বিপিএলেও অন অ্যান্ড অফ রান করে ফাইনালে গিয়ে খেলেছে এক অতিমানবীয় ইনিংস। শেষ পর্যন্ত বিপিএলের গত আসরের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ঠিক জ্বলে উঠে কি দুর্দান্ত ব্যাটিংটাই না করেছিল তামিম। তার ব্যাট থেকেই বেরিয়ে এসেছিল ট্রফি জেতানো ইনিংস (৬১ বলে ১৪১ নট আউট ১০ চার ১১ ছক্কা )।’

গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে রাজশাহীর কাছে ৯ উইকেটে চরমভাবে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে এসে তামিম ইকবাল সম্পর্কে এমন মন্তব্যই করেছিলেন তামিমের অগ্রজপ্রতিম ক্রিকেটার জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং এবারের বিপিএলে তামিমের দল ঢাকা প্লাটুনের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বোঝাই গিয়েছিল তামিমের প্রতি তার আস্থা ও বিশ্বাস কত প্রবল।

২৪ ঘন্টা পুরো হয়নি। তার আগেই তামিম সে কথার প্রমাণ দিলেন। জানিয়ে দিলেন আমি আবার হারানো ছন্দে। মাঝে একটু খারাপ সময় কেটেছে। তবে আবার নিজেকে ফিরে পেয়েছি। শুক্রবার রাতে তামিমের ব্যাটের দ্যুতিতে উজ্জ্বল ক্রিকেটের সেই চিরন্তন সত্য, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পারমানেন্ট।’

আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তামিমের ব্যাট দ্যুতি ছড়ালো। জাতীয় দল এবং ঘরোয়া ক্রিকেট মিলে ৯ ম্যাচ পর আবার ফিফটি চট্টগ্রামের খান পরিবারের ছোট খান সাহেবের ব্যাটে। অথচ সেই বিশ্বকাপের সময় থেকে খারাপ সময় শুরু হয়েছে। ঠিক ২৪ ঘন্টা আগে এই শেরে বাংলায় রাজশাহীর বিপক্ষে ম্যাচেও ব্যাট কথা বলেনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬২ রানের ইনিংসটি ছাড়া এবার ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে হাসেনি তামিম ইকবালের ব্যাট। ঐ আসরে পরের তিন ম্যাচে আফগানিস্তান (৩৬), ভারত (২২) আর পাকিস্তানের ( ৮) সঙ্গেও রান পাননি দেশসেরা ওপেনার। তারপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাশরাফি আহত হয়ে পড়ায় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে তিন ওয়ানডে সিরিজে রীতিমত খারাপ খেলেছেন। তিন ম্যাচের দুটিতেই দুই অংকে পৌঁছাতে পারেননি। রান মোটে ২১ (০, ১৯ ও ২)।

সেটাই শেষ নয়। খারাপ সময় কাটেনি ঘরোয়া ক্রিকেটেও। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর জাতীয় লিগের এক ম্যাচ খেলে ভাল খেলার সম্ভাবনা জাগিয়েও (৩০ ও ৪৬) লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। বিপিএলের প্রথম ম্যাচে কাল (বৃহস্পতিবার) রাজশাহীর বিপক্ষে আবু জায়েদ রাহির বলে কভারে আফিফ হোসেন ধ্রুবর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ৫ রানে।

আজ যেন ধনুক ভাঙ্গা পণ করেই নেমেছিলেন, অনেক হয়েছে। এবার কিছু একটা করতেই হবে। শুরুতে তাই নিজেকে গুটিয়ে রেখে সতর্ক-সাবধানি সূচনা। অবশ্য সৌম্য সরকার ক্যাচ ফেলে না দিলে ডাবল ফিগারেও পৌঁছানো সম্ভব হতো না। ৫ রানে পেসার আল আমিন হোসেনের বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সৌম্য সরকার ছুটে গিয়েও বল তালুবন্দী করতে পারেননি।

এরপর ডাবল ফিগারে গেলেন ১৭ বলে। এক সময় স্ট্রাইক রেট ৫০'র নিচে। ১৬ বলে ৭ রান থাকা অবস্থায় প্রথম বাউন্ডারি হাকিয়ে দুই অংকে পৌঁছানো। তারপর হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করলেন ৪০ বলে, তিন বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায়। সৌম্য সরকারের স্লো মিডিয়াম আর বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম নয়নকে সোজা ব্যাটে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়া। তারপর আউট হবার আগ পর্যন্ত খেলেছেন নিজের মত।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে ছক্কা মেরে পৌঁছে গেলেন ৭০'র ঘরে। একই বোলারের অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বলকে অফসাইডে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরা তামিম যখন সাজঘরের পথে, তখন তার নামের পাশে ৭৪ (৫৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছয়) রানের এক ঝলমলে ইনিংস।

এআরবি/এসএএস/এমএমআর/এমকেএইচ