ব্যাটসম্যানরা কেন ব্যর্থ, ব্যাখ্যা দিলেন মাহমুদউল্লাহ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

বিকেএসপিতে খেলা মানেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি। রানের নহর বয়ে যাওয়া। ঢাকার প্রিমিয়ার লিগে যে মাঠে ৩০০ রান ওঠে অহরহ, সেই মাঠেই কিনা জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা আজ ধুঁকলেন!

৩০০ বহুদূরে, ২৫০‘ও হয়নি। মানা গেল, খেলাটি ৫০ ওভারের নয়, ৪০ ওভারের। তাই বলে ২০০ রানও হবে না? সেঞ্চুরির দেখা না মিলুক, দুই দলের অন্তত দুজন করে ৪ জন হাফসেঞ্চুরি করতে পারবেন না? এমন ব্যাটিং স্বর্গে তা কী করে হয়?

বাস্তবতা হলো, সেটাই হয়েছে আজ। বিকেএসপিতে জাতীয় দলের প্রথম গা গরমের ম্যাচে তামিম ইকবাল বাহিনী অলআউট হয়েছে মাত্র ১৬১ রানে। সেই রান তাড়া করতে গিয়েও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনীর লেগেছে প্রায় ৩৭ ওভার। হারিয়েছে ৫ উইকেট।

দুই দলের ১১ + ৭ = ১৮ ব্যাটসম্যানের মধ্যে মাত্র একজন ফিফটি করতে পেরেছেন। তিনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর রিয়াদ বাহিনীর ওপেনার নাইম শেখের ব্যাট থেকে এসেছে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৪৩ রান। বাকিরা ত্রিশের ঘরেও যেতে পারেননি। তামিম ২৮, লিটন দাস ২, সৌম্য সরকার ২৪, নাজমুল হাসান শান্ত ২৭, মোহাম্মদ মিঠুন ১৬-কেউই নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। বিজয়ী দলের মুশফিকুর রহীম অপরাজিত থাকেন ২৮ রানে।

কেন এই অবস্থা? ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে রান নেই কেন? ক্রিকেট সমর্থকদের মনে এমন প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক। কিন্তু কারো কৌতুহলী প্রশ্নেরই সন্তোষজনক জবাব দেয়া সম্ভব না। কারণ বাইরের দর্শক ও মিডিয়া কর্মীরা এ ম্যাচ সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাননি। করোনায় ক্রিকেটাররা আছেন জৈব সুরক্ষা বলয়ে, তাই ওই বায়ো-বাবলের বাইরে থাকা কারো এ প্র্যাকটিস ম্যাচে হাজির হওয়ার অনুমতি ছিল না।

স্কোরার আব্দুর রউফই ছিলেন ভরসা। তার কাছে মুঠোফোনে স্কোর জানতে হয়েছে। তবে তিনি তো আর রান কেন ওঠেনি সেই ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। অবশেষে সেই ব্যাখ্যা পাওয়া গেল বিজয়ী দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছে। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে যিনি ছিলেন স্বপ্রতিভ।

ম্যাচের একমাত্র হাফসেঞ্চুরিয়ান (৬৪ বলে ৫১) রিয়াদের অনুভব, তার দলের বোলাররা বিশেষ করে পেসাররা বেশ ভালো বোলিং করেছেন। তাই তামিম বাহিনীর ব্যাটসম্যানরা প্রাধান্য বিস্তার করে খেলতে পারেননি। রিয়াদের কথা, ‘আমার মনে হয় বোলাররা ভালো বল করেছে, দুই দলেরই।’

রিয়াদের ধারণা, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কুয়াশা ও শিশির ভেজা উইকেটই খানিকটা সহায়তা করেছে পেস বোলারদের। মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘সম্ভবত শুরুর দিকে উইকেটে কিছুটা মুভমেন্ট ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বেটার হয়েছে উইকেট। কিন্তু সর্বোপরি ভালো অনুশীলন হয়েছে।’

প্রতিপক্ষ দলে তামিম, লিটন, শান্ত, সৌম্য ও মিঠুনের মত নামি ব্যাটসম্যানরাও হালে পানি পাননি। দুই তরুণ দ্রুতগতির বোলার হাসান মাহমুদ (২১ রানে ৪ উইকেট) আর শরিফুল ইসলাম (২/২৭), সঙ্গে সিনিয়র আল আমিন (২/৩২)-ত্রয়ীর আক্রমণে প্রতিষ্ঠিত উইলোবাজদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

তামিম বাহিনীর একজনও চল্লিশের ঘরে পা রাখতে পারেননি। সর্বাধিক ৩৫ রান এসেছে আফিফ হোসেন ধ্রুব‘র ব্যাট থেকে। তবু প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের ছোট করছেন না মাহমুদউল্লাহ।

তার ব্যাখ্যা, ‘যেটা বললাম, শুরুতে উইকেটে মুভমেন্ট ছিল। নতুন বলে আমাদের বোলাররা ভালো জায়গায় বল করেছে। প্রথমদিকে আমরা কিছু উইকেট তুলে নিয়েছি। এ জন্যই তারা কিছুটা চাপে ছিল। কিন্তু ওভারঅল দুই দলের বোলাররাই ভালো বল করেছে। আমি মনে করি দিনটা বোলারদেরই ছিল।’

এমন বোলারদের দিনেও নিজ ব্যাটিং পারফরম্যান্সে তুষ্ট মাহমুদউল্লাহ। মুখে চওড়া হাসি নিয়ে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ব্যাটিংয়ে আমার একটা ভালো সময় কেটেছে।’

বল হাতে ৩১ রানে উইকেট না পাওয়া সাকিব ব্যাট হাতেও ৯ রানে হন রানআউটের শিকার। সাকিবের এমন আউটকে দুর্ভাগ্যই মনে করছেন রিয়াদ। সতীর্থকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘সাকিবের রানআউটটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়ে গেছে। ননস্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটসম্যানের গায়ে লেগে বলটা বোলারের কাছে চলে গেছে। নরমালি থাকলে হয়তো এটা সহজ রান হতো।’

এআরবি/এমএমআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]