রফিক ভাই থাকতে আমাকে কেন, ভেঙ্কটপতি রাজুর বিস্ময়মাখা প্রশ্ন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ০৬ জুন ২০২০

আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখন এক আক্ষেপের নাম। অনেকের মুখেই আফসোস-‘আহা, ঘরের ছেলে বুলবুল থাকতে আমরা বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভিনদেশি কোচের পিছনে ছুটছি।’

দেশের ক্রিকেটের বড় তারা অভিষেক টেস্টের সেঞ্চুুরিয়ান ও ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে দেশকে প্রথমবার নেতৃত্ব দেয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুল অনায়াসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হেড কোচ, ব্যাটিং কোচ কিংবা ‘এ’ দল অথবা এইচপি’র দায়িত্ব নিতে পারতেন।

একই কথা প্রযোজ্য মোহাম্মদ রফিকের বেলায়ও। এ কিংবদন্তিতুল্য বাঁহাতি স্পিনারকে নিয়েও আক্ষেপের শেষ নেই। তাকে নিয়েও অনেক আশার স্বপ্ন দেখেছেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। কিন্তু সে স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে গেছে।

২০০৮ সালের মার্চে জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নেমেছেন মোহাম্মদ রফিক। তারপর কেটে গেছে এক যুগের বেশি সময়। অনেকেরই ধারণা ছিল, রফিক হবেন ভবিষ্যত স্পিনার গড়ার কারিগর। তার নিজেরও ইচ্ছে ছিল, দেশের বোর্ডের হয়ে কাজ করার। এ ১২ বছরে জাতীয় দল , ‘এ’ দল কিংবা অন্তত হাই পারফরমেন্স ইউনিটের কোচিং করানোর অভিপ্রায় ছিল তার। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

অথচ এ সময়ে অনেক স্পিন কোচই এসেছেন। স্পিনার হিসেবে তার ধারে কাছে ছিলেন না, অথচ সেই লঙ্কান রোয়ান কালপাগেও মাঝে কয়েক বছর স্পিন কোচের দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

এরপর ভারতের দুই বাঁহাতি স্পিনার ভেঙ্কটপতি রাজু আর সুনিল জোশিও কাজ করেছেন জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে। এছাড়া পাকিস্তানের মুশতাক আহমেদ ও সাকলাইন মুশতাক বিভিন্ন সময় স্পিন উপদেষ্টা হিসেবে এসেছিলেন।

কিন্তু দেশের রত্ন মোহাম্মদ রফিক সুযোগ পাননি কখনো। তাকে বিসিবির পক্ষ থেকে জাতীয় দল তো বহুদূরে, বয়সভিত্তিক দল এমনকি অনূর্ধ ১৭ বা অনূর্ধ ১৯ দলের স্পিন কোচের দায়িত্বও দেয়া হয়নি।

অথচ শুনে অবাক হবেন, ঘরের ছেলে রফিককে বাইরে রেখে যাদের বিভিন্ন সময় দায়িত্ব দিয়ে আনা হয়েছিল, তারা নিজেরাই রফিকের প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। কাল শুক্রবার রাতে নামি ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের সাথে এক ইউটিউব লাইভে রফিক জানালেন এ মজার তথ্য।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরির আগে কয়েক বছর বাংলাদেশের স্পিন কোচ ছিলেন ভারতের সুনিল জোশি। তার আগে অল্প কিছু দিনের জন্য বিসিবির ডাকে সাড়া দিয়ে স্পিন কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করতে এসেছিলেন ভারতের আরেক সাবেক বাঁহাতি স্পিনার ভেঙ্কটপতি রাজু।

টেস্ট আর ওয়ানডেতে সুনিল জোশি (১৫ টেস্টে ৪১ উইকেট আর ৬৯ ওয়ানডেতে ৬৯ উইকেট) ও ভেঙ্কটপতি রাজু (২৮ টেস্টে ৯৩ উইকেট আর ৫৩ ওয়ানডেতে ৬৩ উইকেট) রফিকের (৩৩ টেস্টে ১০০ উইকেট আর ১২৫ একদিনের ম্যাচে ১২৫ উইকেট) চেয়ে পিছিয়ে। যে কোনো মানদন্ড ও বিচারে রফিক ঐ দুই ভারতীয়র চেয়ে বড় ও ভালো মানের স্পিনার ছিলেন। অতি বড় জোশি ও রাজু ভক্তও হয়তো তাই মানবেন।

সেই সুনিল জোশি আর ভেঙ্কটপতি রাজু বাংলাদেশে এসেছেন স্পিন কোচ ও উপদেষ্টা হয়ে। অথচ মোহাম্মদ রফিক নিজের দেশেই উপেক্ষিত। এমনটা দেখে ও শুনে তখন খানিক লজ্জাই পেয়েছিলেন ভেঙ্কটপতি রাজু। রফিকের মত স্পিন লিজেন্ড থাকতে তাকে কেন আনা হয়েছে? সে প্রশ্নও ছুঁড়ে দিয়েছিলেন।

রাজুর অবাক হওয়া ও লজ্জা পাবার কারণও ছিল। কারণ ভারতের হায়দরাবাদে তার নিজের কোচিং একাডেমিতে রফিককে নিয়ে গিয়েছিলেন স্পিনের ওপর ক্লাস নিতে। সেই রফিক বসে আছেন। আর তাকে বাংলাদেশে স্পিন উপদেষ্টা করে আনা হয়েছে তাকে। এটা তো আসলেই অবাক করার মতো ব্যাপার!

এসব ঘটনা তাকে কতটা কষ্ট দিয়েছে? এসব দেখার পর নিজের মনকে কি বলে প্রবোধ দেন মোহাম্মদ রফিক? গতকাল রাতে সে ঘটনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বাঁহাতি এই স্পিন কিংবদন্তি বলেন, ‘সুনিল জোশির কথা নাইবা বললাম, ভেঙ্কটপতি রাজুর ঘটনা বলি। তাকে দায়িত্ব দিয়ে আনা হয়েছিল। ঐ রাজু যখন বিসিবি একাডেমিতে এসে কাজ করছিলেন, তখন বলেছিলেন, আমি খুব অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে রফিক ভাই থাকতে আপনারা আমাকে নিয়ে এসেছেন কেন?’

‘রাজু বলছিলেন-এই রফিক ভাইকে নিয়ে গিয়েছিলাম আমার একাডেমিতে। তিনি সেখানে ৭ দিনের কোচিং প্রোগ্রাম করে আসেন। তার কাছ থেকে তো আমিই শিক্ষা নেই। তিনি থাকতে আমাকে স্পিন উপদেষ্টা করে আনার কি দরকার ছিল?’

রফিকের দাবি, তারপর ভেঙ্কটপতি রাজুকে আর আনা হয়নি।

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]