মিরাজের উড়ন্ত ক্যাচে সাজঘরে কিউই অধিনায়ক (ভিডিও)

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৫ এএম, ২৬ মার্চ ২০২১

রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদের আগুনে বোলিংয়ে উড়ন্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ। মাত্র ৫৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন ডেভন কনওয়ে এবং টম লাথাম। এ জুটি ভাঙতে যেমন বিশেষ কিছুর প্রয়োজন ছিল, তাই উপহার দিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

নিয়মিত বোলাররা উইকেট নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সৌম্য সরকারকে আক্রমণে আনেন তামিম। তার প্রথম বলে আউট হন লাথাম। পয়েন্ট অঞ্চলে অসামান্য দক্ষতায় লাফিয়ে ক্যাচ ধরেন মিরাজ। ফলে ভাঙে ৬৩ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। সাজঘরে ফেরেন ১৮ রান করা লাথাম।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২৮ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৩৮ রান। পঞ্চাশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কনওয়ে (৫০ বলে ৪৯)। সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ২২ বলে ৮ রান করা ড্যারেল মিচেল।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সহজেই রান তুলতে থাকেন দুই ওপেনার হেনরি নিকলস ও মার্টিন গাপটিল। তাসকিন আহমেদ বেশ কিছু ভালো ডেলিভারি করলেও রানের চাকা আটকাতে পারেননি। যার ফলে প্রথম ছয় ওভার থেকে ৩৩ রান করে ফেলে নিউজিল্যান্ড।

সপ্তম ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিং আক্রমণে পরিবর্তন আনেন তামিম ইকবাল, বল তুলে দেন রুবেল হোসেনের হাতে। আর এতেই আসে সাফল্য। রুবেল ও তাসকিনের গতিময় বোলিংয়ের সামনে রীতিমতো খাবি খেতে শুরু করেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। রুবেলের প্রথম ওভারে আসে ৭ রান।

তবে এর পরের ওভারেই তাসকিন দেখান তার জাদু। দ্বিতীয় বলে এগিয়ে মারতে গিয়ে আউটসাইড এজ হন নিকলস। কিন্তু সেটি নিজের গ্লাভসে রাখতে পারেননি মুশফিক। উল্টো বল চলে যায় বাউন্ডারিতে। জীবন পাওয়ার সঙ্গে বোনাস চারটি রানও যোগ হয় নিকলসের নামের পাশে।

অবশ্য সৌভাগ্যে ভর করে বেশি দূর যেতে পারেননি বাঁহাতি নিকলস। সে ওভারের চতুর্থ বলে আবারও বাইরের কিনারায় লাগে বল। এবার চলে যায় গালি অঞ্চলে। যেখানে কোনো ভুল করেননি লিটন। তার নিরাপদ হাতে ধরা দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ১৮ রান করা নিকলস।

তাসকিন উইকেটের খাতা খোলার পরের ওভারে আরেক ওপেনার গাপটিলকে ফেরান রুবেল। তার হালকা লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে পুল শটের চেষ্টা করেন গাপটিল। কিন্তু টাইমিংয়ে হয় গড়বড়, বল চলে যায় মিডঅফে। যেখানে প্রস্তুত ছিলেন লিটন। আবারও ক্যাচ নিয়ে ফেরান ২৬ রান করা গাপটিলকে।

দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর আসে এক ওভার বিরতি। দশ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৫১ রান। এগারতম ওভারের চতুর্থ বলে শর্ট মিডঅনে দাঁড়ানো মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ রস টেলর। কিন্তু অতি দ্রুত আসায় সেটি ধরতে পারেননি মোস্তাফিজ।

জীবন পেয়ে ঠিক পরের বলেই চার মেরে দেন টেলর। অবশ্য এতে সমস্যা হয়নি। ওভারের শেষ বলটিতে টেলরকে উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচে পরিণত করেন রুবেল। এবার আর ভুল করেননি মুশফিক। তার হাতে ধরা দিয়ে সাজঘরে ফেরেন নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতম ব্যাটসম্যান।

এরপর আবার দ্বিতীয় ম্যাচের মতো বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ান টম লাথাম ও ডেভন কনওয়ে। দুজন মিলে স্বাচ্ছন্দ্যে রান তুলতে থাকেন। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের করা ১৯তম ওভারে পরপর তিন চারসহ মোট ১৪ রান তুলে নেন কনওয়ে। পরের ওভারে চার মেরে ২০ ওভারেই পূরণ করেন দলীয় শতক।

নিয়মিত বোলারদের দিয়ে জুটি ভাঙতে না পারায় ইনিংসের ২৪তম ওভারে পার্টটাইমার সৌম্য সরকারের দ্বারস্থ হন তামিম, সাফল্য পান হাতে নাতে। বল হাতে নিয়ে নিজের প্রথম বলেই মূল্যবান ব্রেকথ্রু দেন সৌম্য। এতে অবশ্য বড় অবদান গালিতে দাঁড়ান ফিল্ডার মেহেদি মিরাজের।

সৌম্যর অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলটি ড্রাইভ করেছিলেন কিউই অধিনায়ক লাথাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ব্যাট ঘুরে যাওয়ায় বল চলে যায় গালি অঞ্চলে। সেখানে নিজের বাম দিকে বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি তালুবন্দী করেন মিরাজ। ফলে বিদায়ঘণ্টা বাজে ৩৩ বলে ১৮ রান করা আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লাথামের।

এসএএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]