ব্যাটসম্যানরা ‘জোরাজুরি বেশি করায়’ রান হচ্ছে না : লিটন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩০ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০

তর্কাতীতভাবে চলতি বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে এখনও পর্যন্ত সেরা ব্যাটসম্যান লিটন দাস। শুধু রানসংখ্যার বিবেচনায় নয়, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করছেন তিনি। উইকেটের আচরণ বুঝে চেষ্টা করছেন ইনিংস বড় করার। যার সুবাদে এখনও পর্যন্ত খেলা চার ম্যাচে পেয়েছেন জোড়া ফিফটির দেখা।

অন্য দুই ম্যাচেও খেলেছেন ত্রিশোর্ধ্ব রানের ইনিংস, করেছেন ৩৪ ও ৩৫ রান। আর ফিফটি করা দুই ম্যাচে তার সংগ্রহ ৫৩* ও ৭৮* রান। অর্থাৎ বড় ইনিংসের দেখা পেলে নিজের উইকেট হারাননি লিটন। সবমিলিয়ে চার ম্যাচে পাক্কা ১০০ গড় ও ১২৭.৩৮ স্ট্রাইকরেটে ২০০ রান করেছেন লিটন।

বুধবার রাতে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর বিপক্ষে ইনিংসের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত পুরোটা খেলেছেন লিটন। অপরাজিত ইনিংসে ৫৩ বলে করেছেন ৭৮ রান। যেখানে ছিল ৯ চারের সঙ্গে ১টি ছয়ের মার। অথচ পুরো ইনিংসে একটিবারের জন্যও মনে হয়নি বাড়তি কোন ঝুঁকি নিচ্ছেন তিনি কিংবা খেলছেন অতিরিক্ত জোর দিয়ে।

নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং করেই প্রতিপক্ষকে কোন সুযোগ না দিয়ে প্রায় দেড়শ স্ট্রাইকরেটে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন লিটন। যা দেখে জাতীয় দলের অগ্রজ সতীর্থ মুশফিকুর রহীম তাকে আখ্যা দিয়েছেন মিলিয়ন ডলার ম্যান হিসেবে। একইসঙ্গে আশা জানিয়েছেন জাতীয় দলের হয়েও লিটনের এই ফর্ম দেখার।

ফেসবুক পেজে মুশফিক লিখেছেন, ‘ওহ, আমার ভাই…কী দারুণ ইনিংস…মিলিয়ন ডলার ম্যান! তোমাকে দেখাটা অসাধারণ…এমন সামর্থ্য ও ক্লাসের কোনো ব্যাটসম্যান আর কখনও দেখিনি। আমি আশা করি ও সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন এই ফর্ম নিকট ভবিষ্যতে দেশের হয়েও বজায় থাকে।’

Liton-2

মুশফিকসহ আরও অনেকে যখন অভিভূত, তখন লিটন কী ভাবছেন নিজের ব্যাটিং নিয়ে? ম্যাচের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে জানিয়েছেন সেই কথা, ‘শেষ তিনটা ম্যাচ আমি বেশ ভালো ব্যাটিং করেছি। আমার ক্রিকেটে কিছুটা পরিবর্তন এনেছি আমি। আমার মনে হয়, এখানে পুরোপুরি সব নির্ভর মাইন্ড সেটআপের ওপর। যেহেতু শিশিরের কারণে বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছি, তাই আমি চেষ্টা করেছি ব্যালেন্স রেখে নিজের শটগুলো খেলার।’

যে উইকেটে ৫৩ বলে ৭৮ রান করলেন লিটন, সেই একই উইকেটে দিনের প্রথম ম্যাচে হয়েছে লো স্কোরিং ম্যাচ। মাত্র ১০৮ রান করে বরিশল। যা তাড়া করতে ১৮.৫ ওভার খেলতে হয়েছে ঢাকার। এ টুর্নামেন্টের সাধারণ চিত্র হয়ে গেছে এটি। লিটনের মতে, ব্যাটসম্যানরা বেশি বেশি চেষ্টা করায় ফল পাচ্ছে না। এর চেয়ে বরং স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার পরামর্শই দিয়েছেন লিটন।

তার ভাষ্য, ‘আমার কাছে মনে হয়, পুরো টুর্নামেন্টটা যদি দেখেন, পাওয়ার প্লে’তে খুব রান কম হচ্ছে এবং শুরুতেই উইকেট পড়ে যাচ্ছে। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে যে, হয়তো ব্যাটসম্যানরা জোরাজুরি একটু বেশি করছে। যেটা এখনও পর্যন্ত এ টুর্নামেন্টে আমি করিনি। আমি শুধু আমার বেসিক খেলেছি। বল দেখব এবং বল খেলব- এ জিনিসটাই আমার জন্য ভালো কোন ফল দিচ্ছে।’

লিটনের ৭৮ রানের ইনিংসে ভর করে আসরের সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল চট্টগ্রাম। জবাবে কম যায়নি রাজশাহীও। তরুণ ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমনের ফিফটির পর অন্যদের ছোট ছোট ক্যামিওতে জয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল রাজশাহী। শেষপর্যন্ত মাত্র ১ রানে ম্যাচ জেতে চট্টগ্রাম।

তাদের জয়ের নায়কের মতে এমন একটা ক্লোজ ম্যাচ দরকার ছিল, ‘আমরা তিনটা ম্যাচ আগেই জিতেছি। তবে আজকের (বুধবার) ম্যাচটার মতো পরিস্থিতিতে খেলার মধ্যে সবার সম্পৃক্ততা বেশি থাকে। এমন ম্যাচ জিততে পারলে বড় লক্ষ্যের দিকে এগুনো যায় আস্তে আস্তে। এই ম্যাচটা জিতে দলের সবার অনুভূতি ভালো, দলের পরিবেশও অনেক ভালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম তিনটা ম্যাচ আমরা খুব সহজেই জিতেছি, চাপ ছিল না। আজকের (বুধবার) ম্যাচটা খুব টাইট ছিল, আমরা প্রায় হেরেই যাচ্ছিলাম। সেখান থেকে জিতেছি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন একটা জয় খুব দরকার হয়। আমরা যে পারি, সেটা আজ বুঝতে পারলাম যে বোলিং করেও ডিফেন্ড করতে পারব। আজকের (বুধবার) ম্যাচের কথা বললে, আমি বলবো যে সৌম্য ভাই দারুণ ব্যাটিং করেছেন। শুরুতে সৌম্য ভাই অমন শুরুটা না করলে আমি হয়তো নিজের ফ্লো’তে যেতে পারতাম না এবং মোসাদ্দেক দারুণ শেষ করেছে।’

এসএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]