উদ্বোধনী ম্যাচ টাই, সুপার ওভারে তুমুল উত্তেজনা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২০ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০২০

এক দল আগে ব্যাট করে দাঁড় করাল ২১৯ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ। সেটিকে মামুলি লক্ষ্যে পরিণত করে জয়ের পথে এগুচ্ছিল অন্য দল। শেষতক দ্বিতীয় দলও থামল ঠিক ২১৯ রানে, খেলা গড়াল সুপার ওভারে। যেখানে আগে ব্যাট করা দল করে ১৬ রান, পরে শেষ বলে জয়ের জন্য বাকি থাকে ৬ রান। এরপর?

এরপর শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে ব্যর্থ হন মূল ম্যাচে ৮৭ রানের ঝড় তোলা কুশল পেরেরা এবং প্রতিপক্ষ পায় সুপার ওভার জয়ের স্বাদ। এটুকুতেই পরিষ্কার ঠিক কতটা উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ছিল লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) ক্রিকেটের প্রথম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ।

বৃহস্পতিবার রাতে এলপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় কলম্বো কিংস ও ক্যান্ডি তাস্কার্স। যেখানে মূল ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে চার রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছে কলম্বো। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেও বোলারদের ম্লান পারফরম্যান্সে জয়ের দেখা পায়নি কুশল পেরেরার দল।

ম্যাচে আগে ব্যাট করে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান করেছিল ক্যান্ডি। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে কলম্বো থামে ৭ উইকেটে ২১৯ রান করে। পরে সুপার ওভারে ১৬ রান করে কলম্বো। যা তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ১২ রানের বেশি করতে পারেনি ক্যান্ডি। ফলে দুর্দান্ত এক জয় পায় কলম্বো।

ক্যান্ডির ছুড়ে দেয়া ২২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডানহাতি ওপেনার ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমালের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দারুণ সূচনা পায় কলম্বো। পাওয়ার প্লে'র ৬ ওভারেই তারা করে ফেলে ৬৫ রান। অপর ওপেনার লরি ইভানস ১৪ বলে ২২ রান করে আউট হয়ে যান।

তবে চান্দিমাল অটুট থাকেন লক্ষ্যপানে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে থিকসিলা ডি সিলভার সঙ্গে ৬৭ রান যোগ করেন চান্দিমাল। উদ্ভাবনী শট খেলতে গিয়ে ১৩তম ওভারে আউট হন চান্দিমাল। এর আগে ১২ চার ও ২ ছয়ের মারে ৪৬ বলে ৮০ রানের ঝড় তুলে যান তিনি। তিনে নামা থিকসিলা করেন ১৬ বলে ২২ রান।

তখনও মনে হচ্ছিল সহজেই জিতবে কলম্বো। কিন্তু অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ৫ বলে ২, আশান প্রিয়াঞ্জান ৭ বলে ৮ ও প্রত্যাশামাফিক খেলতে না পারা আন্দ্রে রাসেল ১৩ বলে ২৪ রান করে আউট হলে ম্যাচ ঝুঁকে যায় ক্যান্ডির দিকে। শেষের ৪ ওভারে কলম্বোর জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৪ বলে ৫৫ রান।

রাসেল যখন ফিরে যান তখন লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ১৯ বলে ৫৩। দুই বোলার ইসুরু উদানা ও কাইস আহমেদের জন্য এটি অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। কিন্তু কাইস ৮ বলে ১৫ ও ইসুরু উদানা ১২ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেলে শেষের ১৯ বলে করে ফেলে ৫২ রান। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

ম্যাচের ফল নির্ধারণী ছয় বলের লড়াইয়ে আগে ব্যাট করে আন্দ্রে রাসেলের সুবাদে ১৬ রান করে কলম্বো। এর জবাবে আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকালেও সবমিলিয়ে ১২ রানের বেশি করতে পারেনি ক্যান্ডি। ফলে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জয়ীর হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বো।

এর আগে মূল ম্যাচে ক্যান্ডিকে ২১৯ রানে পৌঁছানোর পুরো কৃতিত্বই দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও কুশল পেরেরার। বাঁহাতি কুশল ৯ চার ও ৪ ছয়ের ৫২ বলে খেলেন ৮৭ রানের ইনিংস। গুরবাজের ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ৪ ছয়ের মারে ২২ বলে ৫৩ রান। এ দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩৪ বলে ৭৫ রান।

ইনিংসের ১৩তম ওভারে দলীয় ১৩৪ রানের মাথায় ফেরেন অধিনায়ক কুশল। শেষের ৪৪ বলে আরও ৮৫ রান করে ক্যান্ডি। কুশল মেন্ডিস ২৪ বলে ৩০ ও আসিলা গুনারাত্নে ২০ বলে ৩৩ রান করে ক্যান্ডির সংগ্রহ ২১৯ রানে নিয়ে যান। যা পরে জয়ের জন্য যথেষ্ঠ হয়নি।

এসএএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]