কেউ যদি যেতে না চায়, তাহলে পাকিস্তান যাবে না : পাপন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রশ্নই আসে না। সফরও নিশ্চিত হয়নি। তবে হাবভাবে বোঝা যাচ্ছে, পাকিস্তান যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অন্তত বিসিবি নীতিগতভাবে পাকিস্তান সফরে দল পাঠানোর কথাই ভাবছে।

কোনোরকম গুজব নয়। বোর্ডের অভ্যন্তর বা শেরে বাংলার আশপাশের গুঞ্জনও না। খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কথায় মিললো এ ইঙ্গিত।

আগে ও পরে অনেক কথার ভীড়ে শনিবার সন্ধ্যায় শেরে বাংলায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপের এক পর্যায়ে নাজমুল হাসান পাপন বলে বসেন, ‘কেউ (কোন ক্রিকেটার) যদি না যেতে চায়, যাবে না। এটা তো জোর করার কিছু নেই। বোর্ড থেকে কাউকে জোর করে পাঠানো হবে না। এটা হল এখন পর্যন্ত যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে আমার চিন্তা। কাউকে জোর করে পাঠানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিকল্প টিম যাবে, নাকি ওরাই যাবে, সেটি পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।’

বোর্ড সভাপতি যখন এমন কথা বলেন, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না যে, দল পাঠানো হচ্ছে। তার মানে ধরেই নেয়া যায়, বাংলাদেশ জাতীয় দলের মোড়কে জানুয়ারির শেষে ও ফেব্রুয়ারি মিলে একটি দল পাকিস্তান যাবে। তবে সে দলে কারা থাকবেন, সেটা নির্ভর করছে আসলে কারা কারা যাবেন বা যেতে চাইবেন তার ওপর।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবার আগে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল যেভাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে গিয়েছিল, ঠিক তা-ই হতে যাচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সেখানেও লঙ্কান মূল দলের শীর্ষ তারকাদের বড় অংশ যাননি। তারপরও লঙ্কান দল ঠিকই টেস্ট খেলতে গেছে এবং সিরিজেও অংশ নিয়েছে।

অবশ্য এর আগে বিসিবি বিগ বস আগের মত করেই বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাবার ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে। তিনি এও জানিয়ে দেন, পরবর্তী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই পুরো বিষয়টি অর্থাৎ পাকিস্তান সফরের ব্যাপারটি চূড়ান্ত হবে।

পাপন বলেন, ‘আমরা সিকিউরিটির ব্যাপারে সরকারের কাছে যে আবেদন করেছিলাম, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে ছাড়পত্র পাব কি না, সেটির জন্য পাঠিয়েছিলাম। এর আগে মেয়েদের টিম গিয়েছে, এইচপি দল গিয়েছে। ওরা খেলে এসেছে। জাতীয় দলের ছাড়পত্র এখনো আমরা পাইনি। যদিও সিকিউরিটির ব্যাপারে যদি জিজ্ঞেস করেন, সেটা অনূর্ধ্ব-১২ হোক কিংবা জাতীয় দল; নিরাপত্তা নিরাপত্তাই। সবার জন্য একই হওয়ার কথা। তাই আমরা ধরে নিচ্ছি সম্ভাবনা রয়েছে নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়ে যাওয়ার।’

বিসিবি সভাপতি যোগ করেন, ‘তারপরও যেহেতু আমরা হাতে পাইনি কাগজটা। এবং ওনারা গিয়েছেন দেখেছেন। সেক্ষেত্রে আমরা আমরা আশা করছি যে কোনো দিন পেয়ে যাব। পাওয়ার পর বলতে পারব আমাদের সিদ্ধান্তটা কী। কারণ এখানে একটা হচ্ছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স। পরবর্তীতে বড় প্রশ্ন আছে প্লেয়ারদের। তাদের মতামতও এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কে যেতে চাইবে কে চাইবে না। এখানে অনেকগুলো ব্যাপার আছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে। সবমিলিয়ে সবকিছু প্রায় শেষের দিকে আছে। নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পরই আমরা বসব। আশা করছি আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে এটার একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম