অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরিই নান্নুর চোখে ‘নাম্বার ওয়ান’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২০

পরিসংখ্যানকে মানদন্ড ধরলে তার নাম আসবে বেশ পরে, অনেকের পেছনে। কিন্তু মেধা, প্রতিভা ও সামর্থ্য বিবেচনায় মিনহাজুল আবেদিন নান্নু অনেকের ওপরে। ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেক বড়। পারফরমার হিসেবেও ছিলেন বেশ ভালো।

তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন অনেক কম। আর যা-ও খেলেছেন, সেটাও অনেক দীর্ঘ বিরতি দিয়ে। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৯- তের বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ওয়ানডে মোটে ২৭টি। ক্যারিয়ারের প্রথম ৭ বছরে একটি করে ৭ ম্যাচ খেলেছিলেন। পরের ৬ বছরে তবু ২০ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তার চেয়ে কম সময়ে সাকিব, তামিম ও মুশফিক-রিয়াদরা গড়পড়তা ২০০ ওয়ানডে খেলে ফেলেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর সাফল্য বলতে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের সাথে ম্যাচ জেতানো ফিফটি (৬৮*) আর একই আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৩ রানের হার না মানা ইনিংস। পরিসংখ্যান হয়তো তার সত্যিকার মেধা, সামর্থ্য নির্দেশ করছে না। তারপরও অনেকেরই মত, তিনি বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা উইলোবাজদের একজন।

৯৯‘র বিশ্বকাপের ঐ জোড়া হাফসেঞ্চুুরির কোনটি নান্নুর প্রিয়? ঘরের ক্রিকেট মানে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ (জাতীয় লিগের আগে সেটাই ছিল একমাত্র দীর্ঘ পরিসরের আসর), জাতীয় লিগ আর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটেই বা তার স্মরণীয় ম্যাচ কোনটি?

আজ দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতে জাগো নিউজের সাথে আলাপে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে সে গল্পই শোনালেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। জানিয়ে দিলেন, অংকের হিসেবে হয়তো স্কটিশদের সাথে এডিনবরায় খেলা ৬৮ রানের ইনিংসটি বড়, তবে সেটা ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেরা ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

চেস্টার লি স্ট্রিটের রিভারসাইড গ্রাউন্ডের সিমিং কন্ডিশনে গ্লেন ম্যাকগ্রা, ডেমিয়েন ফ্লেমিং, ব্রেন্ডন জুুলিয়ান আর শেন ওয়ার্নের সাজানো ভয়ঙ্কর ও ধারালো অজি বোলিংয়ের বিপক্ষে এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন ঘটলেও অপর প্রান্তে অনড় ছিলেন নান্নু। শেষ পর্যন্ত ৫৩ রানের হার না মানা ইনিংস বেরিয়ে আসে তার ব্যাট থেকে। তাই নান্নুর চোখে, সেটাই সেরা।

জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘৯৯ বিশ্বকাপে চেস্টার লি স্ট্রিটে করা ৫৩ রানের ইনিংসটি আমার খেলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ইনিংস। নাম্বার ওয়ান। বল প্রচন্ড সুইং করছিল। ম্যাকগ্রা, ফ্লেমিং আর জুলিয়ানরা এমনিতেই সুইংয়ের মাস্টার। তার মধ্যে উইকেটেও ছিল বাড়তি ম্যুভমেন্ট। তাদের বল অফস্টাম্প ও তার আশপাশে পড়ে কখনো ভেতরে আসছিল, আবার কখনো বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল। আর স্পিন জাদুকর শেন ওয়ার্নের বল তো লাটিমের মত ঘুরছিল। সেই বোলিংয়ের বিপক্ষে ৯১ রানে দলীয় ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয়ে যাবার পর আমি একাই অন্যদিক আগলে ছিলাম।’

তবে স্কটল্যান্ডের সাথে ইনিংসটিকে নান্নু মনে রেখেছেন অন্য কারণে। সেটাই ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়। আর তিনিই দলের খুব করুণ অবস্থায় ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে একটি লড়ার মত পুঁজি গড়ে দিয়েছিলেন। এবং সে ইনিংসের ওপর ভর করে খুব খারাপ অবস্থা থেকে (২৪ রানে ৫ উইকেট পতনের পর) একটা লড়িয়ে স্কোর গড়ে পরে ২২ রানের স্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার স্মরণীয় ম্যাচ বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে ২০০১ সালে জাতীয় লিগে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে ঢাকার বিপক্ষে ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরির ম্যাচটি সবচেয়ে স্মরণীয়।

নান্নু বলেন, ‘এখনও মনে আছে আমি প্রথম ইনিংসে ২১০ করেছিলাম। আর পরের ইনিংসে করেছিলাম ১২৭ রান। এর বাইরে ঢাকা লিগে বছরটি ঠিক আমার মনে নেই, তবে খুব সম্ভবত ৮৭-৮৮ কিংবা ৮৮- ৮৯ হবে, আবাহনীর বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দুই দিনের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছিলাম। আবার বল হাতে ৪ উইকেট শিকার করে দলের জয়ের নায়কও বনে গিয়েছিলাম। সে খেলাটির কথা এখনও বেশ মনে আছে। আবাহনীর পক্ষে ঐ ম্যাচ খেলেছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক দুলীপ মেন্ডিস।’

সর্বাধিক ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলা নান্নু এর বাইরে আরও একটি ইনিংসের কথা কখনো ভুলবেন না। সেটা তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে। তখনো ওয়ানডে খেলেননি। ১৯৮৫-১৯৮৬ ‘তে। কুমিল্লা স্টেডিয়ামে কুমিল্লা লিগে ৪০ ওভারের এক ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুুরি করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন।

নান্নুর ভাষায়, ‘এখনো মনের আয়নায় সে ম্যাচের স্মৃতি জ্বলজ্বল করছে। সেটা ছিল ৪০ ওভারের ম্যাচ। এখনো মনে আছে আমি ৩৩ ওভারে গিয়ে শতরান পূর্ণ করেছিলাম। আর পরের ৭ ওভারে ৪২ বলে বেশির ভাগ ডেলিভারি স্ট্রইক নিয়ে খেলে ঐটুকু সময়ে দ্বিতীয় ১০০ ‘ও করে ফেলেছিলাম। একই ম্যাচে আমি প্রথম বুলবুলকে দেখি। সেটাই তার সাথে আমার প্রথম এক দলে খেলা। এবং যতটুকু মনে পড়ে বুলবুল আর আমার পার্টনারশিপ ছিল প্রায় ২০০ রানের। বুলবুল ৪০ থেকে ৫০ রানের ভালো সাপোর্ট দিয়েছিল।’

সে ম্যাচের মজার স্মৃতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে নান্নু যোগ করেন, ‘স্টেডিয়ামের পাশে একটি পুকুর ছিল। আমার হাঁকানো অন্তত ৫ থেকে ৬ টি ছক্কা স্টেডিয়ামের বাইরে ঐ পুকুরে গিয়ে পড়েছিল।’

এআরবি/এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]