সামনাসামনি না বলে মুশফিকের ব্যাপারে ‘কানপড়া’ দিতেন হাথুরু

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ১৮ মে ২০২০

জাতীয় দলে খেলছেন ১৫ বছর ধরে। ডেভ হোয়াটমোর, শন উইলিয়ামস, জেমি সিডন্স, রিচার্ড পাইবাস, স্টুয়ার্ট ল, শেন জার্গেনসেন, স্টিভ রোডস এবং রাসেল ডোমিঙ্গো- কত কোচের অধীনেই খেলেছেন মুশফিকুর রহীম।

তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। এদের কারও সাথেই তার বনিবনা হয়নি, সমঝোতা ভাল না, সম্পর্ক খারাপ- এমন কথা শোনা যায়নি কখনও, এমন কোন গুঞ্জনও বাতাসে ভাসেনি।

আর তিনি তো এমনিই নিবেদিতপ্রাণ ক্রিকেটার। যিনি নিজের গরজেই সবচেয়ে বেশি শ্রম দেন। বলে দিতে হয় না কিছুই। অনুশীলনে অন্য সবার চেয়ে বেশি সময় কাটান। সবার চেয়ে বেশি ঘাম ঝরান। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি অনেক ভাল পারফরমারও।

তবু এক সময়ের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে নাকি তার বনিবনা হয়নি কখনও। এমন না যে, হাথুরু যখন কোচ তখন মুশফিক পারফরম করেননি, বা করতে পারছিলেন না। সে সময়ও পারফরমার মুশফিক বেশ ভালই খেলেছেন। এ ক্ষেত্রে তার সঙ্গে হাথুরুর মতপার্থক্য বা সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না।

কিন্তু ভেতরের খবর হলো অধিনায়ক, পারফরমার মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে সাবেক কোচ হাথুরুর সম্পর্ক আসলে ভাল ছিল না। একটা সমস্যা ছিল। আসলে হাথুরুসিংহের সঙ্গে মুশফিকের কী হয়েছিল? মূল সমস্যা কী ছিল?

Mushi-hahturu

এ কৌতূহলি প্রশ্ন অনেকের। শুধু মুশফিক ভক্তই না বাংলাদেশ সমর্থক মাত্রই এখনও তা নিয়ে ভাবেন। চিন্তা করেন, আসলে মুশফিক আর হাথুরুসিংহের সমস্যাটা কী ছিল? ভাবার কোন কারণ নেই যে, ভেতরে আসলে কোন সমস্যা ছিল না বা এটা গুঞ্জন, মিডিয়ার সৃষ্টি।

খোদ মুশফিকের কথায়ই পরিষ্কার তার এবং হাথুরুসিংহের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব ছিল। হাথুরু আসলে তার কাছে কী চাইতেন, সে প্রত্যাশা পূরন হচ্ছিল কি না?- এসব বিষয় কখনও মুশফিককে সামনাসামনি না বলে আগে পিছে, এখানে ওখানে অন্য কাউকে বলে বেড়াতেন। যা মুশফিককে তখন কুড়ে কুড়ে খেয়েছে।

রোববার রাতে ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের সঙ্গে লাইভে কোচ হাথুরুসিংহের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক নিয়ে মুশফিকও স্বীকার করেছেন, তার সঙ্গে সমস্যা ছিল কোচ হাথুরুসিংহের এবং শেষ দিকে সম্পর্ক ভাল ছিল না।

নোমান যখন জানতে চাইলেন, ‘হাথুরুসিহের সঙ্গে আসলে সমস্যাটা কোাথায় ছিল?’ মুশফিকের প্রথম কথা ছিল, ‘আসলে এ প্রশ্নটা আমাকে না করে হাথুরুসিংহেকে করলেই বেটার হয়।’ পরক্ষণেই তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, তার পক্ষ থেকে সমস্যা ছিল না। তাই মুখে এমন কথা, ‘আমার দিক থেকে কোন সমস্যা ছিল না। ওর দিক থেকে কেন কী হয়েছে, সেটা ওই ভাল বলতে পারবেন।’

