বিবিএ ছেড়ে ক্রিকেটে, জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন সুমনের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০

প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনালের পর থেকে হিরো বনে গেছেন সুমন খান। তাকে নিয়ে নানা কথা। কে এই সুমন খান? তা নিয়ে রাজ্যের জল্পনা-কল্পনা সবার মনে। কোথা থেকে আসলেন এই তরুণ পেসার, তার ভবিষ্যৎই বা কী?

ফাইনাল শেষ করার একদিন পর আজ (মঙ্গলবার) থেকে আবার হাই পারফরমেন্স ইউনিটের অনুশীলন শুরু করেছেন সুমন খান। মানিকগঞ্জের ২০ বছর বয়সী এই পেসার জানালেন, কিভাবে তিনি ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া ছেড়ে মাঠে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়তেন, ইচ্ছে ছিল বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার। কিন্তু মনের মধ্যে ক্রিকেটটা খোঁচাতেই থাকলো। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা সুমনকে নিয়ে আসল বিকেএসপিতে। সেখানেই পরে ভর্তি হন স্নাতকে। সেই থেকে স্বপ্ন জাতীয় দল।

সুমন বলেন, ‘আসলে যেদিন থেকে নর্থ সাউথ বা পড়াশোনা ছেড়ে ক্রিকেটে চলে আসি, সেদিন থেকে আমার সব মনোযোগ ক্রিকেটেই। ক্রিকেট নিয়েই এগিয়ে যাব, আশা আছে টপ লেভেল খেলার। ইনশাআল্লাহ একদিন খেলব।’

প্রেসিডেন্টস কাপ তার ভালো কেটেছে। বড় বড় তারকাদের সঙ্গে খেলে ভালো পারফর্ম করা কতটা তৃপ্তির? সুমন বলেন, ‘আসলে বলতে গেলে টুর্নামেন্টটা অনেক ভালো কেটেছে। এখানে একটা সুযোগ ছিল নিজের সেরাটা দেওয়ার। ছোট একটা টুর্নামেন্ট, অল্প সময়ের। চেষ্টা করেছি ভালো করার, আল্লাহর রহমতে ভালো কেটেছে। অনুভূতিটাও অসম্ভব ভালো।’

এদিকে ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং করে সবার নজর কাড়লেও আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলতে নারাজ সুমন খান। তার অনুভব ও উপলব্ধি, এখন দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। তাই তো মুখে এমন সংলাপ, ‘আসলে সবার প্রত্যাশা বেড়ে গেছে এখন, আমার দায়িত্বও বেড়ে গেল। পারফর্ম করাতে সবাই হয়তো ভাবছে। সামনে আরও ভালো করতে হবে, তাহলে সুযোগ আসবে। এ জন্য আমার নিজের উপরও দায়িত্ব এসেছে যে এখন ভালো করছি, সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা থাকবে। এই ধারাবাহিকতাটা যেন ধরে রাখতে পারি সে চেষ্টায় আছি।’

প্রেসিডেন্টস কাপের সাফল্যকে কেবল সূচনা বলে মন্তব্য করে সুমন বলেন, ‘এটাই তার ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু। আসলে এটা মাত্র শুরু। এখন বড় ভাইরা যত প্রশংসা করবে সামনের দিকে এগোনোর জন্য তত ভালো কাজ হবে। মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাইদের সাথে খেলা হয়েছে। এখান থেকে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চেষ্টা করব।’

এইচপিকে ওপরে ওঠার একটা ভালো প্লাটফর্ম বলে অভিহিত করে সুমন বলেন, ‘এইচপি একটা ভালো প্লাটফর্ম। বিশেষ করে আমি এখানে এসেছি, আমার কোন বয়সভিত্তিক খেলা ছিল না। আল্লাহর অশেষ রহমত, বিসিবি একটা সুযোগ করে দিয়েছে এখানে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য। নিজের স্কিল উন্নতি, ফিটনেস উন্নতি করার জন্য। সেক্ষেত্রে বলব, এইচপি একটা ভালো জায়গা নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য।’

‘আসলে জাতীয় দলে যাওয়ার আগে যদি এখান থেকে পারফরম্যান্স, মানসিকতা বা টেকটিক্যালি নিজেকে প্রস্তুত করা যায়; সেক্ষেত্রে জাতীয় দলে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটা এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেখানে খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠা যায়’-যোগ করেন সুমন।

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]