ওপেনারদের এ কী হাল!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৮ এএম, ২২ অক্টোবর ২০২০

উইকেট নিয়ে প্রশ্ন ছিল শুরু থেকেই, সঙ্গে আবার সাত মাস ধরে না খেলার জড়তা- বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে খেলোয়াড়দের পারফরম্যানস যে ঠিক উচ্চপর্যায়ের থাকবে না, তা বোঝা যাচ্ছিল আগেই। কিন্তু তাই বলে এতটা হতশ্রী হবে টপঅর্ডার বিশেষ করে ওপেনারদের ব্যাটিং- সেটি নিশ্চয়ই কেউ আশা করেনি।

বুধবার শেষ হয়ে গেছে প্রেসিডেন্টস কাপের রাউন্ড রবিন লিগের খেলা। যেখানে সব দলের চার ম্যাচ শেষে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশ। তারা যথাক্রমে জিতেছে তিনটি ও দুইটি করে ম্যাচ। তামিম ইকবাল একাদশ মাত্র ১ জয় নিয়ে বাদ পড়ে গেছেন।

টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক খেলেছেন মুশফিকুর রহীম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। মন্দের ভালো ব্যাটিং করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইরফান শুক্কুর, নুরুল হাসান সোহানরা। চার ম্যাচ করে খেলার পরেও সবমিলিয়ে ১০০ রান করতে পেরেছেন মাত্র সাতজন ব্যাটসম্যান।

ফাইনালের আগে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিকুর রহীম। তিনি চার ম্যাচে ২ ফিফটি ও ১ সেঞ্চুরিতে করেছেন ২০৭ রান। আর কোনো ব্যাটসম্যান ২০০ রান করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৭ রান করেছেন আফিফ। এছাড়া ইরফান ও মাহমুদউল্লাহর সংগ্রহ সমান ১৩৯ রান।

টপ-মিডল অর্ডারের এ ব্যাটসম্যানরা রানের দেখা পেলেও ওপেনাররা দিয়েছেন চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয়। ছয় ম্যাচে অন্তত একবারের জন্য হলেও ইনিংসের সূচনা করেছেন নয় জন ব্যাটসম্যান। তারা সবমিলিয়ে খেলেছেন ২৪টি ইনিংস। কিন্তু ফিফটি এসেছে মাত্র ১টি। সেটিও কি না বুধবারের সবশেষ ম্যাচে।

ওপেনারদের খেলা ২৪ ইনিংসের মধ্যে দুই অঙ্কের দেখা মিলেছে মাত্র ৯ বার। বাকি ১৫ বার দশ রানও করতে পারেননি তারা। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছিলো, তামিম ইকবালের ব্যাটিং নিয়ে। অথচ ওপেনারদের মধ্যে তিনিই হাঁকিয়েছে একমাত্র হাফসেঞ্চুরি। এছাড়া চার ইনিংসে সর্বোচ্চ ১০১ রানও করেছেন তামিম।

তামিম ছাড়া আরও কোনো ওপেনার ৩০ রানও করতে পারেননি কোনো ইনিংসে। নিজের প্রথম ম্যাচে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু আউট হয়ে যান ১৮ বলে ২৭ রান করে। তৃতীয় ম্যাচে ভালো শুরু করেছিলেন লিটন দাস। তিনিও থামেন ২৭ বলে ২৭ রান করে। এছাড়া আর কেউই বলার মতো কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের এমন ভয়াবহ ব্যর্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ছয় ম্যাচের কোনো ইনিংসে ভালো সূচনা পায়নি কোনো দল। সর্বোচ্চ ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি দেখা গেছে প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে। সে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে হয়েছিল ১৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। পরের পাঁচ ম্যাচে দলীয় সংগ্রহ দশ হওয়ার আগেই ভেঙে গেছে পাঁচটি উদ্বোধনী জুটি।

প্রেসিডেন্টস কাপে ওপেনারদের পরিসংখ্যান (ফাইনালের আগে)
তামিম ইকবাল - ৪ ম্যাচে ১০১ রান; ইনিংসগুলো ২ (৮), ৩৩ (৪৫), ৯ (১৩), ৫৭ (৮৫)
সৌম্য সরকার - ৪ ম্যাচে ৪৫ রান; ইনিংসগুলো ২১ (৩৪), ৯ (৪৭), ৮ (৪), ৭ (৮)
লিটন দাস - ৪ ম্যাচে ৪৩ রান; ইনিংসগুলো ১১ (১২), ০ (৮), ২৭ (২৭), ৫ (৩)
তানজিদ হাসান - ৩ ম্যাচে ৩৬ রান; ইনিংসগুলো ২৭ (১৮), ৮(৫), ১(৯)
পারভেজ হোসেন ইমন - ২ ম্যাচে ২৯ রান; ইনিংসগুলো ১৯ (২১), ১০ (১৮)
সাইফ হাসান - ২ ম্যাচে ২৪ রান; ইনিংসগুলো ১৭ (২২), ৭ (২১)
নাঈম শেখ - ৩ ম্যাচে ১২ রান; ৯ (১১), ০ (১), ৩ (৪)
ইমরুল কায়েস - ১ ম্যাচে ৪ রান
এনামুল হক বিজয় - ১ ম্যাচে ৭ রান

উল্লেখ্য, ইমরুল ও এনামুল বিজয় অন্য তিন ম্যাচ খেলেছেন যথাক্রমে চার ও তিন নম্বর পজিশনে। ইমরুল চারে নেমে খেলেছেন ৪০ (৫০), ০ (৩) ও ৪৯ (৫৫) রানের ইনিংস। অন্যদিকে তিনে নেমে এনামুল বিজয়ের ইনিংসগুলো ২৫ (৩৩), ১২ (১৩) ও ১ (৯)।

এসএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]