বিসিবিও সাকিবের ফেরার অপেক্ষায়

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, এরপরই শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে সাকিব আল হাসানের। ২৮ অক্টোবর রাতেই মুক্ত হয়ে যাবেন সাকিব আল হাসান। আগামীকাল ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে আবার আগের মতই মুক্ত, স্বাধীন সাকিব আল হাসান।

গত বছর ২৮ অক্টোবর আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়েন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। অনেকেরই ধারণা, ‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড’- হয়েছে সাকিবের। তিনি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন না। আইসিসি দূর্নীতি দমন কমিশন তার বিপক্ষে কোনোরকম ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনতে পারেনি।

আনেওনি। তার বিপক্ষে একটাই অভিযোগ, সাকিব বাজিকরদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে তা নিজ দেশের বোর্ড কিংবা আইসিসি দুর্নীতি দমন শাখাকে জানাননি। যা আইসিসির প্রচলিত আইন ও নিয়মে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেই গণ্য করা হয়। তাই সাকিব এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।

এদিকে সাকিবের ভক্ত, সমর্থক ও অনুরাগীর সবাই উৎফুল্ল। রোমাঞ্চিত। প্রিয় ক্রিকেটার আবার আগের মত মুক্ত হয়ে মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন। আবার ব্যাট ও বল হাতে মাঠে নামবেন। ঘূর্ণি যাদুতে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সর্বাধিক সমীহ আদায় করে নেবেন। আর বুদ্ধি খাটিয়ে বল করে ব্যাটসম্যানকে বোকা বানাবেন। চওড়া উইলো দিয়ে বিপক্ষ বোলারদের করবেন শাসন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও সাকিবের ফিরে আসার প্রহর গুনছে। দেশের ক্রিকেটের বড় সম্পদ ও জাতীয় দলের প্রধান চালিকাশক্তি সাকিব ফেরা মানেই টিম বাংলাদেশ চাঙ্গা হওয়া। দলের ব্যাটিং ও বোলিং শক্তি আবার আগের মত হয়ে যাওয়া।এ কারণেই ভাবা হচ্ছে, সাকিবের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াটা বিসিবির জন্য বড় স্বস্তির ও আনন্দের।

সবার জানা, সাকিব বরাবরই ‘থ্রি ইন ওয়ান।’ একজন অতি কার্যকর বোলার। দলের সেরা স্পিনার ও তিন ফরম্যাটেই এক নম্বর ‘উইকেট টেকিং বোলার।’ সঙ্গে অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ। সেই সাথে দলে তার উপস্থিতিটাই অনেক বড়। ৎ

সাকিব মানেই অন্যদের বাড়তি অনুপ্রেরণা। আর পারফরমার সাকিবতো এক নম্বর। গত বিশ্বকাপই তার প্রমাণ। সাকিব একা ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। তার অভাবে ব্যাটিং দুর্বল হয়ে পড়েছিল বেশ। আর বোলিং ডিপার্টমেন্ট বিশেষ করে স্পিন আক্রমণের ধারও কমে গিয়েছিল অনেকটাই। সেই অতিকার্যকর সাকিব দলে ফেরার অর্থ জাতীয় দলের শক্তি ৩০ভাগ বেড়ে যাওয়া।

বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনের কন্ঠেও সে কথাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিনিও মনে করেন, সাকিব দলে ফেরা একটা স্বস্তি। সেই সাথে আনন্দের। তিনি সাকিবের কাছ থেকে অগের মত অতি কার্যকর পারফরমেন্সেরও প্রত্যাশা করছেন।

আজ বুধবার মিডিয়ার সাথে আলাপে বিসিবি প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘সাকিব আমাদের (বিসিবির) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। অবশ্যই তার প্রত্যাবর্তন আমাদের জন্য কমফোর্ট ও আনন্দের বিষয়ও। আমরা আশা করবো, উনি যেভাবে আমাদের জাতীয় দলে ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে অবদান রেখেছেন সেভাবেই ফিরে আসবেন।’

এআরবি/আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]