ধোনিসহ টিম ম্যানেজম্যান্টের প্রতি গুরুতর অভিযোগ ইরফানের

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩২ এএম, ০১ জুন ২০২০

চলতি বছরের শুরুর দিকে সবধরনের খেলা থেকে অবসর নিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাঁহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। তবে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে তার সবশেষ ম্যাচ সেই ২০১২ সালে। এরপর আর জাতীয় দলের আশপাশে আসা হয়নি ৩৫ বছর বয়সী ইরফানের।

মাত্র ২৭ বছরের মধ্যেই ২৯ টেস্ট, ১২০ ওয়ানডে ও ২৪ টি-টোয়েন্টি খেলে থেমে গেছে ইরফানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। অথচ তার মাঝে ভবিষ্যতের কপিল দেবের ছায়াও দেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু ইরফানের দাবি টিম ম্যানেজম্যান্টের পক্ষ থেকে যথাযথ সমর্থন কখনও পাননি তিনি।

২০১২ সালে শেষবারের মতো বাদ পড়ার পর তাকে নিয়ে ভাবেনি টিম ম্যানেজম্যান্ট। অথচ ইরফানের বয়স তখন মাত্র ২৭। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ এখনও মনের মধ্যে পুষে রেখেছেন বারোডার এ অলরাউন্ডার।

স্পোর্টস টাককে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরফান বলেছেন, ‘আমি মনে করি, কোন ওপেনারকে যখন সাত নম্বরে ব্যাটিং দেয়া হয়, তখন অবশ্যই তার পারফরম্যান্সে এর প্রভাব পড়বে। ক্রিস গেইলের কথাই ধরুন, সে যদি সাত নম্বরে নামে, তাহলে তো ৩-৪ ম্যাচে ব্যাটিংই পাবে না। আবার কিছু ম্যাচে আগে আউট হয়ে যাবে, সর্বোচ্চ ৫-৬ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবে।’

‘এসব ক্ষেত্রে অধিনায়ককে সবসময় সেই খেলোয়াড়ের পাশে থাকতে হয়। কারণ অধিনায়কের পরামর্শেই ওপেনারকে সাত নম্বরে নামানো হয়েছে। আমি মনে করি, এ জায়গায় আমি যথাযথ সমর্থন পাইনি। আমি আমার শেষ ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ম্যাচসেরা ছিলাম। যারা বলছিল যে, আমি বোলিংয়ে সুইং পাইনি, তাদের জানা উচিৎ নতুন বলে নয়, আমাকে তিন নম্বরে বোলিং দেয়া হচ্ছিল।’

এসময় অন্যান্য খেলোয়াড়দের উদাহরণ টেনে ইরফান বলেন, ‘আমার মনে আছে, ঋদ্ধিমান সাহা প্রায় ১ বছর কোন ক্রিকেট না খেলেই ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়ে গেছিল। সাহার অনুপস্থিতিতে রিশাভ পান্ত ডাবল সেঞ্চুরি করেছিল। তবু সাহাকেই আগলে রাখা হয়েছিল। কিছু খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এমন হয়, অনেকেই ক্ষেত্রে হয় না। আর আমি সেই দুর্ভাগাদের দলে।’

শুধু ২০১২ সালেই নয়, ইরফানের অভিযোগ ২০০৮ সালেও অনৈতিকভাবে তাকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে জিজ্ঞেস করেও সদুত্তর পাননি তিনি। নিজ দেশকে জেতানোর পরের ম্যাচেই বাদ পড়ার রহস্য আজও খুঁজে পান না ইরফান।

তিনি বলেন, ‘মাহি (ধোনি) বলেছিল যে ২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়া সিরিজে আমি ভালো বোলিং করিনি। তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার মন্তব্য ঠিক করে করো। আমি তো পুরো সিরিজেই ভালো বোলিং করেছি। এর চেয়ে বেশি কী করতে পারি?’

‘আমার মনে আছে, ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের পরের ম্যাচেই আমাকে বাদ দেয়া হয়। আপনিই বলুন, নিজ দেশকে জেতানোর পরের কাকে বাদ পড়তে হয়? কোন ম্যাচ উইনারকে দলের বাইরে থাকতে হয়? আমাকে তা করতে হয়েছে।’

২০০৩ থেকে ২০১২ পর্যন্ত বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২৯ টেস্টে ১১০৫ রান ও ১০০ উইকেট, ১২০ ওয়ানডেতে ১৫৪৪ রান ও ১৭৩ উইকেট এবং ২৪ টি-টোয়েন্টিতে ১৭২ রানের পাশাপাশি ২৮ উইকেট শিকার করেছেন ইরফান।

এসএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]