এত বড় শোকও টলাতে পারেনি আকবরকে

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪৮ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

তিনি এখন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। যেকোনো পর্যায়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে বিশ্বজয়ের সাফল্য এনে দেয়ার কারিগর। ট্রফি হাতে মুখে চওড়া হাসি আকবর আলীর। কে বলবে, স্বজন হারানোর ব্যথা বুকে নিয়েই বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি?

হাজার মাইল দূরে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছেন বিশ্বকাপ খেলতে। গত ১৮ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ৯ উইকেটের বড় জয় আকবর আলীর দলের। ২১ জানুয়ারি পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ডও পাত্তা পেল না। ২০০ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ।

টানা দুই জয়ে উৎফুল্ল দল, অধিনায়ক হিসেবে আকবরও ভীষণ খুশি। এমন সময়ে দেশ থেকে এলো দুঃসংবাদ। ২২ জানুয়ারি তার একমাত্র বোন খাদিজা খাতুন চলে গেছেন না ফেরার দেশে। যমজ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান তিনি।

স্বজন হারানোর ব্যথায় মুষড়ে পড়াটা স্বাভাবিকই ছিল আকবরের জন্য। কিন্তু আকবর ভেঙে পড়লেন না। শোককে শক্তিতে পরিণত করলেন। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় ধাপে নাম লেখানোর পর কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালেও সহজে জিতল বাংলাদেশ।

ফাইনালে প্রতিপক্ষ সেই ভারত। যে ভারতের বিপক্ষে মাস চারেক আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরেছিল আকবর আলীর দল। সেবার ১০৬ রানে ভারতীয়দের আটকে দিয়েও ৫ রানে হেরে যায় তারা।

এবার ফাইনালে ভারতকে ১৭৭ রানে গুটিয়ে দেয়ার পরও তাই দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে বসে থাকার উপায় ছিল না। একটা সময় তো ১৪৩ রান তুলতে ৭ উইকেট হারিয়ে সেই এশিয়া কাপকেই মনে করাচ্ছিল জুনিয়র টাইগাররা।

কিন্তু বুকে শোক চেপে রেখে দারুণ নেতৃত্বে যিনি দলকে এতদূর নিয়ে এসেছেন, তিনি কি শেষবেলায় হাল ছেড়ে দেবেন? আকবর তো হাল ছাড়ার পাত্র নন। দলের চরম বিপর্যয়ে এবার ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন নিজেই।

৭৭ বল খেলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় খেললেন হার না মানা ৪৩ রানের ইনিংস। ফিরলেন বিজয়ীর বেশে, মুখে চওড়া হাসি নিয়ে। কে বলবে, এ হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে কত যন্ত্রণা!

এমএমআর/এমএসএইচ