গিবসনের কাছ থেকে ভিন্ন এক কৌশল শিখছেন মোস্তাফিজ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘স্লোয়ার আর কাটার, শুরুতে এ দুটিই ছিল তার মূল অস্ত্র। কাটার বেশি ধরতো আর তার কাটারে অনেক বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যান ধরাও খেয়েছেন, তাই নাম হয়ে গেছে ‘কাটার মাস্টার।’ তাই বলে মোস্তাফিজুর রহমান যে শুধু কাটারই ছুড়তে পারেন, তার বলে আর কিছু গুণ নেই, এমন ভাবারও কারণ নেই।

বরং সব কিছুর বিচারে গত পাঁচ-ছয় বছরে যত পেসার এসেছেন, তার ভেতরে মোস্তাফিজের বোলিংয়ের ধারই সবচেয়ে বেশি। সাতক্ষীরার এ বাঁহাতি পেসারের বোলিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না অতি বড় সমালোচকও। সমসাময়িক পেসারদের মধ্যে তার বলে বৈচিত্র্য বেশি, এটা মানতেও দ্বিধা নেই কারোরই।

শুরুও হয়েছিল উল্কার গতিতে। প্রথম প্রথম মোস্তাফিজের কাটার ও স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। শুরু দেখে মনে হচ্ছিল, তিনিই হবেন বাংলাদেশের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের প্রধান অস্ত্র। কিন্তু ইনজুরি ও অফফর্মের সে জায়গায় যেতে পারেননি মোস্তাফিজ।

বরং দিনকে দিন কেমন নিষ্প্রভ মনে হচ্ছে। বলে ধারও গেছে কমে। এর মধ্যে একদিনের সীমিত ওভারে কার্যকর হলেও টেস্টে নিজের অপরিহার্যতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ মোস্তাফিজ। ৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৮ ওয়ানডে আর ৪১ টি-টোয়েন্টির পাশে মাত্র ১৩ টেস্ট খেলা সে সত্যই জানান দিচ্ছে।

তবে দেরিতে হলেও নিজেকে মেলে ধরার অন্যরকম তাগিদ এবার মোস্তাফিজের। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাঁহাতি পেসার হিসেবে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের অফস্টাম্প ও তার আশপাশে বল ফেলে ন্যাচারাল অ্যাঙ্গুলার ডেলিভারি বা কৌণিক ডেলিভারিটা ভালোই পারেন। যা দিয়ে অনেককে ঘায়েলও করেছেন। কিন্তু ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের অফস্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে আনার ক্ষমতা তুলনামূলক কম, এই কারণে তার বোলিংয়ে কার্যকারিতাও কমে গেছে।

সব ফরমেটেই ভালো করতে হলে বাইরে থেকে বল ভেতরে আনার ক্ষমতা বাড়ানো জরুরী। ক্যারিবীয় পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের পরামর্শে সেই দক্ষতা বাড়ানোর প্রাণপন চেষ্টা করছেন মোস্তাফিজ। যাতে করে দীর্ঘ পরিসরের ফরম্যাটেও সফল হওয়া যায়।

এখন স্কিল ট্রেনিংয়ে অংশ নেয়া মোস্তাফিজ আজ সোমবার ভিডিও বার্তায় সে কথাই জানালেন, ‘করোনার আগে বোলিং কোচ গিবসন আমাকে কিছু গ্রিপ দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, কী করলে বল ভেতরে ঢুকবে। ওটা নিয়ে কাজ করতেছিলাম, এখনো ভালো যাচ্ছে। আরও কাজ করতে হবে, ভালোভাবে কাজ করতে পারলে ভেতরে ঢোকানোটা তাড়াতাড়ি আয়ত্ত্ব করতে পারবো।’

এছাড়া ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি লাল বলেও নিজেকে মেলে ধরতে মুখিয়ে মোস্তাফিজ। এ কারণেই মুখে এমন কথা, ‘আমি তো চাই সব ফরম্যাটে খেলতে। এখন চেষ্টা করতেছি ফিটনেস বলেন, বোলিং স্কিল বলেন, কোন কাজগুলো করলে আমি সব ফরম্যাটে নিয়মিত হতে পারি সেগুলো করার।’

নিজের বর্তমান অবস্থা জানাতে গিয়ে মোস্তাফিজ বলেন, ‘আমি ঢাকা এসেছি প্রায় এক মাস পাঁচ দিন হল। প্রথমে শর্ট রান আপে, দুই তিন স্টেপে বোলিং করেছি, বাড়িতেও করেছি। এখানে আসার পর আবার প্রথম থেকে শুরু করলাম। শুরুতে রানিং, জিম এসব ছিল। পরে একজন ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করবে, দুইজন বোলার বল করবে এভাবে শুরু হয়। এখন ওভার অল সবকিছু ভালোই যাচ্ছে।’

বাড়িতে বসে না থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে দলীয়ভাবে অনুশীলন করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, মানছেন মোস্তাফিজ। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে আমরা সবাই কম বেশি কাজ করেছি। এখানে শুরুতে কষ্ট হচ্ছিল একটু, তবে এখন খুব ভালো যাচ্ছে।’

এআরবি/এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]