পাকিস্তান দলে রেকর্ড সৃষ্টি করা আসাদ নাকি ১১ বছর পর ফেরা ফওয়াদ!

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

২০০১৭ সালে মিসইউ’র (মিসবাহ-ইউনিস খান) বিদায়ের পর পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেট দল সত্যিকার একটি ট্রানজিশনাল পিরিয়ড পার করছে। ধীরে ধীরে নিজেদেরকে ট্র্যাকে তুলে আনার চেষ্টা আজহার আলিদের। কিন্তু বিদেশের মাটিতে টানা সাতটি টেস্ট হেরে যাওয়ার পর আজহার আলিদের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিশ্চিত হাতে থাকা একটি ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যে দলটি প্রথম ইনিংসে ১০৭ রানের লিড নিল, তারাই কি না দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়ে গেলো মাত্র ১৬৯ রানে। যার ফলে শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করতে হয়েছে ৩ উইকেটের ব্যবধানে।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে হারের পর আজ (বৃহস্পতিবার) আর কিছুক্ষণ পর সাউদাম্পটনের রোজবোলে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টের জন্য পাকিস্তান একাদশ কেমন হবে, তা নিয়ে জ্বল্পনা তুঙ্গে।

আজহার আলি তো এমনিতেই অধিনায়ক, তারওপর ব্যাট হাতেও একজন ভালোমানের পারফরমার। সুতরাং, তাকে বাদ দিয়ে একাদশ চিন্তাই করা যায় না। বাবর আজম অটো চয়েজ। মিডল অর্ডারে আসাদ শফিক নাকি ফওয়াদ আলম- এ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রথম ইনিংসে ৭ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্ভার্গের শিকার হন। ২৯ রানে হয়ে যান রানআউট। অর্থ্যাৎ, সময় যখন খারাপ আসে, তখন সব দিক দিয়েই আসে। আসাদ শফিকের এই পারফরম্যান্স- তাকে একাদশে রাখা না রাখার বিষয়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে ১১ বছর পর পাকিস্তান জাতীয় দলে ফেরা ফওয়াদ আলমকে কি মিডল অর্ডারে আসাদ শফিকের জায়গায় খেলানো হবে কি না তা নিয়ে দেশটির টিম ম্যানেজমেন্টের তুমুল মাথা-ব্যথার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিসবাহ-ইউনিসের বিদায়ের পর তাদের রেখে যাওয়া খালি স্থান পূরণের অন্যতম সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল আসাদ শফিকের মধ্যেই। শুধু তাই নয়, অভিষেকের পর ৫টি টেস্ট খেলেছেন দলে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর যে থিতু হয়েছেন পাকিস্তান টেস্ট দলে, টানা খেলেই যাচ্ছেন।

এখনও পর্যন্ত টানা ৭০টি টেস্ট খেলেছেন। সাউদাম্পটনে খেলতে নামলে ওটা হবে তার টানা ৭১তম টেস্ট। চোখ বন্ধ করে এটা পাকিস্তানের রেকর্ড। কারণ, আসাদ শফিকের আগে একটানা ৫৩টি টেস্ট খেলার রেকর্ড রয়েছে জাভেদ মিয়াঁদাদের।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও টানা টেস্ট খেলুড়েদের মধ্যেও অন্যতম আসাদ শফিক। বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে তার চেয়ে মাত্র একজন এগিয়ে রয়েছেন। তিনি হলেন অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়ন। টানা ৭৪ টেস্ট খেলেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট খেলেছেন টানা ৭৫ টেস্ট। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের শুরুতে ১টি টেস্ট খেলতে পারেননি তিনি। যে কারণে, রেকর্ডের তালিকায় তিনি আর চলমান নন।

প্রশ্নাতীতভাবেই পাকিস্তানের একাদশে থাকার কথা আসাদ শফিকের। মোট ৭৫টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। রানের গড় ৩৮.৮৯ করে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২৯ রানে রানআউট না হলে হয়তো ইনিংসটা আরো বড় করতে পারতেন তিনি।

মিসবাহ-ইউনিসের বিদায়ের পর আসাদ শফিকের গড় ৩৭.৪৩ করে। খুব বেশি ভালোও নয়, খুব বেশি খারাপও নয়। তার চেয়ে কেবল কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বাবর আজম। ২০১৭ সালের পর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাবর আজমের সংগ্রহ ১৮ টেস্টে ১৪৮৮। গড় ৫৫.১১ করে। সেঞ্চুরি করেছেন ৫টি, হাফ সেঞ্চুরি ১০টি। দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছেন আসাদ শফিক। ১৯ টেস্ট খেলে আসাদ শফিক করেছেন ১১৯৮ রান। গড় ৩৭.৪৩। সেঞ্চুরি ২টি, হাফ সেঞ্চুরি ৯টি।

২০০৯ সালে ডুনেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন ফওয়াদ আলম। এরপর যেন হারিয়েই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১১ বছর পর বিস্মৃতির অন্তরাল থেকে যেন তাকে টেনে তুলে আনা হলো। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেই আবার জাতীয় দলে ফিরলেন তিনি।

এই যখন পরিস্থিতি, তখন পাকিস্তান একাদশে কে? ফওয়াদ আলম নাকি আসাদ শফিক? একদিন আগে খবর রটেছে, স্পিনার শাদাব খানকে বাদ দিয়ে দলে নেয়া হতে পারে অতিরিক্ত একজন ব্যাটসম্যান। সে ক্ষেত্রে আসাদ শফিকের সঙ্গে ফওয়াদ আলম- দু’জনকেই দেখা যেতে পারে একাদশে।

আইএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]