লিটন-সৌম্যর ব্যাটে খুলনাকে উড়িয়ে দিল চট্টগ্রাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২০

আগের ম্যাচটিতে জয়ের জন্য মাত্র ১০ রান বাকি থাকতে সাজঘরে ফিরে যান লিটন দাস। ফলে ৮৯ রানের লক্ষ্যে ১০ উইকেটের জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের। আর এবার দ্বিতীয় ম্যাচে জয় থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে থাকতে আউট হলেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার, জেমকন খুলনাকে ৯ উইকেটে হারাল চট্টগ্রাম।

জয়ে ফেরার লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৮৬ রানে অলআউট হয়ে গেছে খুলনা। খুব সহজেই এ রান তাড়া করে ফেলেছে চট্টগ্রাম। সৌম্য ফিরে গেলেও অপরাজিত ফিফটি করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান লিটন। ম্যাচ জেতার পর্ব চট্টগ্রামের হাতে বাকি ছিল ৩৮টি বল। পরপর দুই ম্যাচে ৯ উইকেটের জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল।

রান তাড়া করতে নেমে কোনো ঝুঁকিই নেননি চট্টগ্রামের দুই ওপেনার লিটন ও সৌম্য। দলীয় ৭৩ রানের মাথায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ওভারে আউট হন ২৯ বলে ২৬ রান করা সৌম্য। তবে মুমিনুল হকের সঙ্গে ম্যাচ জিতেই মাঠ ছাড়েন লিটন। আসরের নিজের প্রথম ফিফটিতে ৪৬ বলে ৫৩ রান করেন লিটন, মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।

এর আগে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের তৃতীয় দিনের প্রথম ম্যাচটিতে টস জিতে খুলনাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত করেন নাহিদুল ইসলাম, তাইজুল ইসলামরা। তাদের স্পিনঘূর্ণির সঙ্গে মোস্তাফিজের অসাধারণ বোলিংয়ে ৮৬ রানেই থেমে গেছে খুলনার ইনিংস।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেক্সিমকো ঢাকাকেও ১০০ রান করতে দেয়নি চট্টগ্রাম। বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচটিতে তারা ঢাকাকে অলআউট করে ৮৮ রানে। বোলিংয়ের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার খুলনাকে তারা আটকে রাখল মাত্র ৮৬ রানে। টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিতে মাত্র ৮৭ রান করতে হবে চট্টগ্রামকে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় এক চমক দেয় খুলনা। আগের দুই ম্যাচে এনামুল হক বিজয় এবং ইমরুল কায়েস ওপেনিং নামলেও, এই ম্যাচে বিজয়ের সঙ্গে নেমে যান সাকিব আল হাসান। তবে এতে খুলনার ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি, ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে মুক্তি পায়নি তারা, ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি সাকিবও।

jagonews24

ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে ভুল বুঝাবুঝিতে রানআউট হন ৬ বলে ৬ রান করা বিজয়। তিন নম্বরে নামেন ইমরুল কায়েস। অপরপ্রান্তে দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করেন সাকিব। কিন্তু থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। আউট হয়ে যান ইনিংসের পঞ্চম ওভারে, করতে পারেন ৭ বলে মাত্র ৩ রান।

আগের দুই ম্যাচের মতোই বড় শট খেলতে গিয়ে নাহিদুল ইসলামের বোলিংয়ের মিড অন ও লং অনের মাঝামাঝি জায়গায় মোসাদ্দেক সৈকতের হাতে ধরা পড়েন সাকিব। তবে আউট হওয়ার আগেই ডোয়াইন ব্রাভো ও আন্দ্রে রাসেলের পর বিশ্বের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৫০০০ রান ও ৩০০ উইকেটের অনন্য ডাবল পূরণ করেন সাকিব।

চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে লেগ সাইডে আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে নিজের ইনিংসের তৃতীয় রানটি নেন সাকিব। আর এতে পূরণ হয়ে যায় তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৫ হাজার রান। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও বিশ্বের ৬৫তম ব্যাটসম্যান হিসেবে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে পাঁচ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছে যান তিনি। তার আগে বাংলাদেশের তামিম ইকবাল (৫৮৬৪) করেছেন ৫ হাজার রান।

সাকিব ফিরে যাওয়ার পর সে ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২ বলে১)। নাহিদুলের সোজা ডেলিভারি ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে লেগবিফোরের ফাঁদে ধরা পড়েন তিনি। এরপর আশা জাগান ইমরুল কায়েস। কিন্তু তিনি ফিরে যান ২৬ বলে ২১ রান, জহুরুল অমি আউট হন ১৪ বলে ১৪ রানের ইনিংস খেলে।

প্রথম দুই ম্যাচে খুলনার ত্রাতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন আরিফুল হক। এদিনও তিনি হাল ধরেছিলেন। কিন্তু পুরোপুরি সফল হননি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩০ বলে করতে পেরেছেন মাত্র ১৫ রান। ইনিংসের ১৮তম ওভারে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোস্তাফিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন আরিফুল। পরে আলআমিনের উইকেটও নেন মোস্তাফিজ।

চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় ২ উইকেট নেন নাহিদুল। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের ঝুলিতেও যায় ২টি উইকেট। তবে তাদের ছাড়িয়ে গেছেন মোস্তাফিজ, ৩.৪ ওভারের স্পেলে ডট বল করেন ১৭টি, মাত্র ৫ রান খরচায় নেন ৪টি উইকেট।

এসএএস/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]