ব্যাট হাতে ঝড় তোলা থিসারার বল হাতে অনন্য রেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৮ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

 

ম্যাচটা হতে পারতো পুরোপুরি তামিম ইকবালময়। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রায় ছয় মাস ও ৯ ম্যাচ পর পেয়েছিলেন ফিফটির দেখা, খেলেছিলেন ৫৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছয়ের মারে ঝকঝকে এক ইনিংস। তার দল ঢাকা প্লাটুনের ২০ রানের জয়ে নায়ক হয়ে থাকতে পারতেন তিনিই।

কিন্তু তামিমের সঙ্গে থেকেই তামিমের কাছ থেকে সকল আলো কেড়ে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কান পেস বোলিং অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা। ব্যাটিংয়ের সময় নিজের মুখোমুখি প্রথম ছয় বলে হাঁকান ৫টি চার ও ১টি ছক্কা। ইনিংস শেষে অপরাজিত থাকার পথে ৭ চার ও ১ ছয়ের মারে মাত্র ১৭ বলে করেছেন ৪২ রান। তামিম ও পেরেরার এ দুই ইনিংসেই ঢাকা পায় এখনও পর্যন্ত আসরের দলীয় সর্বোচ্চ ১৮০ রানের সংগ্রহ।

তবে পেরেরার এই ব্যাটিং ইনিংসেই যে সব আলো চলে গেছে তার কাছে, এমনটা মোটেও নয়। তিনি মূল কাজটা করেছেন বল হাতে। ঢাকা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার তুরুপের তাস হয়ে ১২তম ওভারে সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে আসেন পেরেরা। তখন কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৯৭ রান। জয়ের জন্য ৫৪ বলে করতে হতো আরও ৮৪ রান।

কুমিল্লার এ মিশনে বাধা হয়ে দাঁড়ান পেরেরা। দুই স্পেলে করেন ৪ ওভার, একাই সাজঘরে পাঠান পাঁচ ব্যাটসম্যানকে। নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মারকুটে সাব্বির রহমান এবং কুমিল্লার আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন থিসারা। জাগান হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। তবে তা পূরণ করতে পারেননি।

নিজের পরের দুই ওভারে ১৫ রান (৪ ও ১১) খরচ করে ফেলেন তিনি। এমনকি ইনিংসের ১৯তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে এসেও প্রথম দুই বলে ১০ রান বিলিয়ে দেন থিসারা। তবে ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। নিজ স্পেলের শেষ ৪ বলে তিনি আউট করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, আবু হায়দার রনি এবং সানজামুল ইসলাম নয়নকে। শেষের দুই উইকেট আবার নিয়েছেন পরপর দুই বলে।

প্রথম ওভারে ২ ও শেষ ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে চার ওভারের স্পেলে ফাইফার পূরণ করেন থিসারা। বিপিএলে এর আগেও তিনি নিয়েছেন ফাইফার। ২০১৫ সালের আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে ২৬ রান খরচায় নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। এবার তিনি খরচ করেন ৩০ রান।

একইসঙ্গে গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। বিপিএলের ইতিহাসে একবারের বেশি ম্যাচে ৫ উইকেট নিতে পারেননি আর কোনো বোলার। প্রথম বোলার হিসেবে দুইবার ফাইফার নিলেন থিসারা।

এছাড়া একবার করে ফাইফার নিয়েছেন ১১ জন বোলার। তারা হলেন মোহাম্মদ সামি, কেভন কুপার, সাকিব আল হাসান, হাসান আলি, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শফিউল ইসলাম, আবুল হাসান রাজু, তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেন ও আলআমিন হোসেন।

এসএএস/এমবিআর