আইপিএল খেলতে আরব আমিরাতে যাচ্ছেন সালমা-জাহানারা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০

নিষিদ্ধ না হলে নিশ্চয়ই সাকিব আল হাসান এখন আরব আমিরাতে থাকতেন। আইপিএলে খেলতেন। সাকিব নেই ঠিক, তবে এবার নারী আইপিএলের আদলে অনুষ্ঠিতব্য ‘উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে’ থাকছেন বাংলাদেশের দুই নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুন ও জাহানারা আলম।

জাহানারা খেলবেন ভেলোসিটির হয়ে। বলার অপেক্ষা রাখে না, গতবারও জাহানারা একই দলের হয়ে খেলেছিলেন। বোলিংটা ভালই ছিল এ পেসারের। ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের এখনকার অধিনায়ক মিতালি রাজ এবারের উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে জাহানারার ক্যাপ্টেন।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ সালমা এবারই প্রথম উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমার দল ট্রায়াল ব্লেজার্স। তার অধিনায়ক ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মন্দানা।

গত ক’দিন নিজেদের ঝালিয়েও নিয়েছেন সালমা ও জাহানারা। শেরে বাংলায় বিসিবি একাডেমি মাঠে প্রতিদিনই সকালে রুটিন করে প্র্যাকটিস করেছেন এ দুই নামী নারী ক্রিকেটার।

আগামীকাল ২১ অক্টোবর বুধবার সকালেই নারী আইপিএল খেলতে আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ছেন তারা দু’জন। দেশ ছাড়ার আগে দুজনই টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে ভাল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

দেশের নাম উজ্জ্বল করার আশা সালমার

প্রথমবার আইপিএলে সুযোগ পেয়ে খুব খুশি সালমা। নিজেকে ভাগ্যবতীও মনে হচ্ছে তার। তার ভাষায়, এতবড় আসরে খেলতে যাব। তো অবশ্যই চেষ্টা করবো আইপিএলে গিয়ে নিজের পারফরম্যান্সটা দেখানোর জন্য।

সালমার ধারনা, দেশে প্রস্তুতিটা মোটামুটি ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু খুলনায় বসে শুনেছি সেখানে অনুশীলন করেছি। জিম, রানিং, ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। ঢাকায় এসে যে কয়দিন সুযোগ পেয়েছি সে কয়দিনও নিজেকে প্রস্তুত করতে অনুশীলন করেছি। ক্রিকেট বোর্ড আমাদের সুযোগ দিয়েছে ডে-নাইট অনুশীলন করার, মোটামুটি ভালো কাজে লেগেছে। প্রস্তুতিটা মোটামুটি অনেক ভালো হয়েছে।’

সালমার শেষ কথা, ‘যেহেতু এত বড় একটা আসরে যাচ্ছি, নিজের প্রত্যাশাটা অনেক ভালো করার যাতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারি। যেহেতু অলরাউন্ডার হিসেবে যাচ্ছি, সেহেতু দুই বিভাগেই ভালো করা চেষ্টা থাকবে। আমি যদি ভালো কিছু করতে পারি তবে অবশ্যই আমার দলের জন্য সহায়ক হবে। ওখান থেকে আসার পর দেশেও কাজে লাগাবো। যেহেতু ওখানে যাচ্ছি বাইরের অনেক প্লেয়ার থাকবে, বড় বড় প্লেয়ার তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে সেগুলো শিখে এসে আমাদের দেশে প্রয়োগের চেষ্টা করবো।’

আগেরবারের আফসোস ঘোচাতে চান জাহানারা

আগেরবার ফাইনালের শেষ ওভার বল করেছিলেন; কিন্তু অল্পের জন্য দলকে জেতাতে পারেননি। এবার সেই কথা মাথায় নিয়েই যাচ্ছেন। আবার এমন পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটলে এবার আর ব্যর্থতা নয়, সাফল্য পেতে চান জাহানারা।

এবারও আগের দল মানে ভেলোসিটির হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ায় খুশি জাহানারা। তার মূল লক্ষ্য, আগেরবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর। নিজের শতভাগ দিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখার চেষ্টা করার কথা জানিয়ে জাহানারা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবি আমাদের যে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে, বিশেষ করে আইপিএলকে সামনে রেখে দুইটা ফ্লাড লাইটের নিচে অনুশীলন করার সুযোগ দিয়েছে। কোচ নিয়োগ দিয়েছে। বিশেষ করে বোলিং কোচ হওয়ায়, মাহবুব আলি জ্যাকি স্যারের সাথে কাজ করতে পেরে আমার জন্য ভালো হয়েছে। আশা করছি আইপিএলের মূল ম্যাচে উপযুক্ত পারফরম্যান্স দেখাতে পারবো। ইনশা আল্লাহ।’

আইপিএলকে একটা বড় প্ল্যাটফর্ম আখ্যা দিয়ে জাহানারা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখানে খেলার সৌভাগ্য সবার হয় না। আমি অনেক ভাগ্যবান এ দিক থেকে। এ আসরে বিশ্বের অনেক সেরা, বিশ্বজয়ীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সুযোগ হয়। তাদের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করার সুযোগ হয়। আমি আশা করি, এই অভিজ্ঞতা ওখান থেকে অর্জন করে দেশে এসে আমার সতীর্থদের সাথে ভাগাভাগি করতে পারবো। আমার বিশ্বাস এই টুর্নামেন্ট খেলার পর আমার ক্যারিয়ারের কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও হতে পারিনি। নিজেরও আফসোস রয়ে গেছে, ফাইনাল ম্যাচের ফাইনাল ওভারটা। এই ধরণের পরিস্থিতিতে আবার পড়লে নিজের সেরাটা দিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতে হার্ড অ্যান্ড সোল ট্রাই করবো।’

এআরবি/আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]