শান্তর চোখ ইনিংস লম্বা করার দিকে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন টেস্ট দিয়ে। অভিষেক ২০১৭ সালের জানুয়াীল মাসে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নেইল ওয়াগানারদের নিয়ে সাজানো কিউইদের বিষাক্ত ফাস্টবোলিংয়ের বিপক্ষে কনকনে ঠান্ডা ও প্রচন্ড বাতাসের মধ্যেও টেস্টের শুরু মন্দ ছিল না। রান বেশি করতে না পারলেও অনেকটা সময় উইকেট আগলে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দেখে মনে হচ্ছিলো- লম্বা রেসের ঘোড়া, এ বাঁহাতি উইলোবাজ যাবেন বহুদূর।

পরিপাটি ব্যাটিং টেকনিক। টেম্পারামেন্টও ভালো। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশারও সব সময়ই তার ব্যাপারে উচ্চাশা পোষণ করে আসছেন। তার চোখে, বর্তমান প্রজন্মর মধ্যে নাজমুল হোসেন শান্তই সবচেয়ে মেধাবী।

কিন্তু সেই মেধার প্রমাণ এখনও সেভাবে রাখতে পারেননি আন্তর্জাতিক মঞ্চে। টেস্ট (৪ ম্যাচে একটি ফিফটিসহ ২০১ রান), ওয়ানডে (৫ ম্যাচে মাত্র ৫৫ রান) ও টি-টোয়েন্টি (২ ম্যাচে ১৬ রান)- কোন ফরম্যাটেই নিজের অপরিহার্যতার প্রমাণ দিতে পারেননি।

তবে সর্বশেষ তিন টেস্টে ধারাবাহিকভাবে উন্নতির ছোঁয়া দেখা গেছে শান্তর ব্যাটে। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান (৪৪ ও ৩৮) আর নিজ মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে (৭১) পর পর তিন ইনিংসেই এই বাঁহাতির ব্যাট কথা বলেছে। শান্তও মনে করেন উন্নতি হচ্ছে। তার কথা, ‘আমার মনে হয় সর্বশেষ দুই তিনটা ইনিংস ভালো ব্যাটিং হয়েছে।’

নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স, পাশাপাশি লম্বা সময় উইকেটে থেকে দীর্ঘ ইনিংস খেলাই এখন শান্তর মূল লক্ষ্য। আর মুখে তাই অমন কথা, ‘আমি সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা চাই, তা হল ইনিংসগুলো যেন লম্বা হয়। আর নিয়মিত পারফরম্যান্স যেন করতে পারি। উইকেটে সেট হওয়া ইনিংসগুলো যেন বড় করতে পারি সেটাই চিন্তা আমার।’

লকডাউনের অনেক পরে নিজ শহর রাজশাহীর শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেছেন ঈদ উল আজহার ছুটির ঠিক আগে। মানছেন লকডাউনটা কষ্টকর ছিল। কারণ ক্যারিয়ার শুরুর পর এরকম লম্বা একটা ব্রেক কখনোই পাননি।

তবে লকডাউনে কিছু ইতিবাচক দিকও খুঁজে পেয়েছেন শান্ত। তার ভাষায়, ‘অতীতে যে ভুলগুলো ছিল বা অতীতে যেসব আমি ভালো করেছি, ওসব নিয়ে চিন্তা করার খুব ভালো একটা সুযোগ ছিল। যেগুলো নিয়ে আমি কাজ করেছি। আমি মনে করি যে সামনে যদি সুযোগ পাই, তাহলে এই অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগবে। লকডাউনে ভালো বা খারাপ যেটাই বলি, নিজের খেলাগুলো নিয়ে অ্যানালাইসিস করতে পেরেছি। যেটা আমার জন্য অনেক উপকার হয়েছে এবং সামনে সুযোগ পেলে ভালো কিছু হবে মনে করি।’

করোনা টেস্ট দেয়াকে অনেক কঠিন বলে মন্তব্য শান্তর। তার ভাষায়, ‘এটা অবশ্য অনেক কঠিন। টেস্টের কথা বলবো যে, করোনা টেস্ট দুই দিন পর পর এই জিনিসটা একটু অস্বস্তিকর লাগে। নাকের ভেতর কিট দেওয়া, পরীক্ষা করা এ জিনিসটা আমার জন্য অস্বস্তিকর। আর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে কারোরই ভালো লাগে না। এত সিকিউরিটির মধ্যে থাকা ভালো অনুভব করি না।’

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]