ইয়াসির-আকবরের ব্যাটে ঝড়, বড় সংগ্রহ পেল ঢাকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

ওপেনিংয়ে চমক দিয়েও কাজে লাগেনি সেটি, ভালো শুরুর পর ইনিংস বড় করতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও। যখনই মনে হচ্ছিল, আরও একবার অল্পেই আটকে যাবে বেক্সিমকো ঢাকার ইনিংস, তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভুত হলেন ইয়াসির আলি রাব্বি ও আকবর আলি। দুজন মিলে ঝড়ো ব্যাটিং করে ঢাকার সংগ্রহকে পৌঁছে দিলেন ১৭৫ রানে।

আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ করার পথে ঢাকার পক্ষে ফিফটি হাঁকিয়েছেন ইয়াসির, মাত্র ৫ রানের জন্য এ মাইলফলকে যেতে পারেননি আকবর। এ দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটির কল্যাণে শেষ ১০ ওভারে ১১১ রান তোলে ঢাকা। পরপর দুই ম্যাচ হারের পর জয়ের খোঁজে থাকা মিনিস্টার গ্রুপকে করতে হবে ১৭৬ রান।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে চমক দেখায় ঢাকা। বাঁহাতি নাইম শেখের সঙ্গে ইনিংস সূচনা করতে পাঠানো হয় অফস্পিনার নাঈম হাসানকে। তবে এই বাজি কাজে লাগেনি। ইনিংসের পঞ্চম বলেই মেহেদি হাসানের স্পিনে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন চার বলে ১ রান করা নাঈম হাসান। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। দ্বিতীয় ওভারেও তেমন সুবিধা করতে পারেনি ঢাকা। প্রথম দুই ওভারেই আসে ৩ রান করে।

তৃতীয় ওভারে হাত খুলে মারেন মুশফিক। মেহেদির করা সেই ওভারের চতুর্থ বলে হাঁকান বাউন্ডারি ও শেষ বলে মারেন ওভার বাউন্ডারি। মাঝে পঞ্চম বলে রিভার্স সুইপে পান আরও দুই রান। সেই ওভার থেকে আসে মোট ১৩ রান। কিন্তু এরপরও পাওয়ার প্লে'তে ৩২ রানের বেশি করতে পারেনি ঢাকা। কেননা একদমই ব্যাটে-বলে করতে পারছিলেন না বাঁহাতি ওপেনার নাইম শেখ।

পাওয়ার প্লে শেষে মুশফিকের রান যেখানে মুশফিকের সংগ্রহ ছিল ১৬ বলে ২১ রান, সেখানে নাইম সমানসংখ্যক বলে করেন মাত্র ৮ রান। পাওয়ার প্লের পরেও এটি পুষিয়ে নিতে পারেননি নাইম, আরাফাত সানির করা অষ্টম ওভারে কট বিহাইন্ড হওয়ার আগে ১৯ বলে করেন মাত্র ৯ রান। রান পাননি তানজিদ হাসান তামিমও। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর করা পরের ওভারে লেগ বিফোর উইকেট হন তানজিদ, করেন চার বলে ২ রান।

তানজিদ-নাইমরা হতাশ করলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকাটা সচল রেখেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। তার কল্যাণেই মূলত প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৪ রান করতে পারে ঢাকা। কিন্তু ১১তম ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ ধরেন মুশফিক। মুগ্ধর অফস্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারি কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে ধরা পড়েন। ঢাকার অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ১ ছয়ের মারে ২৯ বলে ৩৭ রান।

এরপর দারুণ জুটি গড়েন আগের ম্যাচের নায়ক ইয়াসির আলি রাব্বি ও তরুণ ব্যাটসম্যান আকবর আলি। দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটিতেই মূলত লড়াকু সংগ্রহ পেয়েছে ঢাকা। দুই প্রান্তে সমান তালেই ব্যাটিং করেছেন ইয়াসির ও আকবর। তবে ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ তুলে দিয়েও বেঁচে যান ইয়াসির, ডিপ মিড উইকেটে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন আনিসুল ইসলাম ইমন। এতে যেন নতুন শুরুর সাহসটাও পেয়ে যান ইয়াসির।

ক্যাচ ড্রপ হওয়ার পর খেলা ৭ বলে ২০ রান নিয়ে মাত্র ৩২ বলে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি তুলে নেন ইয়াসির। ব্যক্তিগত মাইলফলকে পৌঁছার পরও থামেননি। চালিয়ে খেলেছেন শেষপর্যন্ত। মুগ্ধর করা ১৮তম ওভারে তিন চারের সঙ্গে এক ছয়ের মারে হয় ২৩ রান, এবাদত হোসেনের করা পরের ওভারে আরও তিন চারের সঙ্গে দারুণ রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটের কল্যাণে ১৫ রান তুলে নেন ইয়াসির ও আকবর।

ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে এ দুজনের জুটি ভাঙেন ফরহাদ রেজা। নিখুঁত ইয়র্কারে সরাসরি বোল্ড হন ইয়াসির। আউট হওয়ার আগে ৯ চারের সঙ্গে ১ ছয়ের মারে ৩৯ বলে ৬৭ রান করেন তিনি। আকবরের সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিতে যোগ হয় ৫৫ বলে ঠিক ১০০ রান। চলতি টুর্নামেন্টে যেকোন উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড। এর আগে কোনও ম্যাচে শতরানের জুটি দেখা যায়নি।

ইয়াসির ফিরে যাওয়ার পর শেষ দুই বলে স্ট্রাইক পান আরেক সেট ব্যাটসম্যান। পঞ্চম বলে লংঅন দিয়ে বড় ছক্কা হাঁকানোর পর শেষ বলে নেন আরও ২ রান। শেষপর্যন্ত ২৩ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ের মারে ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন আকবর। ইয়াসির ও আকবরের এ ঝড়ো ব্যাটিংয়েই ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছে ঢাকা।

বল হাতে রাজশাহীর পক্ষে ২ উইকেট নিয়েছেন মুকিদুল মুগ্ধ। এছাড়া ফরহাদ রেজা, মেহেদি হাসান ও আরাফাত সানির শিকার ১টি করে উইকেট।

এসএএস/আইএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]