ব্যাটিং-স্পিন কোচ ছাড়াই শুরু হচ্ছে টাইগারদের স্কিল ট্রেনিং

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৫১ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

গত কয়েকদিন ধরেই শেরে বাংলার সেন্টার উইকেটে চলছে ব্যাটিং প্র্যাকটিস। সেখানে হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের উপস্থিতিতেই নিজেদের ব্যাটিং-বোলিং ঝালিয়ে নিয়েছেন তামিম, মুমিনুল, মুশফিক, রিয়াদরা। কাজেই এটা বলার সুযোগ নেই যে, একদমই ব্যাটিং-বোলিং প্র্যাকটিসের সুযোগ মেলেনি।

তবে আজ (রোববার) দুপুর থেকেই শুরু হচ্ছে পুরোদস্তুর স্কিল ট্রেনিং। রোববার দুপুর পৌনে ৩টায় শেরে বাংলায় শুরু হবে এ ট্রেনিং। অংশ নেবেন শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ‘জিও’ (গভর্নমেন্ট অর্ডার) হওয়া ২৭ ক্রিকেটার।

অবশেষে ‘স্কিল ট্রেনিং’; ব্যাটিং-বোলিংয়ের কৌশলগত অনুশীলন। টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক খুশি। চোখে মুখে অন্যরকম সন্তুষ্টি। কমবেশি ফিজিক্যাল ট্রেনিং হয়েছে। শতভাগ না হলেও ক্রিকেটাররা শারীরিকভাবে মোটামুটি অনেকটাই চাঙা, ফিটনেস লেভেলও ভাল।

তবে ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিং স্কিলের ওপর কাজ হয়েছে কম। অবশেষে আজ থেকে সেটাও হতে যাচ্ছে। তাও হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন আর ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকের তত্ত্বাবধানে।

মুমিনুলের ভাষায়, ‘অনেক দিন পরে হলেও একটা স্কিল ট্রেনিং হচ্ছে। যার দরকার ছিল। নিজের স্কিলটার যথাযথ পরিচর্যা হওয়া প্রয়োজন ছিল। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং প্র্যাকটিসটা তাই জরুরি। অবশেষে সেটা হচ্ছে। এটা অতি অবশ্যই ভাল খবর। আমরা নিজেদের টেকনিক, টেম্পারামেন্ট, স্কিল নিয়ে কাজ করতে পারব। তাও কোচের তত্ত্বাবধানে। সব মিলে ভেতরে একটা চাঙা ভাব কাজ করছে।’

কিন্তু স্কিল ট্রেনিংয়ে নেই ব্যাটিং কোচ বা ব্যাটিং উপদেষ্টা আর স্পিন বোলিং কোচ। একমাত্র হেড কোচ, পেস বোলিং কোচ আর ফিল্ডিং কোচ ছাড়া আর কোন স্কিল টিচার নেই এখন টাইগারদের সঙ্গে। মানে টিচার ছাড়া ব্যাটিং ও স্পিন বোলিংয়ের স্কিল ট্রেনিং! ব্যাপারটা কেমন দেখায়! এটাকে কি তাহলে পূর্নাঙ্গ ও পরিপূর্ণ স্কিল ট্রেনিং বলা যায়?

মুমিনুল হকের ব্যাখ্যা, ‘কিছু ঘাটতি অবশ্যই থাকবে। ব্যাটিং আর স্পিন কোচের অভাববোধ হবে। তবে এমন নয় যে, তাদের ছাড়া ট্রেনিং হবে না। হেড কোচ আছেন। তিনি তো সবার ওপরে। সব ধরনের ট্রেনিং করাতে সক্ষম, দক্ষ। তিনি দেখবেন কার কী সমস্যা।’

এছাড়া মুমিনুলের দাবি, ‘আমরা আগেও স্পেশালিস্ট কোচ ছাড়া স্কিল ট্রেনিং করেছি। আসল হলো, যার যার স্কিলের ওপর কাজ করা। সবাই যার যার নিজের শক্তি-সামর্থ্য জানে। এখন সেটা ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে চর্চাটাই আসল। স্পেশালিস্ট কোচ থাকলে ভাল হয়। না থাকলে যে কিছুই হবে না, তাও নয়। স্কিল ট্রেনিং মানে আসলে স্কিলের চর্চা, সেটা তো হবে। ওটাই বা কম কী!’

ব্যাটিং ও স্পিন বোলিংয়ের দুই বিশেষজ্ঞ কোচ ছাড়া স্কিল ট্রেনিং যে পূর্ণাঙ্গ নয়, তা মানছেন জাতীয় দল পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খানও। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে আকরাম বলেন, ‘স্কিল ট্রেনিংয়ে স্পেশালিস্ট কোচদের উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততা দরকার বলেই আমরা স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে আসতে বলেছি। আশা করছি তিনি শীঘ্রই জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দেবেন।’

ব্যাটিং কোচ না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে আকরাম বলেন, ‘হঠাৎ বাবা মারা যাওয়ায় মেন্টালি আপসেট ক্রেইগ ম্যাকমিলান আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। এটা মানবিক ব্যাপার। আমাদের কী-ইবা বলার আছে?’

তবু আকরাম মনে করেন, ‘একজন স্পেশালিস্ট ব্যাটিং কোচ সাথে থাকবেন না বলে যে ব্যাটিংয়ের স্কিল ট্রেনিং যথাযথ হবে না-তা নয়। হেড কোচ আছেন। তিনি খেয়াল রাখবেন। কার কী টেকনিক্যাল সমস্যা? হেড কোচও তা ভাল জানেন। রাসেল ডোমিঙ্গো তা খেয়াল রাখবেন। ছেলেরাও খুব ভাল জানে কার কী স্কিলে সমস্যা? কার কোথায় ঘাটতি? তা কম বেশি সবারই জানা। সে জায়গায় কাজ করলেই স্কিল ট্রেনিং হয়ে যাবে।’

‘কাজেই স্পেশালিস্ট কোচ না থাকলেই যে স্কিল ট্রেনিং হবে না বা হলেও অপূর্ণ থাকবে- আমি তা মানতে রাজি না। স্পেশালিস্ট কোচ হয়তো শুধু ব্যাটিং আর পেস-স্পিন বোলিং নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করতে পারেন। এখন সেটা হেড কোচকে করতে হবে। আর ক্রিকেটারদেরও নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য, স্কিল সম্পর্কে ধারণা আছে। কার কোথায় কী সমস্যা? কোথায় ঘাটতি? তা কমবেশি সবার জানা। সে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টাই আসল। স্পেশালিস্ট কোচ থাকলে তা কাটিয়ে ওঠা একটু সহজ। কিন্তু হেড কোচের পরামর্শ নিয়ে নিজে নিজে চেষ্টা করলেও কিন্তু উন্নতি সম্ভব। স্কিল ট্রেনিং আসলে সে কারণেই।’

এআরবি/এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]