ভায়রা মুশফিকের পাকিস্তান না যাওয়া নিয়ে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:০২ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

এবার বাংলাদেশ জাতীয় দলের বহরে যে দলটি পাকিস্তান যাচ্ছে, তার মাত্র দু’জন ক্রিকেটারের আগে পাকিস্তান সফরে অভিজ্ঞতা রয়েছে। যাদের একজন বর্তমান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, অন্যজন তামিম ইকবাল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দু’জনই ২০০৮ সালে দু’বার পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। প্রথমবার দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলতে। পরেরবার এশিয়া কাপে অংশ নিতে।

তখনকার পাকিস্তানের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট এখনকার মত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। এখন যেমন আজ করাচি, পরশু লাহোর, তারপর দিন মুলতান, এরপর কোয়েটা, পেশোয়ারে জঙ্গি হামলায় নির্বিবাদে মানুষ খুন করা হচ্ছে। বোমাবাজি ও বন্দুকের গুলিতে প্রায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, তখন অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না। মৃত্যূ ঝুঁকি এখনকার তুলনায় কম ছিল। তাই পাকিস্তানে গিয়ে খেলা মানেই এখনকার মত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া ছিল না।

এখন তো পাকিস্তান যাওয়া মানেই যেন মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গন। এরকম অবস্থায় পাকিস্তান খেলতে যেতে বুক কাঁপে অনেকেরই। অনেক দেশই তাই খেলতে পাকিস্তান যাচ্ছে না। অনেকদিন পর শ্রীলঙ্কা গেছে। অবশেষে এবার বাংলাদেশ দল খেলতে যেতে রাজি হলেও সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম যাচ্ছেন না।

অথচ তার আপন ভায়রা ভাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলের ক্যাপ্টেন। তার নেতৃত্বেই দল যাচ্ছে পাকিস্তানে। একই বাড়ির দুই জামাতা। একবোনের স্বামী মুশফিকুর রহীম যাচ্ছেন না পাকিস্তানে। আরেক বোনের স্বামী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়াটা তাই বেশ কঠিন। নিজ বাবা মা, ভাই-বোন, নিকট আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও স্ত্রী এবং শশুর বাড়ি থেকে একটা অস্ফুট চাপ অবশ্যই ছিল।

আসলে পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন ছিলো? মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নিজ মুখেই জানালেন তা। অকপটে স্বীকার করলেন, সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না মোটেই। পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন ছিলো?

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অকপট স্বীকারোক্তি, ‘শুরুর দিকে কিছুটা অবশ্যই কঠিন ছিলো। কারণ, আমার ফ্যামিলিও কনসার্ন ছিলো। বাট, আমি আমার পরিবারের সাথে কথা বলেছি। ওরা রাজি হয়েছে।’

কিন্তু তার আপন ভায়রা ভাই মুশফিকুর রহীম তো যাচ্ছেন না। এ বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন মাহমুদউল্লাহ? কথায় পরিষ্কার তিনি মোটেই বিষয়টিকে নেতিবাচক চোখে দেখেননি। বরং বলেছেন, মুশির (মুশফিকের) সিদ্ধান্তকে আমিও সমর্থন করি। কারণ ফ্যামিলি একটা ইস্যু থাকে সব সময় এবং ফ্যামিলি একটা বড় ইস্যু একজন ক্রিকেটারের লাইফে। যে কারোই ব্যক্তিগত জীবনে এর চেয়ে বড় ইস্যু হতে পারে না। আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে মুশির সিদ্ধান্তের প্রতি।

প্রসঙ্গতঃ মুশফিকুর রহীম প্রকাশ্যে জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে বলে ফেলেছেন তিনি পরিবারের বাকি সদস্যদের কথা ভেবেই যাবেন না। কারণ তিনি খেলতে যাবেন আর পরিবারের সদস্যরা দেশে উদ্বেগ, শঙ্কায় দিন কাটাবেন- এটা কাম্য না মুশফিকের।

তার ভাষায়, ‘পরিবারের সদস্যরা আমার জীবন নিয়ে রাজ্যের চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাবেন আর ওখানে গিয়ে খেলবো এবং স্বাভাবিক পারফর্ম করবো- এটা সম্ভব না। তাই আমি পরিবারের মতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েই পাকিস্তান যাব না। মানছি সেখানে খেলে মজা। উইকেট ভাল। তারপরও এখনো পাকিস্তানে হিয়ে খেলায় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, কখনো যদি দেখি ও বুঝি পাকিস্তান নিরাপদ, তাখন যাব।’

এআরবি/আইএইচএস/এসএএস/এমএস