খুলনার পেসারদের দাপটে বরিশাল থামল ১৫২ রানে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২০

শুরুটা করেছিলেন শফিউল ইসলাম, ইনিংসের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ দেখিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজকে। আর শেষটা রাঙিয়েছেন আরেক পেসার শহীদুল ইসলাম। ইনিংসের ১৯তম ওভারে চার বলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। পেসারদের দাপুটে বোলিংয়ে বড় হয়নি ফরচুন বরিশালের সংগ্রহ। তাদেরকে ১৫২ রানে আটকে দিয়েছে জেমকন খুলনা।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে দিয়েছে চার পেসার ও এক স্পিনারে সাজানো খুলনার বোলিং ডিপার্টমেন্ট। বোলাররা করেছে তাদের কাজ, এবার ম্যাচ জিততে ব্যাটসম্যানদের করতে হবে ১৫৩ রান।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই মেহেদি হাসান মিরাজের উইকেট হারায় বরিশাল। শফিউলের লেগস্টাম্প লাইনের ডেলিভারি লেগসাইডে ঠেলতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন মিরাজ, ফিরতি ক্যাচ লুফে নিয়ে তার বিদায়ঘণ্টা বাজান শফিউল। সেই যে শুরু হয় বরিশালের পতন, তা আর ঠেকাতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরা। তবে ভালো শুরু করেছিলেন বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান।

মিরাজ প্রথম বলে ফিরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বলেই উইকেটে আসেন পারভেজ হোসেন ইমন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন ইমন। অন্যপ্রান্তে সতর্ক সাবধানী ছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। যদিও বেশিদূর যেতে পারেননি বরিশাল অধিনায়ক। প্রথম পাওয়ার প্লে'র শেষ বলে মিডঅফে ইমরুলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ১৫ বলে ১৫ রান করা তামিম।

হতাশ করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। দীর্ঘ ৪০৯ দিন পরে ম্যাচে ফেরা সাকিব আল হাসানের লেগস্টাম্পের বাইরের এক ডেলিভারি সজোরে হাঁকিয়ে সীমানা ছাড়া করতে পারেননি আফিফ, ধরা পড়ে যান ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো জহুরুল অমির হাতে। আউট হওয়ার আগে ৩ বলে করেন ২ রান। আফিফ ফিরে গেলেও অপরপ্রান্তে অবিচল ছিলেন বিশ্বজয়ী যুবাদলের ওপেনার পারভেজ ইমন।

চতুর্থ উইকেটে পারভেজ ইমন ও তৌহিদ হৃদয় যোগ করেন ৩২ রান। দলীয় ৮১ রানের সময় সাজঘরে ফেরেন ইমন। যেখানে তার একার সংগ্রহই ছিল ৫১ রান; ৪১ বলের ইনিংসটিতে ২ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি এ ওপেনার। বরিশালের পরেরটুকু টেনে নেন তৌহিদ হৃদয়, মাহিদুল অঙ্কনরা। প্রেসিডেন্টস কাপের হিরো ইরফান শুক্কুর আউট হন ১১ বলে ১১ রান করে।

তবে মিনি ঝড় তোলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, তিন ছয়ের মারে ১০ বলে খেলেন ২১ রানের ক্যামিও ইনিংস। আরেকপ্রান্ত আগলে রাখা তৌহিদের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ২৭ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারে চার বলের ব্যবধানে আমিনুল বিপ্লব, তৌহিদ হৃদয় ও সুমন খানকে ফেরান শহীদুল। তখন মনে হচ্ছিল দেড়শও হবে না বরিশালের সংগ্রহ।

কিন্তু শেষ ওভারে ব্যাট হাতে চমক দেখান তাসকিন আহমেদ। একটি করে চার ও ছয় হাঁকিয়ে ৫ বলে করেন ১২ রান। যা বরিশালকে এনে দিয়েছে ১৫২ রানের লড়াকু সংগ্রহ।

খুলনার পক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন শহীদুল। এছাড়া ২টি করে উইকেট গেছে শফিউল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের ঝুলিতে। দীর্ঘদিন পর ফেরা সাকিব ৩ ওভারে ১৮ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট।

এসএএস/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]