শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে রাজি নন ক্রিকেটাররা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০০ পিএম, ১৫ জুন ২০২০

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় করোনাভাইরাস মহামারীর রূপ নেয়নি। করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা তুলনামূলক বেশ কম। তাই লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড মুখিয়ে আছে বাংলাদেশের সঙ্গে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আয়োজনের জন্য।

আগামী মাসেই আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা বাংলাদেশ জাতীয় দলের। শ্রীলঙ্কার অবস্থা যেমনই থাকুক না কেন, বাংলাদেশে এখন করেনার যে ভয়াবহ রুপ, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাতে করে মুমিনুল হকের দল কি শ্রীলঙ্কা যাবে?

বিসিবি কি শ্রীলঙ্কা সফর বহাল রাখবে? নাকি ভারতের মত খেলতে না যাওয়ার কথা জানিয়ে দেবে? এ মুহূর্তে ক্রিকেট ভক্ত, সমর্থক তথা ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার জিজ্ঞাসা? বিসিবি অবশ্য এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জাগো নিউজকে জুন মাসের শুরু থেকেই বলে আসছেন, বর্তমান পরিস্থিতি রীতিমত উদ্বেগজনক। এরকম অবস্থায় আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া আর কি-ইবা করতে পারি।

তবে বিসিবির এ অন্যতম শীর্ষকর্তা বারবারই বলেছেন, আশা করি চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলব।

ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দীন চৌধুরী সুজনের কেউই এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাস্পিয়নশিপ খেলতে না যাওয়ার ঘোষণা না দিলেও ভেতরের খবর, করোনার এ ভয়াবহ তান্ডবে টাইগারদের আপাতত শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়।

বোর্ড ধীরে চলো নীতি অবলম্বনের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করলেও, ক্রিকেটাররা এখন টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরের বিপক্ষে। কেউই উৎসাহী ও ইচ্ছুক নন। জানা গেছে, রোববার রাতে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (কোয়াব) ভিডিও কনফারেন্সে বর্তমান ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটাররা সবাই মিলে শ্রীলঙ্কা খেলতে না যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

যদিও ঐ ভিডিও কনফারেন্স শেষে কোয়াবের পক্ষ থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এখনই শ্রীলঙ্কা সফর বাতিলের ঘোষণা দেয়ার দাবি করা হয়নি। নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে কোয়াব বলেছে, ‘বিসিবি দেশের বর্তমান স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ পূর্বক সরকারের সাথে কথা বলে যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে এখন করোনার ব্যাপক বিস্তৃতি। দেশে নতুন করে কঠোর লকডাউনের চিন্তা ভাবনাও চলছে। এরকম অবস্থায় শ্রীলঙ্কায় খেলতে যাওয়ার অর্থ মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গন। তাই ক্রিকেটাররা কোয়াবের সভায় শ্রীলঙ্কা সফর বাতিলের পক্ষেই মত দিয়েছেন। কোয়াবের লিখিত বক্তব্যেও পরিষ্কার যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কায় খেলতে যাওয়ার বিপক্ষেই তাদের অবস্থান।

রোববার হওয়া কোয়াবের এ সভায় ভিডিও কনফারেন্সে কোয়াব সভাপতি নাইমুর রহমান দুর্জয়, সহসভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন, সদস্য সচিব দেবব্রত পাল, মুশফিকুর রহীম, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, তুষার ইমরান, আব্দুর রাজ্জাক, জহুরুল ইসলাম অমি, এনামুল হক জুনিয়র, শাহরিয়ার নাফীস, নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নাইম শেখ অংশ নেন।

কোয়াব সদস্য সচিব দেবব্রত পাল জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘কোয়াব মনে করে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন ঝুকিপূর্ণ। জাতীয় দলের অনুশীলন (সেটা একক বা দলগত- যেমনই হোক না কেন) করাটাও ঝুকিপূর্ণ। আপাতত কোয়াব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে কোয়াবের পরবর্তী সভায় পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্তে নেয়ার কথা আলোচিত হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, রোববার সভায় মূলত শ্রীলঙ্কা সফর নিয়েই কথা হয়েছে এবং সফর নিয়ে সম্ভাব্য সব রকম প্রসঙ্গই আলোচিত হয়। জানা গেছে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের কেউই এখন শ্রীলঙ্কা যেতে চাচ্ছেন না।

এ সম্পর্কে সবার মত এক ও অভিন্ন। খেলাটা টেস্ট। তাও এক-দুইটি নয়, তিন তিনটি ম্যাচ। যার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি দরকার। কিন্তু কঠিন সত্য হলো, একজন ক্রিকেটারও সেভাবে তৈরি নন। যার যার বাড়িতে বিসিবি ট্রেনার ও ফিজিওর পরামর্শ মেনে ফিজিক্যাল এক্সরসাইজ করলেও, একটি তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবার জন্য যেমন ফিটনেস এবং স্কিল ট্রেনিং দরকার- তার কিছুই হয়নি।

তার চেয়ে বড় কথা, এটা ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে র‌্যাংকিংয়ের বিষয়টাও জড়িত। এটা তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে সিরিজ নয় যে, অল্প প্রস্তুতি নিয়ে ৪-৫ দিনের মধ্যে সফর শেষ করে চলে আসা যাবে।

সব মিলে গোটা পরিবেশ প্রেক্ষাপট আসলে তিন ম্যাচের ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যাওয়ার বিপক্ষে। তাই এরকম অপ্রস্তুত অবস্থায় করোনার শঙ্কা নিয়ে খেলতে যাওয়ার কোন মানেই হয় না।

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]