তবে কি এশিয়া কাপের আয়োজক হতেই এ ছাড়?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কিছুতেই মানতে চাচ্ছেন না যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কুটনৈতিক পরাজয় ঘটেছে। তার কাছে বরং সর্বসাধারণের এমন মন্তব্য অদ্ভুতই লাগছে।

বিসিবি বিগ বসের ঘুরে-ফিরে একটাই কথা, ‘আমি জানি না এটা কেন বলা হচ্ছে? এখন এমন কথা তারা (সমালোচকরা) কেন বলছে এটার কোনো কারণই খুঁজে পাচ্ছি না। আমার কাছে এটা অদ্ভুত লাগছে।’

তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, পাকিস্তানের নয় বিসিবির ইচ্ছেই পূরণ হয়েছে। তাই তার মুখে এমন কথা, ‘আমরা যেটা বলেছি আমার মনে হয় এটাই হয়েছে। আমি যেদিন প্রথম মিডিয়াতে বলেছি, এটাই বলেছি আমরা প্রথমে যাবো টি-টোয়েন্টি খেলতে। এরপর আমরা টেস্ট খেলবো।’

বিসিবি প্রধান এমন ব্যাখ্যা দিলেও ক্রিকেট অনুরাগিদের বড় অংশ তিন-তিনবার পাকিস্তান খেলতে যাওয়ার বিপক্ষে। তারা এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। একটা কথা অনেকের মুখেই শোনা যাচ্ছে, ‘তা হলো- যত সংক্ষিপ্ত সময়ের (৭/৮ দিন) জন্যই হোক না কেন, পাকিস্তানে তিনবার যাওয়ার সিদ্ধান্তটা না হলেই ভালো হতো। পাকিস্তানিরা যত নিরাপত্তার চাদরই বিছাক না কেন, দেশটি এখনও নিরাপদ নয়।

এই তো গত ১১ জানুয়ারি (শনিবার) কোয়েটায় মাগরিবের নামাজের সময় এক মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বাংলাদেশ জাতীয় দল যে তিন শহরে টি-টোয়েন্টি, টেস্ট ও ওয়ানডে খেলতে যাবে সেই লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি এবং করাচির কোথাও যে এমন প্রাণ সংহারি বোমা বিস্ফোরণ ঘটবে না, তারই বা নিশ্চয়তা কী?

মোট কথা, পাকিস্তানে একবার গিয়ে খেলে আসাতেই রাজ্যের ঝুঁকি। সেখানে তিন-তিনবার যাওয়া! শঙ্কায় বুক কাঁপে বৈকি। তাহলে কেন তিন দফা পাকিস্তানে যাবার সিদ্ধান্ত? সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগিরা এর ভেতরের কারণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

কেউ কেউ বলছেন, টেবিল টকে ঝানু এহসান মানির কথার মারপ্যাঁচে শেষপর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে রাজি হয়েছেন বিসিবি প্রধান। আবার কেউ কেউ বলছেন, আইসিসি প্রধান শশাঙ্ক মনোহরের মধ্যস্ততায় এ চূড়ান্ত ফয়সালা হয়েছে।

আবার অন্য একটি কথাও শোনা যাচ্ছে। ক্রিকেট পাড়ায় একটি মহলে উচ্চারিত হয়েছে যে, পাকিস্তানে তিনবার সফরের বিনিময়ে কোন নগদ কিছু না পেলেও হয়তো একটি অর্জন আছে বাংলাদেশের। তা হলো, খুব সম্ভবত আগামী সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে যে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেটা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এখন বাংলাদেশেই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

জানা গেছে, দুবাইয়ে আইসিসি প্রধান শশাঙ্ক মনোহরের মধ্যস্ততায় বিসিবি আর পিসিবির পারস্পরিক সমঝোতায় হয়তো পাকিস্তান থেকে এশিয়া কাপের পরবর্তী আসর বাংলাদেশে আয়োজনের একটা অলিখিত চুক্তি হয়েছে। কারণ একটাই, ভারত কোনোভাবেই পাকিস্তানে গিয়ে খেলবে না। সেটা এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপ- যাই হোক না কেন।

এখন ভারত ছাড়া তো আর এশিয়া কাপ হতে পারে না। বাংলাদেশে খেলা হলেই কেবল ভারত অংশ নেবে এবং এশিয়া কাপ আয়োজনে কোন বাধা থাকবে না। তাই বাংলাদেশকে এ বছর সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের স্বাগতিক হিসেবে বেছে নেয়ার একটা অঘোষিত চুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে।

এদিকে এশিয়া কাপ আয়োজন করার অর্থ স্বাগতিক হিসেবে মিলবে ৩ মিলিয়ন ডলার (২৭ কোটি টাকার বেশি)। সব মিলিয়ে এশিয়া কাপের স্বাগতিক হবার হাতছানি আছে বলেই পাকিস্তানের সব দাবি মেনে নিয়ে তিনবারে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত বলে শোনা যাচ্ছে।

এআরবি/আইএইচএস/এসএএস/পিআর