বারান্দা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন ভারতীয় ওপেনার

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩২ পিএম, ০৪ জুন ২০২০

যেকোন খেলাধুলায় মানসিক বিষয় খুব বড় একটা প্রভাব ফেলে থাকে। প্রায়ই দেখা যায় মানসিক অবসাদের কারণে খেলা ছেড়ে দেন অনেকে, আবার অনির্দিষ্টকালের বিরতিও নিতে দেখা যায় অনেককে। সবশেষ উদাহরণ অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

কমবেশি প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজেদের ক্যারিয়ারের একটা সময়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। যা থেকে আসে মানসিক বিষাদ এবং মানসিক অবস্থা থেকে আসে বিভিন্ন নেতিবাচক চিন্তা। যা কখনও কখনও মাথায় চাপিয়ে দেয় আত্মহত্যার পরিকল্পনাও।

ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রবিন উথাপ্পাই যেমন। জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া এবং ক্রিকেট বন্ধ থাকার হতাশায় বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়তে চেয়েছিলেন তিনি। বারবার তার মধ্যে কাজ করতো আত্মহত্যার চিন্তা। যা একটা সময় খুব ভুগিয়েছে তাকে।

আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের সেই অন্ধকার সময়ের গল্প শুনিয়েছেন উথাপ্পা। দীর্ঘদিন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার পর আসন্ন মৌসুমেই রাজস্থানে যোগ দিয়েছেন তিনি।

উথাপ্পা বলেছেন, ‘২০০৬ সালে আমার যখন অভিষেক হয়, আমি তখন নিজের ব্যাপারে সচেতন ছিলাম না। এরপর অনেক কিছু শিখেছি, খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। এ মুহূর্তে আমি নিজের ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক এবং নিজের চিন্তাভাবনার প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ফলে কোথাও যদি ভুলও হয়ে যায়, সেটা সহজেই ধরতে পারি।’

‘আমি মনে করি, এ জায়গায় পৌঁছতে পারার বড় কারণ হলো, আগে খুবই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি আমি। ক্লিনিক্যালি খুবই হতাশ ছিলাম, প্রায়ই আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় চেপে বসতো। আমার মনে আছে, ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এটা নিত্যদিনকার বিষয় ছিলো।’

‘এমনও অনেক সময় গেছে, যখন আমি ক্রিকেট নিয়ে চিন্তাও করতাম না। ক্রিকেট তখন আমার মনের অনেক দূরের এক জায়গার জিনিস। আমি ভাবতাম কীভাবে আজকের দিনটা অতিক্রম করবো এবং পরেরদিনে যাব। আমি কী করছি, জীবনে কী হচ্ছে, কী হবে- এসবই ভাবতাম শুধু।’

‘যখন ক্রিকেট থাকত, তখন এসব চিন্তাভাবনা আসত না। কিন্তু ম্যাচ না থাকার দিনগুলো বিশেষ করে অফ সিজনে এটা খুবই কঠিন ছিল। সেসব দিনগুলোতে আমি বসে বসে এক-দুই-তিন গুনতাম, ভাবতাম এখনই বারান্দা দিয়ে লাফিয়ে পড়ব। তবে কিছু একটা জিনিস আমাকে তখন আটকে রাখত।’

‘এরপর আমি আমার বিষয়গুলো একটা ডায়েরিতে লিখে রাখতাম এবং নিজেকে ব্যক্তি মানুষ হিসেবে চেনার চেষ্টা করতাম। তখন জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য বাইরের সাহায্যও চাইতে শুরু করি। এটা কাজে দিয়েছে।’

এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]