অনুমতি ছাড়া মিডিয়ার সাথে কথা বলা নিষেধ আকবর আলীদের!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ১২ জুলাই ২০২০

বিশ্বজয়ী যুবাদের কি মিডিয়ার সাথে কথা বলতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে? এ কারণেই বুঝি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন যুব দলের অধিনায়ক আকবর আলী শনিবার জাগো নিউজের ফোন পেয়ে শুরুতে আড়ষ্ট ছিলেন কথা বলতে গিয়ে।

সরাসরি বলেননি যে, আমাদের প্রচার মাধম্যের সাথে সব রকম কথা বলা নিষেধ। তবে আকার-ইঙ্গিতে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, সৌজন্যতা বিনিময় ছাড়া মিডিয়ার সাথে কোনরকম ক্রিকেটীয় কথোপকোথন বন্ধ।

অনুর্ধ-১৯ দলের অধিনায়ক যখন কথা বলতে গিয়ে শুরুতেই থেমে যান এবং আনুষ্ঠানিক কথোপকথনে যেতে দ্বীধায় ভোগেন, আদৌ কথা বলবেন কি বলবেন না, এমন পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটে- তখন ধরেই নিতে হয় যে ভিতরে কোন সমস্যা আছে।

তাই সঙ্গত কারণেই উঠেছে প্রশ্ন, তবে কি বিসিবির পক্ষ থেকে সত্যিই মিডিয়ার সাথে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যুব দলের ক্রিকেটারদের ওপর?

আজ রোববার বিকেলে বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটি প্রধান জালাল ইউনুসকে সে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘নাহ! নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। মিডিয়ার সাথে সব রকম কথা বার্তা বলাও নিষেধ করা হয়নি।’

তবে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা না বললেও বিসিবি মিডিয়া কমিটি প্রধানের কিছু কথায় পরিষ্কার বোঝা গেছে, যুব দলের ক্রিকেটারদের মিডিয়ার কাছ থেকে একটু নিরাপদ দুরত্বে রাখতে চাচ্ছে বিসিবি এবং সে কারণেই আকবর আলী, ইমন, তামিম, সাকিব, মাহমুদুল হাসান, রাকিবুল ও শরিফুলদের মিডিয়ার সাথে সরাসরি কথা বলার আগে মিডিয়া কমিটি, মিডিয়া ম্যানেজারের অনুমতি দেয়ার কথা বলে দেয়া হয়েছে।

জালাল জাগো নিউজকে এ ব্যাপারে খোলামেলা জানান, ‘না আমরা কথা বলতে নিষেধ করিনি। যেহেতু করোনার কারণে খেলাধুলা নেই। কোন ক্রিকেটীয় কার্যক্রমও নেই। তাই আমরা মিডিয়ার সাথে যুব দলের ক্রিকেটারদের কথা বলা প্রায় ফ্রি করে দিয়েছিলাম। অধিনায়ক আকবর আলীসহ একাধিক ক্রিকেটার বেশ কয়েকটি ইউটিউব ও ফেসবুক লাইভে কথাও বলেছে। যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থাকতো তাহলে তো আর ওসব প্রোগ্রাম করতে পারতো না।’

তবে বিসিবির মিডিয়া কমিটি চেয়ারম্যান এরপর যেটা বলেন, তার সারমর্ম হলো, যুবাদের কথা বলার আগে মিডিয়া কমিটির অনুমতির একটা শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।

জালালের ব্যাখ্যা, ‘ওরা (বিশ্বজয়ী যুবারা) এখনো বয়সে নবীন। অনেক স্পর্শকাতর বিষয় আছে। দেখা গেলো কেউ ভারতের সাথে ফাইনাল শেষ হওয়ার পরের ঘটনা নিয়ে জানতে চাইলো। যেহেতু তাদের বয়স কম। মিডিয়ার সাথে কথোপকোথনের অভিজ্ঞতাও খুব সামান্য। তাতে করে কথা বলতে গিয়ে কেউ একটু অন্যরকম বলে ফেলতে পারে। তাতে করে আবার একটা ইস্যু সৃষ্টি হবে।’

বিসিবি মিডিয়া কমিটি প্রধানের মোটা দাগে বলেন, ‘আসলে আমরা স্পেসিফিক কিছু বলি না। বোর্ড থেকে মিডিয়ার সাথে কথা বলায় কোনো রকম নিষেধাজ্ঞাও নেই। তবে যুবাদের অনুমতি নিয়ে কথা বলার কথা বলা হয়েছে।’

তার শেষ কথা এরকম, ‘তারা কে এখন কি করছে, কার দিনকাল কেমন চলছে? এসব নিয়ে কথা বলায় কোন সমস্যা নেই; কিন্তু আমরা অন্য কিছু চিন্তা করেই অনুমতি নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। কারণ, যেহেতু তারা ইয়াং, সবে আন্ডার নাইনটিন, এখনো মিডিয়ার সাথে কথা বলায় এক্সপার্ট হয়ে ওঠেনি। একটা সংশয় থেকেই যায় কি বলবে, না বলবে? তাই তাদের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছে।’

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]