সবকিছু আমার পছন্দমতো হবে, এমন নয় : সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে তিন নম্বরে নেমে ৮ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটি, অন্য ম্যাচেও ৪১ রানের ইনিংস। সবমিলিয়ে ৮৬.৫৭ গড়ে আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬০৬ রান। এছাড়া পুরো ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিন নম্বরে খেলা ২৩ ইনিংসে ৫৮.৮৫ গড়ে ১১৭৭ রান। এ হলো একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডাউন তথা তিন নম্বর পজিশনে সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং পরিসংখ্যান। যাতে পরিষ্কার, তিন নম্বরে কতটা সফল তিনি।

অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সদ্যসমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজটি শুরুর আগে জানিয়ে দেয়া হয়, এবার তিনে সাকিব নন, ব্যাটিং করবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর থেকেই চলছে নানান আলোচনা। ফর্মের তুঙ্গে, পুরোপুরি সফল একজন ব্যাটসম্যানকে তিন নম্বর পজিশন থেকে সরিয়ে দিয়ে ঠিক করছে কি না বাংলাদেশ, তা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড়।

সেসব আলোচনা সতেজ রেখেই শেষ হয়ে গেল ওয়ানডে সিরিজ। সাকিবের জায়গায় তিন নম্বরে খেলে পুরোপুরি ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন ইনিংসে তার রান যথাক্রমে ১, ১৭ ও ২০। অন্যদিকে চারে নেমেও সফল দীর্ঘদিন পর ক্রিকেটে ফেরা সাকিব। তিন ম্যাচে ৫৬.৫০ গড়ে করেছেন ১১৩ রান। যেখানে ছিল একটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। যা থেকে বোঝা যায়, ব্যাটিং পজিশন খুব একটা প্রভাব ফেলে না সাকিবের পারফরম্যান্সে।

তবু সাকিব নিজে কী ভাবেন ব্যাটিং পজিশন নিয়ে? তিনি কি তিন নম্বরে খেলতেই বেশি পছন্দ করতেন? সোমবার সিরিজের শেষ ম্যাচের পর ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘আমি সবসময়ই বলেছি যে, সবকিছু যে আমার পছন্দমত হতে হবে, সেটা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের প্রয়োজনে কোন কাজটা আমি করতে পারি। সেটা করতে পেরে আমি খুশি।’

আইসিসির নিষেধাজ্ঞা ও করোনাকালীন সতর্কতা, সবমিলিয়ে প্রায় ১৭ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন সাকিব। তবে এ লম্বা বিরতিতেও পারফরম্যান্সে একদমই ভাটা পড়েনি তার। নিজের প্রত্যাবর্তন সিরিজে জিতেছেন সিরিজসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। মূলত প্রথম ম্যাচের পরই ভালো করার আত্মবিশ্বাসটা পেয়ে গেছেন, এমনটাই জানিয়েছেন সাকিব।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিপটে বোলিংয়ে ১.০৯ ইকোনমি রেটে মাত্র ৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। পুরো সিরিজে সবমিলিয়ে ১১৩ রানের সঙ্গে শিকার করেছেন ৬ উইকেট। নিজের এমন প্রত্যাবর্তনা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমি সবসময়ই জানতাম যে, কিছু ম্যাচ টাইম দরকার আমার। ঠিক তাই হয়েছে। প্রথম ম্যাচের পর আমার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসটা পেয়ে যাই। সিরিজ যত এগিয়েছে, আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।’

সবমিলিয়ে নিজের পারফরম্যান্সে বেজায় খুশি সাকিব। তবে আজ (সোমবার) শেষ ম্যাচে পাওয়া কুঁচকির চোটের কারণে খানিক হতাশও। চোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমাকে সবার আগে দেখতে হবে সকালে ওঠার পর কেমন অনুভূত হয়। এ মুহূর্তে কুঁচকির অবস্থা ভালো নয়। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব।’

এসএএস/এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]