করোনাকালে অনলাইনে ক্রিকেটারদের ক্লাস এবং মুমিনুলের উপলব্দি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ১২ জুলাই ২০২০

দীর্ঘদিন পর বিসিবির প্রেস রিলিজ। হেডিং, ‘ক্রিকেটাররা ফিট এবং তৈরি আছেন।’ শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে বোর্ডের কোন নির্দেশিকা বুঝি। আসলে তা নয়।

আজ রোববার ঠিক রাত পৌনে ৮ টায় বিসিবি থেকে মিডিয়া হাউজগুলোয় পাঠানো ওই দীর্ঘ মেইলে অনেক কথার ভিড়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে। এ দীর্ঘ সময়ে অনেক আন্তর্জাতিক সফর ও সিরিজ বাতিল হয়ে গেছে। ক্রিকেটারদেরও কিছু করার নেই। কারণ, বোর্ড থেকেই বলে দেয়া হয়েছে বাড়িতে থাকাই নিরাপদ। খুব স্বাভাবিকভাবেই এতে করে সত্যিকার অনুশীলন বা পুরোদস্তুর প্র্যাকটিস করা সম্ভব হয়নি।

ক্রিকেটাররা এ লম্বা সময়ে মূলতঃ ব্যক্তিগতভাবে ফিজিক্যিাল ফিটনেস ট্রেনিং করেই কাটিয়েছেন। সবাই কমবেশি বাসায় খালি হাতে ও জিম সামগ্রি ব্যাবহার করে ফিজিক্যাল ট্রেনিং করছেন, করছেনও। একই সময়ে বিসিবি থেকেও ক্রিকেটারদের ফিট থাকতে নানা রকম নির্দেশিকা দেয়া হয়েছে। ক্রিকেটাররা সেগুলোও মেনে চলছেন।

এছাড়া হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ও অন্য কোচিং স্টাফদের সাথে ক্রিকেটারদের অনলাইনে যোগাযোগ হচ্ছে। হেড কোচ এরই মধ্যে টেস্ট স্পেশালিস্টদের সাথে কথা বলেছেন এবং অন্য সব কোচরা সাদা বলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও অনলাইনেও কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাটিং ও পেস বোলিং কোচরাও অনলাইনে ক্রিকেটারদের করণীয় কাজ গুলো বলে দিয়েছেন।

মোটকথা, কোচদের সাথে ক্রিকেটারদের গ্রুপ চ্যাটিং চলছে। এদিকে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক বিভিন্ন কোচদের ভার্চুয়াল পরামর্শগুলোকে বর্তমান পরিবেশ ও প্রেক্ষাপটের আলোকে সহায়ক এবং কার্যকর বলে মনে করেন।

মুমিনুল হক জানান, ‘আমরা সবাই মাঠে ফিরতে মুখিয়ে আছি এবং সেটা যত দ্রুত সম্ভব।’ মুমিনুল সঙ্গে যোগ করেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে মাঠে নামতে না পারা এবং অনুশীলন করতে না পারার চেয়ে হতাশার আর কিছুই হতে পারে না।’

তিনি তাই বোঝানোর চেষ্টা করেন, ‘এই যে খেলার বাইরে থাকা এবং অনুশীলন করতে না পারা সময়ের ওইসব গ্রুপ চ্যাট এবং কোচদের পরামর্শ ও নির্দেশিকা অনেক কাজে দিচ্ছে।’

মুমিনুলের ভাষায়, ‘সেগুলো সাহায্য করছে। আর আমাদের ফোকাস রাখছে সেই সঙ্গে ক্রিকেটের সাথে নিবিঢ় সম্পৃক্তও করে রেখেছে। আর তাই ওই গ্রুপ চ্যাটগুলো অনেক গুরুত্ব ও সহায়ক হচ্ছে।’

হেড কোচ ও স্পেশালিস্ট কোচদের সাথে তাদের কেমন কথাবার্তা হচ্ছে? তারা কি সব নির্দেশিকা দিচ্ছেন- সে সম্পর্ক ধারণা দিতে গিয়ে মুমিনুল হক বলেন, ‘সিনিয়র থেকে শুরু করে দলের সর্বকনিষ্ট সদস্য পর্যন্ত সবাই ওই সব গ্রুপ চ্যাট এবং ডিসকাশনগুলোয় মন প্রাণ দিয়ে অংশ নিচ্ছেন। তাতে করে কোচদের পাশাপাশি সহযোগী ক্রিকেটারদের সাথে আইডিয়া শেয়ার করা সম্ভব হচ্ছে।’

মুমিনুল আরও জানান যে, ‘ওইসব গ্রুপ চ্যাটে ক্রিকেটারদের মনের দিক থেকে তৈরি থাকার কথা বলা হয়েছে। তাদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধির তাগিদ দেয়া হয়েছে।’

মুমিনুল জানান, ‘টাইগারদের টেস্ট পারফরমেন্স নিয়েও রীতিমত পর্যালোচনা হয়েছে এবং বলা হয়েছে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে তারা কি কি শিখতে পারেন, সে পরামর্শও দেয়া হয়েছে।’

মুমিনুলের শেষ কথা, ‘তাদের সাথে হেড কোচসহ অন্য কোচিং স্টাফের যে সব কথাবার্তা হয়েছে, নানা পর্যালোচনার পাশাপাশি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এসেছে তাতে করে সবাই নিজ নিজ পারফরমেন্স ও করণীয় সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা পেয়েছে এবং এটাও জেনে গেছে কার কি করণীয়? কখন কোথায় কি করতে হবে? আর কি করা যাবে না- সে ধারণাটাও জন্মেছে।’

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]