‘মঈন খানকে আউট করার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় আমরাই জিতবো’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ৩১ মে ২০২০

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের নায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। ১৯৯৯ সালের ২৪ মে এডিনবার্গে স্বাগতিক স্কটল্যান্ডের সাথে দল যখন চরম বিপদে, ঠিক তখন ব্যাট হাতে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

২৬ রানে ইনিংসের প্রথম অর্ধেক শেষ। পাঁচ অতি নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ (০), মেহরাব হোসেন অপি (৩), ফারুক আহমেদ (৭), আমিনুল ইসলাম বুলবুল (০) ও আকরাম খান (০) সাজঘরে। ব্যাটসম্যান তকমাধারিদের মধ্যে ছিলেন শুধু নান্নু আর নাইমুর রহমান দুর্জয়। তারা দুজনই চরম বিপদে দাঁতে দাঁত কামড়ে লড়াই করেন।

দারুণ এক জুটি গড়ে দুর্জয় ৩৬ রানে ফিরলেও নান্নু শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৮ রানে। ২৬ রানে ৫ উইকেট খোয়ানো বাংলাদেশ কঠিন চাপের মধ্যে থেকেও শেষ পর্যন্ত পায় ১৮৫ রানের পুুঁজি। আর সেটাই জয়ের জন্য যথেষ্ট বলে প্রমাণ করেন বোলাররা।

সে কারণেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের রূপকার ও নায়ক বনে যান নান্নু। একইভাবে ২১ বছর আগে আজকের দিনে পাকিস্তানের সাথে ৬২ রানের ঐতিহাসিক জয়ের স্বার্থক রূপকার ও নায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। ৩৪ বলে ২৭ রানের ছোট্ট অথচ কার্যকর ইনিংস খেলার পর বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে তিনিই পাকিস্তানিদের ঠেলে দেন পরাজয়ের দিকে। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তারই হাতে।

আজ (রোববার) ২১ বছর পর জাগো নিউজের সাথে সে ম্যাচের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেক কথার ভিড়ে শুরুতেই একটি কথা বলেছেন সুজন, ‘আসলে আমি ক্যারিয়ারে কখনোই নিজের পারফরম্যান্সকে খুব বড় করে দেখিনি। ৩১ মে নর্দাম্পটনে পাকিস্তানের সাথে ম্যাচটিও তার বাইরে না। হ্যাঁ, খুব ভালো মনে আছে আমি ৩৪ বলে ২৭ রানের একটি ছোট্ট ইনিংস খেলেছিলাম। যেটা দলকে ২২০ ‘র ঘরে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল। তারপর বল হাতে সুইং পাচ্ছিলাম একটু আধটু। আমার ছোট ছোট সুইং খেলতে পাকিস্তানিদের সত্যিই সমস্যা হচ্ছিল। তারপরও বলব ঐ জয়ের কৃতিত্ব আমার একার না। একার নৈপুণ্যে পাকিস্তানের ঐ দলকে হারানো ছিল অসম্ভব। আমাদের পুরো দল খুব ভালো খেলেছিল বলেই আমরা জিতেছিলাম।’

খেলার দিনের বর্ণনা করতে গিয়ে সুজন বলেন, ‘সেই ম্যাচের আগের দিন ও রাতে ঘটে যায় অনেক ঘটনা। সেটাই ছিল ওই বিশ্বকাপে আমাদের শেষ খেলা। তখনো জানতাম না, আবার কবে বিশ্বকাপ খেলতে পারবো কিনা। জয়-পরাজয়ের চিন্তায় না গিয়ে যারা কোন ম্যাচ খেলেনি, তাদের সুযোগ করে দিতেই শফিউদ্দীন বাবু আর নিয়ামুর রশিদ রাহুলকে খেলানো হয়েছিল।’

সুজন যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় আমরা যে ২২৩ রান করেছিলাম, সেটা খালি চোখে ছোট স্কোর মনে হলেও ইংলিশ কন্ডিশনে একদম কম রান ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ঐ ম্যাচে আমরা শুরুতেই ব্রেক থ্রু পেয়েছিলাম। আর নিয়মিত বিরতিতে পাকিস্তানের উইকেটের পতন ঘটিয়ে তাদের ব্যাটিং লাইন আপকে এলোমেলো করে দিয়েছিলাম। জুটি গড়ার ফুরসত দেইনি। সেটাই সাফল্যের পিছনে রেখেছিল বড় ভূমিকা। তবে মইন খান ছিলেন শেষ ডেঞ্জারম্যান। আমরা তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানতাম। যে কোন অবস্থায় ম্যাচ পাল্টে দেয়ার রেকর্ড আছে তার। তাই তাকে আউট করা পর্যন্ত একটা সংশয় ছিল। মঈন অউট হবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, আমরা জিততে যাচ্ছি ম্যাচটা।’

ওই দিনে তার বোলিং নিয়ে সুজন বলেন, ‘আমাকেই নতুন বলে বল করার দায়িত্ব দেয়া হলো। ঐ আসরে আমি সব ম্যাচেই পরিবর্তিত বোলার হিসেবে বল করেছি। জানতাম ইংলিশ কন্ডিশনে নতুন বল সুইং করে। সুইং করাতে পারলে ভালো কিছুর আশা থাকে। আমিও শুরুতে সুইং পেলাম। প্রথম ওভারে শহীদ আফ্রিদি সুইংয়ের মুখে আউট হলো। ফ্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ দিল পয়েন্টে। আর সেলিম মালিক এবং ইনজামাম উল হকও আমার ভেতরে আসা ডেলিভারিতে লেগবিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়লেন।’

‘আমার প্রথম ওভারে আফ্রিদি ফিরে অল্প সময় পর শফিউদ্দীন বাবুর বলে শূন্য রানে বোল্ড হলেন ইজাজ আহমেদ। এরপর পরই সাঈদ আনোয়ার রানআউট হলেন। তখনই জয়ের চিন্তা এলো মাথায়। তারপরও মনে সংশয় ছিল। পাকিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠতে পারে। মঈন খান পর্যন্ত দল জেতানোর ক্ষমতা রাখে। নান্নু ভাইয়ের বলে যখন ওয়াসিম আকরাম ডিপ স্কোয়ার লেগে বিদ্যুতের হাতে ক্যাচ আউট হলেন, তখন মনে হলো আমরা জিততে যাচ্ছি। কিন্তু তখনো বাধা হয়ে ক্রিজে ছিলেন মঈন। দুর্জয়ের বলে তিনি অপির হাতে ক্যাচ দেয়ার মুহূর্তে মনে হলো, আমরাই জিতব। সত্যি জিতেছিও।’

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]