এবার মুখ খুললেন কামরান আকমল

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ৩০ জুন ২০২০

তারা আলোচনায় থাকতে যেন পছন্দ করেন। কথায় হোক কিংবা কাজে। আকমল ভাইরা যেমন প্রতিভাবান, তেমনি নানা কাণ্ড ঘটাতেও উস্তাদ। উমর আকমলের মতো প্রতিভা তাই শেষ হওয়ার পথে। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর সবশেষ ফিক্সিংয়ে নাম জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন উমর।

বড় ভাই কামরান আকমল অবশ্য পাকিস্তান দলের পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে যাননি। তবে উপেক্ষিত আছেন দীর্ঘদিন ধরে। সর্বশেষ উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান দেশের হয়ে খেলেছেন তিন বছর আগে, ২০১৭ সালে।

তারপর যে বাদ পড়েছেন, আর ডাক পাননি। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেট আর টি-টোয়েন্টি আসর পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বড় বড় সব রেকর্ড গড়ে বসে আছেন কামরান আকমল। ৩৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান পিএসএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৫৫ ইনিংসে করেছেন ১৫৩৭ রান।

টুর্নামেন্টের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডটিও তার দখলে। উইকেটরক্ষক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল (৪৪) কিংবা এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড (১২)-সবই করেছেন কামরান আকমল।

পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলা এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান পিএসএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক। ২০১৯ মৌসুমে ৩৫৭ রান করে ছিলেন আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তার আগের বছর ৩৮.৬৩ গড় আর দেড়শোর ওপর স্ট্রাইকরেটে ৪২৫ রান করেন।

এবারের মৌসুমটি যদিও অত ভালো যায়নি। ৯ ইনিংসে তার উইলো থেকে এসেছে ২৫১ রান। তবে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ৫৫ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস আছে এই মৌসুমেই। এমন পারফরম্যান্সের পর অন্ততপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়ার দাবি তো করতেই পারেন। সেটিও হয়নি। কেন?

কামরান আকমল এবার মুখ খুললেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন, এমন দাবি করলেন। ক্রিকেট পাকিস্তানের একটি অনুষ্ঠানে কামরান বলেন, ‘আমি ঘরোয়া ক্রিকেট আর পিএসএলে গত পাঁচ বছর ধরেই পারফর্ম করছি। কিন্তু পাকিস্তানের হয়ে খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি। বিগত সময়গুলোতে কয়েকজন কোচ আছেন, যারা আমাকে পছন্দ করতেন না। এজন্য আমাকে সাইডলাইনে রাখা হয়।’

অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েডের উদাহরণ টেনে কামরান আকমল বলেন, ‘টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি দলে আমাকে না নেয়াটা অযৌক্তিক। কেননা একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি অনায়াসেই খেলতে পারি। যদি ম্যাথু ওয়েড ১৮-২০ গড় নিয়ে দলে ফিরতে পারে, ৬০-এর কাছাকাছি গড় নিয়েও আমি কেন পারছি না?’

ভাই উমর আকমলের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও ক্ষোভ আছে কামরানের। দলের অধিনায়ক ও ম্যানেজম্যান্ট যদি ঠিকভাবে চালাতে পারতেন, তবে উমরের এই দশা হতো না, মনে করেন কামরান। তার ভাষায়, ‘পাকিস্তানের ক্রিকেটে মাঠের বাইরের কান্ড নতুন কিছু নয়। টিম ম্যানেজম্যান্ট এবং অধিনায়ককে জানতে হবে এমন খেলোয়াড়দের কিভাবে আয়ত্বে আনা যায়। দেখুন ইনজি ভাই (ইনজামাম) কিভাবে শোয়েব (আখতার), আসিফ আর শহীদকে (আফ্রিদি) পরিচালনা করেছেন। যদি উমর আকমলকে সেভাবে চালানো হতো, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো।’

এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]