মুশফিকের ধারণা, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টিম পারফরমেন্স ভাল ছিল না। হয়তো বা কোচ হাথুরুর লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তার প্রত্যাশামতো পারফরম করতে পারেনি দল। সে কারণে কোচ হাথুরুর মনে একটা আক্ষেপ থেকে থাকতে পারে। কিন্তু তিনি তা অধিনায়ক হিসেবে মুশফিককে বললেই পারতেন। তা না করে হাথুরু একে ওকে গিয়ে বলেছেন। সেটাই আসলে বেশি খারাপ লাগার ছিল।

Mushi-hahturu

‘আমার মনে হয় যে সাউথ আফ্রিকায় যেটা ছিল হাথুরুর শেষ সফর, আমাদের টিমের ভেতরে খুব ভাল বোঝাপড়া ছিল না। কোচ-ক্যাপ্টেন হিসেবে আমরা যে রেজাল্টের আশা করেছিলাম, সে রেজাল্টটা করতে পারিনি। যখন প্রত্যাশিত ফল না আসে তখন একটা দলের ভেতরে সমস্যা হতেই পারে। আমি প্রাণপন চেষ্টা করেছি। হয়তো বা উনি (হাথুরু) আমার ভেতরে কোন কমতি দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু আমার কাছে এটাই খারাপ লেগেছে যে, উনি আমাকে সরাসরি কিছু বলেননি। যে এটা করতে পারতে বা ওটা করতে পারতে। হয়তো বা উনি যেভাবে চেয়েছিলেন, সেভাবে নাও হতে পারে। আমি তো মানুষ। আমারও সীমাবদ্ধতা আছে। ভুল করতেই পারি। সেটা আমাকে না বলে অন্য কোথাও বলেছেন যে, এটা হলে ভাল হয়। ওটা হলে ভাল হয়।’

সে দিক থেকে নিজেকে খানিক দূর্ভাগা ভাবছেন মুশফিক। তার অনুভব, যত ভুল বোঝাবুঝি বা চিন্তার অমিল থাকুক না কেন, কোচ হাথুরু যদি তাকে মুখ ফুটে বলতেন, আমার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, আমি যা চাই, তা হচ্ছে না। সে বিষয়গুলো নিজেদের ভেতরে কথা বলে নিলেই আর সমস্যা থাকত না। কিন্তু হাথুরু তা করেননি।

তাই মুশফিকের আক্ষেপ, ‘এটাই বলবো যে, আমি আনলাকি। কারও সঙ্গে সম্পর্ক ভাল-খারাপ যাই হোক না কেন, সরাসরি কথা বললে অনেক সমস্যাই মিটে যায়। যেহেতু হাথুরুরও টিম না, আমারও না। এটা একটা দেশের দল, বাংলাদেশ জাতীয় দল। দুইজনের জন্য যাতে দলের কোন ইফেক্ট না হয় সে চেষ্টা করেছি আমি। আমার দিক থেকে। হয়তো বা সে আর চাকুরি করতে চায়নি, তার একটা অন্যরকম মাইন্ডসেট ছিল। সেজন্য হয়ত হাথুরু চায়নি আমার সঙ্গে কথা বলবে বা ডিসকাশন করবে। আমি আসলে বের করতে পারছিলাম না যে তার সঙ্গে আমার কী এমন হয়েছিল?’

তবে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ যখন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছিল, তখন হাথুরু শ্রীলঙ্কার কোচ। মুশফিক তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমার সঙ্গে আসলে কী হয়েছে তোমার? হাথুরু নাকি জবাবে বলেছিলেন, কই কিছু হয়নি তো?

তা জানিয়ে মুশফিক বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের পর খেলতে গিয়ে একই হোটেলে ছিলাম আমরা। লবিতে দেখা হতো, কথা হতো। আমি একদিন হাথুরুকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমার সঙ্গে কী হয়েছিল তোমার? কী এমন যা আমিও জানিনা। তখন সে হেসে বলছিল, না না! আমি তো তোমাকে কিছুই বলিনি।’

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]