মাহমুদউল্লাহ মনে করেন, ভাগ্যগুণে ফাইনালে তার দল

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২০

মাঠের ক্রিকেট উপভোগ্য না হলেও ফাইনালে ওঠা নিয়ে লড়াই কম হয়নি। একদম শেষ ম্যাচ পর্যন্ত বোঝাই যায়নি, কোন দুই দল ফাইনাল খেলবে। গতকাল (বুধবার) রাতে তামিম ইকবাল আর নাজমুল হাসান শান্ত বাহিনীর রবিন লিগের শেষ ম্যাচের ফল অন্যরকম হলেই হয়তো ফাইনালিস্ট বদলে যেত।

এমনকি আগের দুই ম্যাচ জিতে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা শান্তর দলও বাদ পড়তে পারতো। আবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনীকে টপকে তামিমের দলও খেলতে পারতো ফাইনালে।

কাজেই ব্যাট ও বলে নৈপুণ্যের দ্যুতি কম থাকলেও ফাইনালিস্ট নিয়ে জোর লড়াই হয়েছে। যেখানে নিজ দলের শক্তি, সামর্থ্য, পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাগ্যও ভূমিকা রেখেছে। ফাইনালের আগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মুখে সে কথাই ধ্বনিত হলো। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আলহামদুলিল্লাহ আমরা ফাইনালে উঠেছি।’

রিয়াদ মানছেন, আগের দিন তামিম ও শান্ত বাহিনীর ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর তার দল ভাগ্যর সহায়তা নিয়েই উঠেছে ফাইনালে। তবে যেহেতু দল ফাইনালে উঠে এসেছে, তাই ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মাহমুদউল্লাহ।

তাই তো মুখে এমন কথা, ‘ভাগ্যগুণে আমরা ফাইনাল খেলছি। একদিক থেকে ভালো লাগছে কারণ অনেক দিন পরে আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি। যেহেতু করোনার সময় ক্রিকেটও বন্ধ ছিল, বিসিবির উদ্যোগের কারণেই আমরা সবাই ভালো একটা টুর্নামেন্ট খেলছি এবং সেটার ফাইনাল খেলতে পারছি। সেদিক থেকে আমরা সবাই মুখিয়ে আছি ভালো ফাইনাল যেন খেলতে পারি।’

মাহমুদউল্লাহ জানালেন, প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট হলেও প্রেসিডেন্টস কাপে সবাই ছিলেন শতভাগ সিরিয়াস। ভালো করার জোর তাগিদও ছিল সবার মধ্যে। মাঠে তাই লড়াইও হয়েছে বেশ।

জাতীয় দলের এই ব্যাটিং ভরসার ভাষায়, ‘যদিও এটা একটা প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট। কিন্তু আমার মনে হয় প্রতিটা খেলোয়াড়ই খুব সিরিয়াসলি খেলেছি এবং খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল ম্যাচগুলো। সবার ভেতরেই ওই তাড়না ছিল যেন আমরা একজন আরেকজনের চেয়ে ভালো পারফর্ম করতে পারি এবং দল হিসেবেও ভালো করি। সেদিক থেকে আমি বলবো এই টুর্নামেন্টটা আমাদের সব খেলোয়াড়ের জন্যই খুব ভালো একটা প্রস্তুতি ছিল।’

বায়ো-সিকিউর বাবলের (করোনা টেস্টে নেগেটিভ হওয়ার পর একসঙ্গে থাকার অনুমতি পাওয়া) বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ বললেন, ‘এটা খুবই ভালো একটা দিক। অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা হলো। যেহেতু এটা সময়ের দাবি এবং ওই বাধ্যবোধকতার মধ্যেই আমাদের থাকতে হবে, তাই মেনে নেয়া ছাড়া উপায় কী!’

এ আসরে তরুণদের পারফরম্যান্স মোটামুটি নজর কেড়েছে মাহমুদউল্লাহর। তার চোখে, আফিফ বেশ ভালো খেলেছেন। পাশাপাশি তার দলের মাহমুদুল হাসান জয়ের খেলাও ভালো লেগেছে।

মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন, ‘এছাড়াও অন্যান্য টিমে হৃদয় ভালো করেছে, আফিফ বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ এর বেশ অনেকগুলো খেলোয়াড়ই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছেন। আমার মনে হয় এটা তাদের জন্য একটা খুব ভালো ডেভেলপমেন্ট দিক ছিলো। আসলে আমাদের সবার জন্যই। কারণ যেহেতু আমরা অনেকদিন পরে আমরা মাঠে ফিরেছি এবং খুব ভালো একটা টুর্নামেন্ট খেলেছি। তাই সবমিলিয়ে খুব ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]