ওয়াসিম আকরাম কখনও আমার জুতা টানেননি, সরফরাজ-কাণ্ডে খেপেছেন শোয়েব

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০২০

কি দিন কি হয়ে যায়! একটা সময় যিনি ছিলেন দলের মাথা, পুরো দলকে মাঠে যিনি দিক-নির্দেশনা দিতেন। সেই সরফরাজ আহমেদকে এখন সতীর্থদের জন্য পানি, এমনকি জুতাও টানতে হচ্ছে!

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি টেস্টে পাকিস্তান একাদশে জায়গা হয়নি সরফরাজের। দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শাদাব খানের জন্য মাঠে পানি নিয়ে যান উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। এমনকি শাদাবের জুতা নিয়ে যাওয়ার কাজটিও করেছেন।

পুরো বিষয়টাই চোখে লেগেছে পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতারের। এই সরফরাজের অধীনেই ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতে পাকিস্তান। চারটি বছর জাতীয় দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। তার সঙ্গে এমন আচরণ কি করে করল টিম ম্যানেজম্যান্ট, বুঝে উঠতে পারছেন না রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস।

শোয়েব বলেন, ‌‌‘এটি দেখে আমার ভালো লাগেনি। করাচি থেকে উঠে আসা একটি ছেলের জন্য যদি এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করেন, তবে সেটা সঠিক হয় না। যে খেলোয়াড়টা পাকিস্তানকে চারটি বছর নেতৃত্ব দিয়েছে, দেশকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতিয়েছে, তার সঙ্গে আপনি এমন করতে পারেন না। তাকে দিয়ে জুতা টানালেন! যদি সে নিজে থেকেও এটা করতে চায়, আটকানো উচিত ছিল। ওয়াসিম আকরাম কখনও আমার জন্য জুতা বয়ে আনেননি।’

সরফরাজেরও সমালোচনা করতে ছাড়েননি শোয়েব। অধিনায়ক হিসেবে তিনি এমন দুর্বল চরিত্রের বলেই সাবেক কোচ মিকি আর্থার তার ওপর ছড়ি ঘুরাতেন মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা।

শোয়েবের ভাষায়, ‘এটাই প্রমাণ করছে, সরফরাজ কতটা নিরীহ এবং দুর্বল মানুষ। এজন্যই মিকি আর্থার সবসময় তার ওপর ছড়ি ঘুরাতেন। আমি বলছি না জুতা বহন করাটা সমস্যা। তবে সাবেক একজন অধিনায়ক এটা করতে পারে না।’

যদিও শোয়েবের এমন সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছেন না পাকিস্তানের কোচ কাম প্রধান নির্বাচক মিসবাহ উল হক। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানেই কেবল এসব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়। আমিও অধিনায়ক থাকা অবস্থায় যখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বসে ছিলাম, ১২তম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এতে লজ্জার কিছু নেই।’

সরফরাজকে নিয়ে মিসবাহ বলেন, ‘সরফরাজ যেমন দারুণ মানুষ, তেমন খেলোয়াড়ও। সে জানে এটা একটা দলীয় খেলা। যখন অন্য খেলোয়াড়রা বাইরে অনুশীলনে থাকে, তখন যাদের সুযোগ হয় তারা এটা করে। এতে অসম্মানের কিছু নেই। বরং সরফরাজ যে এমন কাজে কিছু মনে করছে না, সেটাই বড় ব্যাপার। এটাই ভালো দলের চিহ্ন।’

এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]