মেয়ে হয়েও ছেলেদের আউট করেই বেশি মজা ১০ উইকেট নেয়া কাশভির

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভারতে চলতি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট ওয়ানডে টুর্নামেন্টে এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন চন্ডিগড়ের ১৬ বছর বয়সী কিশোরী কাশভি গৌতম। কাড়াপায় হওয়া ম্যাচে অন্ধ্র প্রদেশের বিপক্ষে মাত্র ১২ রান খরচায় ১০ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এ মিডিয়াম পেসার।

মূলত নারী ক্রিকেটার হলেও কাশভি সবসময় ছেলেদের বিপক্ষে খেলতে এবং তাদের আউট করেই মজা পান বেশি। এমনকি সরকারি মডেল সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের ক্রিকেট একাডেমিতেও মেয়েদের বোলিং করতে পছন্দ করেন না কাশভি। সবসময় ছেলেদের আউট করেই বেশি মজা পান তিনি।

নিজের ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তির দিনে কাশভি বলেন, ‘আপনি যদি কখনও ছেলেদের উইকেট নিতে পারেন, তাহলে এটা তাদের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেয়। এমনটা হলে তারা আর কখনওই আপনাকে কটু কথা বলবে না অথবা বাজে মন্তব্য করবে না। কখনও বলতে পারবে না যে, ক্রিকেট খেলাটা মেয়েদের জন্য নয়। অনুশীলন ম্যাচগুলোতে আমি তাদের মাটিতে মিশিয়ে দিতে পছন্দ করি।’

মঙ্গলবার অন্ধ্র প্রদেশের বিপক্ষে ১০ উইকেট নেয়ার আগের ম্যাচেই জম্মু এবং কাশ্মিরের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। অর্থাৎ দুই ম্যাচেই ১৭ উইকেট হয়ে গেছে ১৬ বছর বয়সী কাশভির। শুধু তাই নয়, এ বয়সেই তিনি অধিনায়কত্বও করছেন চন্ডিগড় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দলেরও।

কাশভির অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ার দিনে তার দল চন্ডিগড় জয় পেয়েছে ১৬১ রানের বড় ব্যবধানে। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটের বিনিময়ে ১৮৬ রান করে চন্ডিগড়। অধিনায়ক কাশভি গৌতম খেলেন ৬৮ বলে ৪৯ রানের ইনিংস। জবাবে অন্ধ্র প্রদেশ থামে মাত্র ২৫ রানে।

বল হাতে ইনিংসের প্রথম ওভার থেকে বোলিং শুরু করেন কাশভি। মাত্র ৪.৫ ওভারে এক মেইডেনের সহায়তায় ১২ রান খরচায় নেন পুরো ১০টি উইকেট। এর মধ্যে ছয়টিই ছিলো লেগ বিফোর। আর বাকি চার ব্যাটসম্যানকে করেন সরাসরি বোল্ড। অর্থাৎ অন্ধ্র প্রদেশকে অলআউট করতে কোনো ফিল্ডারেরও সহায়তা নেননি কাশভি।

হুট করেই ১০ উইকেট নেয়ার খবরে আলোচিত হলেও, লম্বা সময় ধরেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন কাশভি। চলতি মৌসুমে চন্ডিগড়ের হয়ে এরই মধ্যে ৬৩ উইকেট শিকার করে ফেলেছেন তিনি। এর মধ্যে আবার অনূর্ধ্ব-২৩ ওয়ানডে ট্রফির ৯ ম্যাচে চারবার ৫ উইকেটসহ মোট ৩১টি উইকেট নিয়েছেন কাশভি।

কাশভি গৌতমের দশ উইকেট নেয়ার ভিডিও

এসএএস/এমকেএইচ