আইপিএল নিয়ে হতাশার কথা জানালেন গেইল

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২১

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অবিসংবাদিত রাজা তিনি। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সর্বোচ্চ, রান, সেঞ্চুরি, ছক্কা, চারসহ- প্রায় সব রেকর্ডই ক্যারিবীয় দানব ক্রিস গেইলের দখলে। নিজেই নিজেকে ডাকেন ‘ইউনিভার্স বস’ নামে। যা তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই অর্জন করে নিয়েছেন।

গেইল কম যান না ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটেও। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বিদেশিদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান, সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি এবং সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড তারই দখলে। ২০১৯ সালের আইপিএলেও চল্লিশের বেশি গড়ে করেছিলেন পাঁচশর কাছাকাছি রান, হাঁকিয়েছিলেন ৩৪টি ছক্কা।

কিন্তু সবশেষ আইপিএলে তাকে সে অর্থে মূল্যায়নই করেনি কিংস এলেভেন পাঞ্জাব। ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে আরব আমিরাতে হওয়া আইপিএলের আসরে প্রথম সাত ম্যাচ গেইলকে মাঠেই নামায়নি পাঞ্জাব। মাঝে ফুড পয়জনিংয়ের কারণে কয়েক ম্যাচ খেলার জন্য ফিট ছিলেন না তিনি। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পরেও কয়েক ম্যাচ বসিয়ে রাখা হয় গেইলকেও।

শেষমেশ অষ্টম ম্যাচে গিয়ে সুযোগ পান গেইল, প্রথম ম্যাচেই হাঁকান ফিফটি। এরপর আসরের বাকি ছয় ম্যাচেও গেইলকে দলে নিয়ে পাঞ্জাব। কিন্তু ওপেনিং করায়নি, গেইলকে খেলতে হয়েছে তিন নম্বরে। সেখানে ব্যাট করেই ৭ ম্যাচে ১৩৭ স্ট্রাইকরেট ও ৪১.১৪ গড়ে করেছেন ২৮৮ রান, ছিল ২৩টি ছক্কার মার।

টুর্নামেন্টের প্রথম দিকে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে তখন কিছু বলেননি গেইল। তবে প্রায় মাস তিনেক পর মুখ খুলেছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নিজের হতাশার কথা। যদিও দলের প্রয়োজনে সবকিছু মেনে নেয়ার কথাও বলেছেন ইউনিভার্স বস।

গেইল বলেন, ‘ক্রিকেটে বিষয়গুলো এমনই। যেখানে আপনি জানেন যে, অভিজ্ঞতা অবশ্যই কাজে লাগবে। আমি আইপিএল সম্পর্কে গবেষণা করিনি এবং প্রথম সাতটি ম্যাচ খেলতে পারিনি। অনেক খেলোয়াড় এসব বিষয় নিয়ে হতাশ হয়ে যায়। তবে আমি আমার সাপোর্টিং রোল ঠিক রেখেছি এবং দলকে জানিয়েছি, যখনই তাদের আমাকে প্রয়োজন হবে, আমি প্রস্তুত থাকব।’

রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুতে সাত বছর কাটিয়ে ২০১৮ সালের আসরে পাঞ্জাবে নাম লিখিয়েছিলেন গেইল। ব্যাঙ্গালুরু তাকে আবার দলে নেয়ার কথা জানালেও, কখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি। পরে পাঞ্জাবে নাম লিখিয়ে ২০১৮ সালে ৩৬৮ এবং ২০১৯ সালে করেন ৪৯০ রান। তবু এবারের আসরে শুরুর ম্যাচগুলোতে একাদশে নেয়া হয়নি। এতে হতাশা ঘিরে ধরেছিল গেইলকেও।

তার ভাষ্য, ‘আমিও খানিক হতাশ ছিলাম কারণ আইপিএলের শুরুর ম্যাচগুলো খেলতে পারিনি। যখন খেলার কথা ছিল, তখন আবার অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আমি প্রথম ম্যাচ খেলার আগে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। তবে শেষমেশ নিজের অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে পেরেছি। আইপিএলের সবই আমার জানা, কারণ প্রথম আসর থেকেই খেলছি। তবু একটা জিনিস প্রমাণের ছিল যে, ইউনিভার্স বস এখনও ফুরিয়ে যায়নি। আমিই সেরাদের সেরা। তাই তারাই এটা শিখতে পারে যে ভুল কার ছিল, আমার নয়।’

এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]