ফাইনালের নায়ক কে এই সুমন খান?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

কথায় বলে কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ। প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনালে ৫ উইকেট শিকারী সুমন খান ভাসছেন প্রশংসার সাগরে। তাকে নিয়ে রাজ্যের কথা বার্তা, প্রশংসা-স্তুতি।

তার অফ স্ট্যাম্প ও আশপাশে ক্রমাগত বোলিং করা ও একটু আধটু আউট সুইং করানোর ক্ষমতা নিয়ে প্রেসবক্সে গুঞ্জন; কিন্তু জানেন কি মানিকগঞ্জের এই সম্ভাবনাময় পেসারের এ আসরে খেলারই কথা ছিল না!

তিন দলের ১৫ জন করে ৪৫ জনের পুলেই তার জয়গা হয়নি। তিনি ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত বাহিনীর রিজার্ভ বেঞ্চে। স্ট্যান্ডবাইয়ে থাকা তিন জনের মধ্যে নাম ছিল তার।

কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনীর দুই পেসার হাসান মাহমুদ আর মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন ইনজুরিতে পড়ায় সুমন খানকে শান্ত বাহিনীর স্ট্যান্ডবাই থেকে রিয়াদ বাহিনীর ১৫ জনে সুযোগ করে দেন নির্বাচকরা।

এখন তাই প্রশ্ন সুমন খান কাকে বা কাদের ধন্যবাদ দেবেন- নির্বাচকদের? নাকি হাসান মাহমুদ ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীকে?

বলার অপেক্ষা রাখে না, ওই দু’জন আহত না হলে হয়ত পুরো আসর তাকে মাঠের বাইরেই কাটাতে হতো। খেলা তো বহুদুরে, হয়ত জার্সিও পেতেন না। কিন্তু দুই দ্রুত গতির বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন আর হাসান মাহমুদ একসঙ্গে আসর শুরুর আগে ইনজুরিতে পড়লে শান্ত বাহিনী থেকে রিয়াদ বাহিনীর ১৫ জনের দলে জায়গা পেয়ে যান সুমন খান।

সুযোগ পেয়ে তামিম বাহিনীর বিপক্ষে ৩১ রানে ৩ উইকেট শিকার করে নজর কাড়েন এই ডান হাতি পেসার। আর আজ রোববার শেরে বাংলায় ফাইনালে ৩৮ রানে ৫ উইকেট শিকারী সুমন খানই শান্ত বাহিনীকে ঠেলে দিয়েছেন ব্যাকফুটে।

এ দ্রুত গতির বোলার অনুর্ধ-১৯ দলে খেলেননি কখনো। তবে হাই পারফরমেন্স ইউনিট আর ইমার্জিং দলে ছিলেন। সেখান থেকেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন সুমন।

কে এই সুমন খান? ২০ বছর বয়সী এ পেসারের বাড়ি মানিকগঞ্জে। রাজধানীর ঢাকার পাশের জেলা মানিকগঞ্জ মানেই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়।

দুর্জয়ের মত দেশ জোড়া ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি কুড়াতে না পারলেও মোহামেডানের হয়ে ৯০ দশকের প্রায় পুরো সময় ও বর্তমান শতাব্দীর প্রথম দিকে পেস বোলার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন মানিকগঞ্জের আরেক পেসার মোর্শেদ আলী খান সুমন। ঢাকা তথা দেশীয় ক্রিকেটে তাকে সবাই ‘ম্যাক সুমন’ নামেই চেনে।

সেই মানিকগঞ্জ থেকে অবশেষে এক পেসার বেরিয়ে আসলেন এই প্রেসিডেন্টস কাপে। কাকতালীয়ভাবে তিনিও ‘সুমন’ এবং খানও। দেখা যাক এইচপির এই পেসার কতদুর যান?

এআরবি/আইএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]