দক্ষিণ আফ্রিকাকে লজ্জায় ডুবিয়ে জিতল অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫০ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঘরের মাঠে খেলা, গ্যালারি ভর্তি দর্শক। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অস্বস্তিটা তাই আরও বড় হয়ে ওঠলো। টি-টোয়েন্টি ফরমেটে দেশের ক্রিকেটে যে এত বড় লজ্জায় আর পড়েনি প্রোটিয়ারা।

শুক্রবার রাতে জোহানেসবার্গে ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনের নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বনিন্ম স্কোর গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগারের তোপে ৮৯ রানেই অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা। হেরেছে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগে একবারই একশর নিচে অলআউট হয়েছে প্রোটিয়ারা। ২০১৮ সালের আগস্টে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল দলটি। এবার সেই রেকর্ড ভাঙলো।

মূলত অ্যাশটন অ্যাগারের ঘূর্ণির সামনেই লুটিয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করা অ্যাগার তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের ১৩তম হ্যাটট্রিক, অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের মধ্যে যা দ্বিতীয়। অ্যাগারের আগে টি-টোয়েন্টিতে অসিদের পক্ষে একমাত্র হ্যাটট্রিকম্যান ছিলেন ব্রেট লি।

অথচ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করা ডেভিড ওয়ার্নার ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ডেল স্টেইনের শিকার হয়ে ফেরেন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ধাক্কা সামলে ওঠেন অ্যারন ফিঞ্চ আর স্টিভ স্মিথ। দশের উপর রানরেটে তারা যোগ করেন ৮০ রান। বড় স্কোরের ভিত গড়া হয়ে যায় তাতেই।

২৭ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ফিঞ্চ করেন ৪২ রান। ৩২ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৪৫ রান আসে স্মিথের ব্যাট থেকে। পরের দিকে অ্যালেক্স কারের ২২ বলে ২৭ আর অ্যাশটন অ্যাগারের ৯ বলে অপরাজিত ২০ রানের ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়া।

জবাবে সূচনাটাই ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। অসি পেসে ১৭ রানের মধ্যে দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক (২) আর ভ্যান ডার ডাসেনকে (৬) হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। ক্রস খেলতে গিয়ে মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হন ডি কক। ডাসেন আউট হন কামিন্সকে তুলে মারতে গিয়ে। এরপর ট্রেভর স্মাটকেও (৭) তুলে নেন কামিন্স। ২ রান করে অ্যাডাম জাম্পার শিকার ডেভিড মিলার।

পরের সময়টা শুধুই অ্যাশটন অ্যাগারের। ৪০ রানে ৪ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার আশা হয়ে ছিলেন ফাফ ডু প্লেসিস। দারুণ কয়েকটি শটও খেলেন। কিন্তু অ্যাগারের করা ইনিংসের অষ্টম ওভারে এসে উইকেট দিয়ে বসেন তিনিও।

অ্যাগারের ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিটি অফ সাইডে একটু এগিয়ে তুলে মেরেছিলেন। বাউন্ডারিতে সেই ক্যাচটি লুফে নেন রিচার্ডসন। ২২ বলে ২৪ করে ডু প্লেসিস ফেরার পর আর প্রোটিয়াদের কোণঠাসা করে দিতে সময় লাগেনি অস্ট্রেলিয়ার।

পরের বলেই আন্দেলো ফেহলুখায়োকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন অ্যাগার। ইনিংসের ষষ্ঠ বলে আরও এক উইকেট তার। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলটি বুঝতে না পেরে ব্যাট চালিয়ে দেন ডেল স্টেইন, স্লিপে দাঁড়িয়ে সহজেই সেটি তালুবন্দী করেন ফিঞ্চ। হয়ে যায় অ্যাগারের হ্যাটট্রিক।

বাকি ৩ উইকেটের মধ্যে আরও ২টি নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগারও পেয়ে যান অ্যাগার। ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে তার নামের পাশে লেখা হয় ৫ উইকেট। স্বভাবতই ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও ওঠেছে বাঁহাতি এই স্পিনারের হাতেই।

এমএমআর/পিআর