সাকিবের পরামর্শও কাজে লাগলো না মুমিনুল-মিরাজের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

উইকেট পড়ছে না। রানের চাকা দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। অধিনায়ক মুমিনুল খুবই চিন্তিত। চিন্তিত দেখা যাচ্ছে মুশফিক, তামিম এবং মাঠের বাইরে ছাতার নিচে বসে থাকা সাকিব আল হাসানও। মুশফিক-তামিমরা এসে পরামর্শ দিচ্ছেন মুমিনুলকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক মুমিনুলকে একবার, এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে ডেকে বেশ কিছু পরামর্শ দিতেও দেখো গেলো সাকিব আল হাসানকে।

মিরাজকে যখন সাকিব কিছু পরামর্শ দেন, এর কিছুক্ষণ পরই তাকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন মুমিনুল হক। চার ওভার বল করলেনও তিনি। কিন্তু নিজের ক্যারিশমা কিংবা সাকিবের বুদ্ধি- কোনোটাই কাজে লাগাতে পারলেন না মিরাজ। কাইল মায়ারসের জন্য কোনো বিপদের কারণই ঘটাতে পারলেন না। মুমিনুলও পারলেন না কোনোভাবে মায়ারসের উইকেট ফেলতে।

চা পানের বিরতির সময় সাকিবকে মাঠে নেমে আসতেও দেখা গিয়েছিল। মাঠকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করতে দেখা যায় তাকে। সে সময় কী পরামর্শ কিংবা কী কথা বলেছিলেন, সেটা হয়তো জানা যায়নি। কিন্তু তিনি যে সারাক্ষণই উদ্বিগ্ন ছিলেন, সেটা তার এসব কর্মকাণ্ড দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

বাম ঊরুর ইনজুরিতে পড়ে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন থেকেই মাঠের বাইরে সাকিব আল হাসান। বাকি তিনদিন বারবার খুঁজে নিয়েছে বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডারকে। সবার আশা ছিল একটাই, যদি নামতে পারেন সাকিব। ব্যাটিংয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে তার অভাব অনুভূত হতে দেননি মুমিনুল হক, লিটন দাসরা। তবে বোলিংয়ে হাড়ে হাড়ে তার অভাব টের পেয়েছে বাংলাদেশ।

মাঠে নামতে না পারলেও, বাইরে বসে মুমিনুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজদের ঠিকই পরামর্শ দিচ্ছেন সাকিব। চেষ্টা করছেন নিজের ক্রিকেট জ্ঞান ও বুদ্ধি সতীর্থদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। যা কাজে লাগিয়ে শেষদিনের শেষ সেশনে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। ভক্ত-সমর্থকরা যখন বারবার খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন সাকিবকে, তখনই টিভি ক্যামেরায় দেখা যায় তিনি কথা বলছেন মিরাজ-মুমিনুলদের সঙ্গে।

jagonews24

চা পানের বিরতির পর রেকর্ড চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙাসহ ছয় ওভারের মধ্যে দুই উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। তৃতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই আঘাত হেনেছেন তাইজুল ইসলাম, ফিরিয়ে দিয়েছেন ৮৬ রান করা এনক্রুমাহ বোনারকে। কয়েক ওভার পর জার্মেইন ব্ল্যাকউডকে আউট করেন নাঈম হাসান। তাদের স্পেলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

তৃতীয় সেশনের শুরুতে মিরাজকে বোলিংয়ে আনেননি মুমিনুল। টানা ১৪ ওভার জুটি বেঁধে বোলিং করেন নাঈম ও তাইজুল। ইনিংসের ১১০তম ওভারে দেখা যায় বাউন্ডারির বাইরে সাকিবের সঙ্গে কথা বলছেন মিরাজ। এরপরই মাঠে ঢোকেন তিনি এবং ১১২তম ওভারে শেষ সেশনের প্রথমবারের মতো বল হাতে তুলে নেন। এখনও পর্যন্ত যদিও সাফল্য পাননি। তবে তার ওভার থেকে খুব বেশি রানও পাচ্ছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তাইজুল ইসলামের করা শেষ সেশনের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকান সেঞ্চুরির কাছাকাছি থাকা এনক্রুমাহ বোনার। কিন্তু পরের বলেই তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। সাজঘরে ফিরে যান ২৪৫ বলে ৮৬ রান করা বোনার। তার বিদায়ে ভাঙে মায়ারস-বোনারের ২১৬ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি।

উইকেটে আসেন প্রথম ইনিংসের হাফসেঞ্চুরিয়ান জার্মেইন ব্ল্যাকউড। তখন ম্যাচ জেতার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩২ ওভারে ১২০ রান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণে যান ব্ল্যাকউড। কিন্তু পারেননি বেশিক্ষণ খেলতে। ব্ল্যাকউড এক ছক্কা হাঁকানোর পর তার বিদায়ঘণ্টা বাজান নাঈম। উইকেট ছেড়ে এগিয়ে এসে বড় শট মারতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান ৯ রান করা ব্ল্যাকউড।

এসএএস/আইএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]