সুমন খানের বারুদে বোলিং, ১৭৩ রানেই আটকে গেল শান্তর দল

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহীম, তৌহিদ হৃদয় আর ইরফান শুক্কুর। সাথে আসরের অন্যতম সেরা বোলার রুবেল হোসেন। কত নাম।

পরিচিতির কথা চিন্তা করলে, তাদের ধারে কাছে নেই। কিন্তু আজ রোববারের ফাইনালের প্রথম সেশনে সেই সব নামি, পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত পারফরমারদের পিছনে ফেলে নায়ক ‘সুমন খান।’ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনীর এ পেসারের বারুদে পুরে ছারখার নাজমুল হোসেন শান্ত বাহিনীর ব্যাটিং।

মানিকগঞ্জের ২০ বছর বয়সি এ পেসারকে খেলতে নাভিঃশ্বাস সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নাইম হাসানদের। সুমন খানের বিধ্বংসী বোলিংয়ে আগে ব্যাট করা শান্ত বাহিনীর কম্ম কাবার। বড়সড় ও লড়াকু স্কোর গড়ার বদলে ১৭৩ রানেই থেমে গেছে তাদের ইনিংস। সুমন খান একই পতন ঘটিয়েছেন ৫ উইকেটের (১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে)।

ধারণা করা হচ্ছিল ফাইনালের আগে চার ম্যাচের তিনটিতে পঞ্চাশের ওপরে রান করে নিজেকে আসরে সবচেয়ে কার্যকর পারফরমার হিসেবে মেলে ধরেছিলেন মুশফিকুর রহীম।

ফাইনালের আগে ২০৭ রান করেই রান তোলায় সবার ওপরে মুশফিক। সঙ্গে আফিফ হোসেন ধ্রুবও ছিলেন। এই দুজনার সাথে দুই উদ্যমী তরুণ তৌাহিদ হৃদয় আর ইরফান শুক্কুর আছেন শান্তর দলে। তাদের চওড়া ব্যাটের সাথে লড়াই হবে ফর্মে থাকা পেসার রুবেল হোসেনের। রাউন্ড রবিন লিগ শেষে ৪ ম্যাচে ১০ উইকেটে পাওয়া পেসার রুবেলই হয়ত হতে পারেন প্রতিপক্ষ ব্যাটিংয়ের ত্রাস।

কিন্তু মাঠে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। প্রথম ওভারে সাইফ হাসানকে ইনকাটারে বোল্ড করে সে সম্ভাবনারই জানান দিয়েছিলেন রুবেল হোসেন। এরপর শেষ দিকে প্রতিপক্ষের আরও এক উইকেট পেয়েছেন রুবেল। কিন্তু আসল কাজ করে দিয়েছেন রুবেলের নতুন বলের সঙ্গী সুমন খান।

jagonews24

শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উত্তর দিকের মিডিয়া প্রান্ত দিয়ে প্রথম স্পেলে ২ ওভারে (১৩ রানে উইকেটশূন্য) সুবিধা করতে না পারা সুমন প্রান্ত পাল্টে উল্টো দিক থেকে বোলিংয়ে এসেই একের পর এক উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন।

৪ ওভারের দ্বিতীয় স্পেলটিতেই (৪-০-১৫-৩) পিছনের পায়ে চলে যায় শান্ত বাহিনী। শান্ত একাদশের ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহীমকে লেগবিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেই শুরু সুমন খানের ধ্বংসযজ্ঞ। প্রথম ম্যাচে উল্টো দিক থেকে বল করে মুশফিকের এক ওভারে দুই বাউন্ডারি হজম করা সুমন প্রান্ত পাল্টে পরের স্পেলেই মুশফিককে ইনকাটারে লেগবিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন।

এরপর এক ওভারে ৩ বলের মধ্যে সুমন আউট করেন দুই বাঁ-হাতি সৌম্য আর আফিফকে। দু’জনই উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে। সুমন খানের প্রথম স্পেলে এলোমেলো শান্ত বাহিনীর টপ ও মিডল অর্ডার। ইনিংসের অর্ধেকটা শেষ হয়ে যায় ৬৪ রানে।

এই ভাঙ্গা চোরা অবস্থায় হাল ধরার চেষ্টা করেন দুই তরুণ ইরফান শুক্কুর আর তৌাহিদ হৃদয়। ১১ অক্টোবর শেরে বাংলায় প্রথম ম্যাচে এই তৌাহিদ হৃদয় আর ইরফান শুক্কুরের চওড়া ব্যাটের ওপর ভর করেই রিয়াদ বাহিনীকে হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করেছিল শান্তর দল। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, শুরুর ধাক্কা সামলে এই তরুণদের হাত ধরে আজও বুঝি লড়িয়ে পুঁজির সন্ধান পাবে শান্ত একাদশ।

কিন্তু তা হয়নি। ৫৩ বলে ২৬ রান করে হৃদয় সাজঘরে ফেরত যান লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে।

এরপর ইরফান শুক্কুর একাই লড়াই করেন। উইকেটের সামনে অফ ও অনসাইডে বেশ কিছু সাহসী ইনিংস খেলেছেন এইচপি ও মোহামেডানের হয়ে গত দুই মৌসুম খেলা চট্টগ্রামের এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

প্রথম দিন এই রিয়াদ বাহিনীর বিপক্ষে হার না মানা হাফ সেঞ্চুরিতে দল জেতানো ইরফান শুক্কুর আজ রোববার ফাইনালে ৭৬ বলে ৭৫ রানের দারুন ইনিংস উপহার দেয়ায় ১৭০ এর ঘরে পৌঁছেছে শান্তর দল।

এর আগে তামিম বাহিনীর বিপক্ষে ৩১ রানে ৩ উইকেট দখল করে এ আসরে চমক দেখিয়েছিলেন সুমন খান। আজ ফাইনালের প্রথম সেশনে তার বলের ধার দেখে সবার চোখ ছানাবড়া। প্রথম ম্যাচে অনেক বড় ও নামি-দামি তারকাকে পিছনে ফাইনালের প্রথম সেশনের নায়ক সুমন খান।

এআরবি/আইএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]