তামিম-শান্ত বাহিনীর অঘোষিত সেমির যুদ্ধ বুধবার

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০

মাঠের ক্রিকেট জমেনি তেমন। আকর্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই-ই কম ছিল। তবে ফাইনালে ওঠা নিয়ে তিন দল শুরু থেকেই লড়াই করেছে। সে লড়াই অব্যাহত আছে রবিন লিগের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। আগামীকাল ২১ অক্টোবর বুধবার দুই পর্বের রবিন লিগের শেষ ম্যাচ। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়, কোন দুই দল ফাইনাল খেলবে।

এখন পর্যন্ত তিন দলের সম্ভাবনা আছে। মানে আগামীকাল রবিন লিগের শেষ ম্যাচের পর তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যেতে পারে। সে সুযোগ আছে পুরোপুরি। তার মানে নাজমুল হোসেন শান্তর দল, মাহমুদউল্লাহ বাহিনী আর তামিম ইকবাল অ্যান্ড কোং-যে কোনো দুই দল খেলতে পারে ফাইনাল।

আগামীকাল (বুধবার) নাজমুল হোসেন শান্ত আর তামিম ইকবাল বাহিনীর শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছে অঘোষিত সেমির যুদ্ধে। তবে এই লড়াইয়ে তামিম বাহিনী আর শান্ত একাদশের হিসেব-নিকেশ এক নয়। একটু ভিন্ন।

নাজমুল হোসেন শান্ত আগের তিন ম্যাচের দুটিতে জিতে আছে তুলনামূলক শ্রেয়তর অবস্থানে। বুধবার জিতলে শান্ত বাহিনীর পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬। যা নিয়ে তারা কোনোরকম হিসেব নিকেশ ছাড়াই এক নম্বর দল হিসেবে পৌঁছে যাবে ফাইনালে।

তবে হারলেও শান্ত বাহিনীর সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে না। তখন তাকিয়ে থাকতে হবে নেট রানরেটের দিকে। কিন্তু তামিম ইকবালের দলের হিসেব সে তুলনায় অনেক কঠিন। তাদের জেতা ছাড়া পথ নেই। হারলে সোজা বিদায়। তখন শান্ত আর মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর দল খেলবে ২৩ অক্টোবরের ফাইনাল। মোদ্দা কথা, ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখতে হলে কাল জেতা ছাড়া পথ নেই তামিম বাহিনীর।

এ মুহূর্তে মানে কাল বুধবারের ম্যাচের আগে শান্ত বাহিনীর নেট রানরেট সবচেয়ে ভালো। ৩ খেলায় ২ জয় পাওয়া শান্তর দলের পয়েন্ট ৪। নেট রানরেট ০.৮৬৭। আর এক ম্যাচ বেশি খেলা মাহমুদউল্লাহর দলের পয়েন্ট ৪ খেলায় ৪। তাদের নেট রানরেট -০.৪৪২। অন্যদিকে এক জয় পাওয়া তামিম ইকবালের দলের পয়েন্ট ৩ ম্যাচে ২। আর নেট রান -০.৩১১।

নেট রানরেট বলে দিচ্ছে তামিম ইকবাল বাহিনীর সামনে হিসেবটা বেশ কঠিন। আগামীকাল শান্তর দলকে হারাতেই হবে এবং নেট রানরেট সমৃদ্ধ করতে মোটামুটি ব্যবধান রেখেই জিততে হবে।

আবার আরও একটি সম্ভাবনাও কিন্তু আছে। তামিম ইকবালের দল যদি খুব বড় ব্যবধানে শান্তর দলকে হারিয়ে দেয়, তাহলে আবার চিত্র পাল্টে যেতে পারে। তখন শান্ত বাহিনীকে টপকে তামিম আর রিয়াদ বাহিনী খেলতে পারে ফাইনাল। কাজেই অনেক হিসেব-নিকেশের লড়াই বুধবার। এখানে কে হাসবে শেষ হাসি, তা বলে দেবে সময়।

দুই দলের প্রথম পর্বের ফিরতি লড়াই জিতেছিল তামিম বাহিনী। ১২৫ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর খাদের কিনারা থেকে দলকে তুলেছিলেন তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান। ভগ্নস্তুপের মাঝে দাঁড়িয়েও তরুণ এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার খেলেন ৫৭ বলে ৮২ রানের ঝড়ো ইনিংস। যাতে করে ২২১ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে তামিম একাদশ।

আর শেষ পর্যন্ত সেটাই জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। শান্ত একাদশের মুশফিকুর রহীম সেঞ্চুুরি করেও দলকে জেতাতে পারেননি। ৪২ রানে জিতে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়ে তামিম বাহিনী। দেখা যাক, কাল কি হয়!

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]