অক্টোবরে শ্রীলঙ্কা সফর, ডিসেম্বরে বিপিএল!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২০

দেখতে দেখতে বয়ে যাচ্ছে সময়। সেই মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বন্ধ ক্রিকেট। স্থবির দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। এর মধ্যে আবার ঈদুল আজহার দুই সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছিল ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলন।

ঈদের ছুটির পর আগামী রোববার সেই অনুশীলন আবার শুরু হওয়ার কথা। এর পাশাপাশি আরও একটি খবর বেশ সাড়া জাগিয়েছে। তাহলো জাতীয় দলের শ্রীলঙ্কা সফর।

নানা সূত্র প্রায় নিশ্চিত করেছে যে, আগামী অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার সাথে তিন ম্যাচের আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নে অংশ নেবে বাংলাদেশ জাতীয় দল। পাশাপাশি তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনেরও প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি।

এখন ওই সিরিজ দুটির ভবিষ্যৎ, ঘরোয়া ক্রিকেট, বিপিএল, ডিপিএল’র ভবিষ্যৎ কি? এ বছর কি ওই দুই লিগ আর হবে না? হলে কখন কীভাবে হবে? তা নিয়েও হয়তো মিডিয়ার সাথে খোলামেলা কথাবার্তা বলবেন পাপন।

কিন্তু লন্ডন থেকে মূত্রাশয়ে অস্ত্রোপচার করে আসা এ অন্তঃপ্রাণ ক্রিকেটব্যক্তিত্ব শেষ পর্যন্ত শেখ কামালের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও আসতে পারেননি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেছেন।

বিসিবি প্রধানের হয়ে অনুষ্ঠানে কথা বলেন বোর্ড পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস। অনেক কথার ভিড়ে বিসিবি মিডিয়া কমিটি চেয়ারম্যান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি ভালো না হলে দেশের মাটিতে হোম সিরিজ বা বাইরে খেলতে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।

তিনি আগামী অক্টোবরে শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের ইচ্ছের কথাও জানিয়েছেন।

চার মাস পর বোর্ডে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপে জালাল ইউনুস বলেন, ‘ক্রিকেট মাঠ অনেক মিস করি। আমরাও খেলার মাঠে ছিলাম এক সময়। সংগঠক হলেও আমাদের যোগসূত্র কিন্তু খেলার মাঠের সাথেই। কয়েক দিন আগে স্টেডিয়াম নিয়ে একটা মিটিং ছিল। সেদিন এসেছিলাম চার মাস পর। সবুজ মাঠ দেখে খুব ভালোই লেগেছিল। মাঠের ভেতরে প্রবেশ না করা পর্যন্ত শান্তি আসছিল না। মাঠকে না দেখে ফেরত যাওয়া যাবে না। মাঠ মানেই খেলা। খেলা মানেই সংগঠক। সবাইকে মিলিয়ে স্পোর্টস। ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ। কিছু করার নেই। সামনে যদি পরিস্থিতি ভালো হয়, অবশ্যই আমরা মাঠে ফিরে আসবো।’

বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘তারা (বোর্ড) ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাতীয় দলকে ফেরাতে বদ্ধপরিকর।’

তাই মুখে এমন বক্তব্য, ‘ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর চিন্তা অনেক দিন ধরেই মাথায় আছে। আমরা অনেক দিন ধরেই পরিকল্পনা করছি কীভাবে করা হয়। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত অনুশীলনের অনুমতি দিয়েছি কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে। সামাজিক দূরত্ব মেনে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা একটা পর্ব অলরেডি হয়েছে। সামনেও হবে। এছাড়া জাতীয় দলের স্কোয়াডে যারা আছে তাদেরও ধীরে ধীরে সম্পৃক্ত করা হবে। শিগগিরই হয়তো তারা মাঠে নামবে।’

সব কিছুর আগে করোনার কথা চিন্তা করার জোর তাগিদ জালালের কণ্ঠে, ‘ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সব কিছু শুরু করতে হবে।’

করোনার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্থগিত হওয়া পাঁচ সিরিজের মধ্যে একাধিক সিরিজ খেলতে আগ্রহী বিসিবি। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের বোর্ডের সাথে যোগাযোগও করেছেন।

সে কথা স্বীকার করে জালাল জানান, ‘যে সব দেশে খেলা নিরাপদ, সেখানে আমরা খেলতে যেতে চাচ্ছি। কথাবার্তা চলছে। করোনার প্রকোপ কম কিংবা নেই বললেই চলে সে সব দেশে আমরা খেলতে যেতে পারি কিনা সে সব নিয়ে আলোচনা চলছে।’

প্রসঙ্গতঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে নিউজিল্যান্ডে একটা টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্লট ছিল। জালাল বলেন, ‘সুযোগ থাকলে বাংলাদেশ এ বছরই নিউজিল্যান্ড সফরে যেতে পারে। এ বছরই যদি কোনো সুযোগ পাই, নয়তো পরে বা আগে যদি সুযোগ আসে তাহলে আমরা যাব খেলতে।’

এদিকে শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে বেশ আশাবাদী জালাল। পাশাপাশি এ বছরের শেষ দিকে বিপিএল আয়োজনের জোর চিন্তাও তার মাথায় রয়েছে।

বিপিএলকে ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা আসর বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘বিপিএলকে আমরা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করছি। এখানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এসে খেলেন। যে পরিস্থিতি এখন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা আসবে কি আসবে না সেটা বড় প্রশ্ন। ফ্রাঞ্চাইজিরা প্রস্তুত কিনা সেটাও জানা জরুরি।’

জালালের কথা, ‘আগস্ট মাস যাক। সেপ্টেম্বরে আমরা চিন্তা ভাবনা করবো। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আমাদের স্লট আছে। সেখানে আমরা বিপিএল আয়োজনের চেষ্টা করবো।’

এআরবি/আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]