বিশ্বকাপ জয়ের পর কেন শচিনকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন কোহলি?

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২০

৯ বছর আগে মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে যখন শিরোপা উল্লাসে মেতে উঠেছিল ভারত, তখন হঠাৎ দেখা গেলো শচিন টেন্ডুলকারকে কাঁধে নিয়ে হাঁটছেন তখনকার ২২ বছর বয়সী তরুণ বিরাট কোহলি। সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা করছিলেন সুরেশ রায়না, ইউসুফ পাঠান এবং হরভজন সিংরা। কিন্তু শচিনকে বলতে গেলে একাই কাঁধে নিয়ে ল্যাপ অব অনার দিয়েছিলেন কোহলি।

কেন সেদিন বিরাট কোহলি শচিনকে এভাবে কাঁধে নিয়ে হাঁটলেন? প্রায় এক দশক পর সেটা জানালেন বর্তমান ভারত অধিনায়ক। বললেন, ‘আমরা জানতাম, ওটাই ছিল পাজির (শচিন) শেষ সুযোগ। এই সময়ে এসে বিশ্বকাপ জয়ের পর এমন একটা সম্মান তার পাওনাই ছিল।’

২৮ বছর অপেক্ষার পর ২০১১ সালে শচিন-শেবাগ, ধোনি-কোহলিদের হাত ধরে বিশ্বকাপ জয় করেছিল ভারত। এর মধ্যে শচিনের ২৪ বছরের ক্যারিয়ার ছিল প্রায় শেষের দিকে। এই অন্তিমলগ্নে এসে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পূরণ হওয়ায় শিশুর মতো আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিলেন শচিন।

নিজের ঘরের মাঠে অনাবিল আনন্দে মেতেছিলেন লিটল মাস্টার। তার আনন্দ দ্বিগুণ করে দিয়েছিলেন সতীর্থরা। মাস্টার ব্লাস্টারকে কাঁধে তুলে পুরো মাঠ প্রদিক্ষণ করেছিলেন বিরাট কোহলিরা।

শচিনকে কাঁধে নিয়ে ‘ভিকট্রি ল্যাপ’-এর রহস্য ফাঁস করে বর্তমান ভারত অধিনায়ক। সম্প্রতি ভারতীয় টেস্ট দলের ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়ালের সঙ্গে এক অনলাইন চ্যাট শো-তে বিরাট কোহলি বলেন, ‘প্রথমত এটা ছিল আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। আমরা ভীষণ আনন্দের মধ্যে ছিলাম; কিন্তু আমাদের আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ‘পাজি’ (শচিন টেন্ডুলকার)। কারণ আমরা প্রত্যেকে জানতাম, এটাই শচিনের বিশ্বকাপ জয়ের শেষ সুযোগ। দেশের জন্য তিনি যা করেছেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। বেশিরভাগ ম্যাচে ভারতকে জেতানোর ক্ষেত্রে শচিন ছিলেন আমাদের সবার অনুপ্রেরণা ও মোটিভেশন।’

২০১১ সালের ২ এপ্রিল মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় করে ভারত। কপিল দেবের ১৯৮৩ সালের পর মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় টিম ইন্ডিয়া। ২৮ বছর পর অপেক্ষার অবসান ঘটে। সে সঙ্গে শচিনের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। ক্যারিয়ারে সব কিছু থাকলেও বিশ্বকাপ জয় না হলে অপূর্ণ থেকে যেত শচিনের ২৪ বছরের ক্যারিয়ার।’

বিরাট বলেন, ‘দেশের জন্য শচিন যা করে দিয়েছে, এটা তারই পুরস্কার। আমার মনে হয়, ঘরের মাঠে বিশ্বজয়ের স্বপ্নপূরণের চেয়ে বড় পুরস্কার আর কিই বা হতে পারে! তাই শচিনকে কাঁধে নিয়ে আমরা ‘ল্যাপ অফ অনার’ দিয়েছিলাম। আমাদের মনে হয়েছিল, এটাই শচিনের জন্য আর্দশ। তাই আমরা ওটা করেছিলাম।’

আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]