ফরহাদের খরুচে বোলিংয়ের পর মেহেদির জাদুকরী শেষ ওভার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০১ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে উদ্ধার করলেন শেখ মেহেদি হাসান। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও আশা জাগানোর পর তীরে এসে তরী ডোবালেন বেক্সিমকো ঢাকার মুক্তার আলি। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের সারসংক্ষেপ ঠিক এমনই। তবে এ দুজনের মাঝে তৃতীয় চরিত্র হিসেবে অবশ্যই আসবে ফরহাদ রেজার নাম।

শ্বাসরুদ্ধকর উদ্বোধনী ম্যাচে আগে ব্যাট করে করে রাজশাহী দাঁড় করিয়েছিল ১৬৯ রানের সংগ্রহ। যেখানে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ (৩২ বলে ৩ চার ও ৪ ছয়) রান করেন মেহেদি। ঢাকার পক্ষে বল হাতে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন মুক্তার। পরে ঢাকার ইনিংস থেমেছে ৭ উইকেটে ১৬৭ রানে, ব্যাট হাতে মুক্তার করেন ১৬ বলে ২৭ রান।

তবে বল হাতে মাত্র ২২ রান খরচায় ১ উইকেট নিয়েছেন মেহেদি। দলকে পাইয়ে দিয়েছেন ২ রানের রোমাঞ্চকর এক জয়। তিনিই নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়, পেয়েছেন নগদ ৫০ হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার। শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ৯ রান। মাত্র ৬ রান খরচ করেন ব্যাট হাতে ৩২ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলা মেহেদি।

অথচ রাজশাহীর জন্য ম্যাচটি এত কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। কেননা আকবর আলি ও মুশফিকুর রহীমের প্রতিরোধ ছাপিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে ঠিকই নিয়েছিল রাজশাহী। একপর্যায়ে ৩৬ বলে ৫১ রান করতে হতো ঢাকাকে। উইকেটে ছিলেন আকবর (২৯ বলে ৩৪) ও মুশফিক (৩৪ বলে ৪১)। দুজনকে ফেরানোসহ পরের চার ওভারে মত্র ২১ রান খরচ করে রাজশাহী। ফলে সমীকরণ হয়ে যায় ১২ বলে ৩০ রান।

তখন যেন খলনায়ক হওয়ার শখ (!) জাগে ফরহাদ রেজার। ম্যাচে তখন পর্যন্ত ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচ করেছিলেন তিনি। ফলে ১৯তম ওভারটি তার হাতে সঁপে দেন রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। কিন্তু অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি রেজা। তার করা ১৯তম ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকান মুক্তার আলি। ফুলটস, লেন্থ বল করে বাজে বোলিংয়ের সব দৃষ্টান্তই এ ওভারে দেখান ফরহাদ। সেই ওভার থেকে আসে ২১ রান।

যার ফলে সমীকরণ নেমে আসে ৬ বলে ৯ রানে। এমন অবস্থায় স্পিনার দেয়ার সাহস করেন শান্ত। তখনও পর্যন্ত ৩ ওভারে ১৬ রান খরচ করা মেহেদিকেই ডেকে নেন তিনি। আর এতেই হয় বাজিমাত। শেষ ওভারের প্রথম তিন বল ডট দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন মেহেদি। তবে চতুর্থ বলে চার মেরে দেন মুক্তার।

সমীকরণ যখন ২ বলে ৫ রান, তখন আবার পঞ্চম বলটি হয় নো। বেশ কিছুক্ষণ সময় ধরে রিপ্লে দেখে সেটিকে নো বল কল করেন থার্ড আম্পায়ার। ফলে সমীকরণ নেমে আসে ২ বলে ৪ রানে। কিন্তু এটি নিতে পারেননি আগের ওভারে তিন ছক্কা হাঁকানো মুক্তার। পঞ্চম বল ডট খেলার পর শেষ বলে ১ রান নেন তিনি। জাদুকরী শেষ ওভারে দলকে ২ রানে জেতান মেহেদি।

নিজের ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ২২ রান খরচ করেন তিনি, যেখানে ছিল ১৫টি ডট বল ও ইয়াসির আলির উইকেট। এর সঙ্গে আবার ব্যাট হাতে ফিফটির সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন এ তরুণ অলরাউন্ডার।

এসএএস/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]