আইপিএলের খুঁটিনাটি : নতুনদের বাজিমাত, বিদেশি পেসারদের জয়জয়কার

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০২০

প্রায় দুই মাস ধরে ৬০ ম্যাচ খেলার পর শেষ হয়েছে আইপিএলের ১৩তম আসর। যার পর্দা নেমেছে মঙ্গলবারের ফাইনালের মাধ্যমে। দিল্লি ক্যাপিট্যালসকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জিতেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। আসরের শুরু থেকেই ফেবারিট ছিল মুম্বাই। তাই তারা চ্যাম্পিয়নশিপে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।

তবে বেশ কিছু পরিসংখ্যান ও ঘটনা এবার দেখা গেছে আগের আসরগুলোর চেয়ে বিপরীত। যেখানে ব্যাট হাতে বাজিমাত করেছেন ভারতের অনভিষিক্ত ক্রিকেটাররা। আবার বল হাতে ভারতীয় পেসারদের ছাপিয়ে গেছেন বিদেশিরা। তবে ব্যাটিংয়ে আবার বিদেশিদের টেক্কা দিয়েছেন ভারতীয়রা।

এবারের আইপিএলের এসব পরিসংখ্যান দিয়েই সাজানো এই প্রতিবেদন

নতুন উচ্চতায় অনভিষিক্ত খেলোয়াড়রা
আইপিএলের ১৩তম আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় এবার সেরা দশে দেখা গেছে তিনজন খেলোয়াড়কে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ইশান কিশান ৫১৬ রান নিয়ে পঞ্চম, সূর্যকুমার যাদব ৪৮০ রান নিয়ে সপ্তম ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর পাড্ডিকাল ৪৭৩ রান নিয়ে রয়েছেন ৮ নম্বরে।

এছাড়া এবারের আসরের সর্বোচ্চ ৩০ ছক্কা হাঁকিয়েছেন ইশান কিশান। তার করা ৫১৬ রান আইপিএলের যেকোনো আসরে অনভিষিক্ত খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। এবারই প্রথম একের বেশি ব্যাটসম্যান আইপিএলের কোনো আসরে ৪০০'র বেশি রান করলেন।

বোলিংয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় সেরা দশে রয়েছেন দুইজন বোলার। তারা হলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভরুন চক্রবর্তী (১৭) ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নটরাজন (১৬)। এবারের আইপিএলে ভরুনই একমাত্র বোলার হিসেবে ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করতে পেরেছেন।

এর বাইরে চেন্নাই সুপার কিংসের অনভিষিক্ত ওপেনার রুতুরাজ গাইকোয়াদ একাই জিতেছেন ৩টি ম্যান অব দ্য ম্যাচ এওয়ার্ড। যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এছাড়া সবমিলিয়ে মোট ১১ জন অনভিষিক্ত খেলোয়াড় এবার জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। যা আইপিএলের কোনো আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বিদেশি ব্যাটসম্যানদের ছাড়িয়ে গেছেন ভারতীয়রা
এবারের আইপিএলে ব্যাটিংয়ে ওপেনিং থেকে সাত নম্বর পজিশন পর্যন্ত সিংহভাগ রান করেছেন ভারতীয়রাই। পরিসংখ্যান বলছে, এই সাত পজিশনে পুরো আসরে ৬০.৬২ শতাংশ রান এসেছে ভারতীয়দের ব্যাট থেকে। এর ২০১৮ সালের আসরে ৬২.০১ শতাংশ রান করেছিলেন ভারতীয়রা।

এছাড়া আইপিএলের এবারের আসরে সবমিলিয়ে ১৩টি ৮০+ রানের ব্যক্তিগত ইনিংসের দেখা মিলেছে। এর মধ্যে ১৫টিই করেছেন ভারতীয়রা। যা মোট ৮০+ রানের ইনিংসের ৭১.৪৩ শতাংশ। আইপিএলের যেকোনো আসরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ।

ভারতীয় পেসারদের টেক্কা দিয়েছেন বিদেশিরা
এবারের আইপিএলে সবমিলিয়ে ৪২৭টি উইকেট শিকার করেছেন পেসাররা। যার মধ্যে ২৪০টিই নিয়েছেন বিদেশি পেসাররা, বাকি ১৮৭টি গেছে ভারতীয়দের দখলে। অর্থাৎ পেসারদের মোট উইকেটের মধ্যে মাত্র ৪৩.৭৯ শতাংশ নিয়েছেন ভারতীয় পেসাররা। যা কি না আইপিএলের সব আসরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এছাড়া সবমিলিয়ে ২৫ বার ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন পেসাররা। যেখানে ভারতীয়রা নিয়েছেন ১২ বার, অন্য ১৩ বার গেছে বিদেশি পেসারদের নামে। এই ১২ বারের মধ্যে আবার ৮ বারই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ (৫) ও মোহাম্মদ শামি (৩)। এছাড়া একবার করে নিয়েছেন প্রাসিদ কৃষ্ণা, আরশদ্বীপ সিং, মোহাম্মদ সিরাজ ও সন্দ্বীপ শর্মা।

ডেথ ওভারে বেড়েছে রানের গতি
এবারের আসরে ডেথ অর্থাৎ শেষের চার ওভারে প্রথম ইনিংসের রানরেট ছিল ১১.২৩। যা কি না আইপিএলের যেকোনো আসরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছর শেষের চার ওভারে প্রথম ইনিংসে উঠেছিল ওভারপ্রতি ১১.০৬ রান। প্রথম ১২ মৌসুমে ডেথ ওভারে রান তোলার হার ছিল ১০.৩৩।

দুই ভাগে দুই রকম আইপিএল
সবশেষ চমকের দেখা মেলে, আইপিএলকে দুই ভাগে ভাগ করলে। টুর্নামেন্টের প্রথম ত্রিশ ম্যাচের মধ্যে আগে ব্যাট করা দল জিতেছে ২১টি, পরে ব্যাট করা দল ৭টি। টাই হয়েছে দুইটি ম্যাচ। কিন্তু পরের ত্রিশ ম্যাচের মধ্যে আগে ব্যাট করা দল জিতেছে মাত্র ৬টি, পরে ব্যাট করা দল জিতেছে ২২টি। এ ভাগেও টাই হয় দুইটি ম্যাচ।

প্রথম ত্রিশ ম্যাচে মোট ১১ বার দেখা মিলেছে ২০০'র বেশি দলীয় সংগ্রহের। কিন্তু পরের ত্রিশ ম্যাচে ২০০'র বেশি রান হয়েছে মাত্র ২ বার। প্রথম ত্রিশ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে গড় সংগ্রহ ১৮০ থাকলেও, দ্বিতীয় ইনিংসে সেটি কমে হয়েছে ১৫৮। প্রথম ত্রিশ ম্যাচে ডেথ ওভারের রানরেট ছিল ১২.১৭, পরের ত্রিশ ম্যাচে সেটি কমে হয়ে যায় ১০.২৯।

তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো

এসএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]