ছক্কা না খাওয়ার পণ করে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং মিরাজের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশের বোলারদের সামনে অসহায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরপর দুই ম্যাচে অলআউট হয়ে গেছে দেড়শ রানের নিচে। বুধবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্রথমবার মাঠে নামা সাকিব আল হাসান। আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিবের জায়গাটি নিলেন অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। তারও শিকার ৪টি উইকেট।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম ব্রেকথ্রুটা এনে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ১০ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর অভিষিক্ত জর্ন ওটলেকে নিয়ে প্রতিরোধের আভাস দেন জশুয়া ডা সিলভা। দুজন মিলে যোগ করেন ২৬ রান। তবে স্পিন আসতেই ভাঙে জশুয়া-ওটলের প্রতিরোধ। এক ওভারেই দুজনকে ফেরান মেহেদি মিরাজ।

দশম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে নিজের তৃতীয় ওভারে জোড়া সাফল্যের দেখা পান অফস্পিনার মিরাজ। ইনিংসের ১৪তম ওভারের প্রথম বলে শর্ট মিডঅফে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ৪৪ বলে ২৪ রান করা অভিষিক্ত ওটলে। একই ওভারের চতুর্থ বলে ভুল লাইনে ডিফেন্ড করে সোজা বোল্ড হয়ে যান জশুয়া, তার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ৫ রান।

প্রথম স্পেলে করা ৭ ওভারে ১৪ রান খরচায় এ ২ উইকেটই নেন মিরাজ। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে প্রথম ওভারেই চতুর্থ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ২ রান করা রেয়মন রেইফারকে। আম্পায়ার আউট দেননি সেটি, রিভিউ নিয়ে উইকেট পায় বাংলাদেশ। সেই স্পেলে দুই ওভার করানোর আবার তাকে থামান অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

দশম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রভম্যান পাওয়েল ও আকিল হোসেন। বিশেষ করে রভম্যান পাল্টা আক্রমণে দলকে দেড়শ রানের কাছে নিয়ে যান রভম্যান। নিজের শেষ ওভার করতে এসে রভম্যানের উইকেটও নেন মিরাজ, শেষ করে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। এগিয়ে এসে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান ৬৬ বলে ৪১ রান করা পাওয়েল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ১৪৮ রানে।

সবমিলিয়ে ৯.৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন মিরাজ। ওয়ানডেতে এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ২৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। আজ একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিলেন ২৫ রানে। ইনিংস বিরতিতে তিনি জানিয়েছেন, মূলতঃ ছক্কা না খাওয়ার পরিকল্পনাতেই বোলিং করেছেন আজ। তাতেই মিলেছে সাফল্য।

মিরাজ বলেছেন, ‘আমি অনেক খুশি। কারণ প্রথম ম্যাচে ভালো জায়গায় বোলিং করতে পারিনি। পরে সাকিব ভাইয়ের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছি, স্পিন কোচ (সোহেল ইসলাম) কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। আমি দেখেছি রভম্যান এগিয়ে আসছে, উইকেটরক্ষক (মুশফিকুর রহীম), অধিনায়ক (তামিম ইকবাল) ও সাকিব ভাইও আমাকে বলেছিলেন, সে (রভম্যান) এগিয়ে আসবে। আমার পরিকল্পনা ছিল ছক্কা হজম করা যাবে না।’

এসএএস/আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]