তাইজুল, মুশফিক না তামিম- টাইগারদের সাফল্যর রূপকার হবেন কে?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

গত বছর নভেম্বরে বাংলাদেশ যখন শেষবার জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল, তখনো তিনি ছিলেন না। তারপরও ঠিক তার নাম উচ্চারিত হয়েছে। তিনি খেলুন বা না খেলুন, সাকিব আল হাসানের কথা তুলতে না চাইলেও তার নাম এসে যায় আপনা-আপনি। না এসে উপায় কি? তিনিই যে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আর উজ্জ্বল তারকা!

টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের যা অর্জন, কৃতিত্ব ও প্রাপ্তি- তাতে যে সাকিবের অবদান অনেক! তার ব্যক্তিগত কৃতিত্বও যে আকাশছোঁয়া। আর জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্ট সিরিজের আগে সাকিবের নামটা আরও বেশি করে চলে আসে।

সবচেয়ে বড় কথা, টেস্টে সাকিবের সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সটাও এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেটা ২০১৪ সালের ৩-৭ নভেম্বর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে। যে ম্যাচে (৫/৮০, ৫/৪৪) ১০ উইকেট শিকারের পাশাপাশি অনবদ্য শতরান (২৫০ মিনিটে ১৮০ বলে ১৩৭) করার দুর্লভ কৃতিত্বের অধিকারি হলেন সাকিব।

টেস্ট ক্রিকেটের সুদীর্ঘ সোয়াশো বছরের ইতিহাসে কেবল মাত্র তিনজন ক্রিকেটারেরর (ইয়ান বোথাম, ইমরান খান আর সাকিব আল হাসান) একই টেস্টে শতরানের পাশাপাশি ১০ বা তার বেশি উইকেট শিকারের অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। সাকিব তার একজন।

টেস্টে একই ম্যাচে শতরানের পাশাপাশি প্রথম ১০ উইকেট শিকারী হলেন সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার ও অধিনায়ক ইয়ান বোথাম (১৯৮০ সালে ভারতের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে) স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ১১৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে স্মরণীয় সাফল্যে নিজের নামকে সোনালি হরফে লিখে রেখেছেন বোথাম।

একইভাবে টেস্টে সেঞ্চুরি আর ১০ উইকেট শিকারের দুর্লভ কৃতিত্বের দ্বিতীয় অধিকারি হলেন আরেক কীর্তিমান ক্রিকেটার সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক ইমরান খান। তিনি ১৯৮৩ সালে ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ১১ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ১১৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে নিজেকে চির স্মরণীয় করে রেখেছেন। সেই তালিকায় সাকিবের নাম আছে এবং সে দুর্লভ কৃতিত্বটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

সাকিব ছাড়াও জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্টের আগে আরও হাতে গোনা কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম উঠে আসে তার একজন তাইজুল ইসলাম। আর অন্যজন মুশফিকুর রহীম।

BD-Tamim-1

তাইজুলের কৃতিত্বটা সবার জানা। এই বাঁ-হাতি স্পিনারের টেস্টে এক ইনিংসে সেরা বোলিং (১৬.৫-৭-৩৯-৮) ও ম্যাচ সেরা বোলিং ফিগারটিও (১১/১৭০) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এছাড়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক ৩৫ উইকেটও (৫ টেস্টে) তাইজুলের।

এটাই শেষ নয়। আরও আছে। তাইজুলের ১০৮ টেস্ট উইকেটের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ (৫ টেস্টে ৩৫) উইকেট ক্রিকেটের সবচেয়ে দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। টেস্টে তাইজুল যে ৭ বার ৫ বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন, তার ৪ বারই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

এরমানে তাইজুলের কাছে জিম্বাবুয়ের ‘পয়োমন্তঃ’ একটি দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ৫ উইকেট আছে তাইজুলের। বলার অপেক্ষা রাখে না, সেটা এই শেরে বাংলা স্টেডিয়ামেই। একই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারলেও ম্যাচে ১১ (৬/১০৮ ও ৫/৬২) উইকেট দখল করে একাই লড়াই করেন।

একইভাবে জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্ট মানেই আরও দুটি নাম চলে আসে। একজন হলেন তামিম ইকবাল। মুশফিকুর রহীমের দুই ডাবল সেঞ্চুরির একটি এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং সেটা বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ের শেষ মোকাবিলায়। ২০১৮ সালের ১১-১৫ নভেম্বর এই শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে।

৪২১ বলে ২১৯ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহীম। একই ম্যাচে বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম (৫/১০৭) আর অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ (৫/৩৮) বল হাতে জ্বলে উঠলে বাংলাদেশ পায় ২১৮ রানের দারুণ জয়। আর তাতেই সিলেটে ১৫১ রানের পরাজয়ের ব্যর্থতা ঝেড়ে-মুছে সিরিজ ১-১’এ অমিমাংসিত রাখা সম্ভব হয়।

এর ১৪ মাস পর আবার আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি যখন সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নামবে মুমিনুল হকের দল তখন মুশফিক, তাইজুল আর মিরাজের কথা মনে না হয়ে কি উপায় আছে?

তবে সময়ে নাকি অনেক কিছুই পাল্টায়। বদলায়। তখনকার ম্যাচ জেতানো অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের বলের ধার কমেছে এখন। তার চেয়ে বরং আরেক তরুন অফব্রেক বোলার নাঈম হাসান উঠে এসেছেন। আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশ একাদশে তাই মিরাজের বদলে নাঈমকে খেলতে দেখলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। বরং বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় হয়ত সেটাই যুক্তিযুক্ত হবে।

এর বাইরে তামিম ইকবালের নামও চলে আসে। এই বাঁ-হাতি ওপেনারও সেরা ফর্মে নেই। তারপরও তিনিই সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের সফলতম ব্যাটসম্যান। সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরি, ফিফটিও তার। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে তিন টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ যে জিম্বাবুয়েকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করেছিল, তামিম ছিলেন তার অন্যতম রূপকার।

ওই সিরিজে জোড়া শতক উপহার দিয়েছিলেন দেশ সেরা ওপেনার (খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ১০৯ আর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেও ১০৯)। তবে ১৪ মাস আগে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ও হোম সিরিজে ছিলেন না তামিম।

বরং সেই সিরিজে ব্যাট হেসেছিল মুমিনুল হকের। আজকের বাংলাদেশ টেস্ট ক্যাপ্টেন মুমিনুল কিন্তু বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ের শেষ ম্যাচের অন্যতম সেঞ্চুরিয়ান। মুশফিকুর রহীমের ডাবল সেঞ্চুরির সাথে মুমিনুলের ২৪৭ বলে ১৬১ রানে দারুণ ইনিংস আছে।
মুশফিক আর মুমিনুল মিলে চতুর্থ উইকেটে ২৬৬ রানের বিরাট জুটি গড়েন। ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর হোম অফ ক্রিকেটে মুশফিকুর রহীম আর মুমিনুল হকের সেই ২৬৬ রানের জুটি যে টেস্টে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।

দেখা যাক এবার তাইজুল, মুশফিক, তামিম আর মুমিনুল হকের কে কি করেন? বাংলাদেশের সাফল্যের রূপকার হবেন কে?

এআরবি/আইএইচএস/পিআর